বফর্স তদন্তে অন্তর্ঘাতের দাবি প্রাক্তন সিবিআই কর্তার

247

নয়াদিল্লি: বফর্স ঘুষকাণ্ডের তদন্তে যে অন্তর্ঘাত হয়েছিল তা একেবারেই সরাসরি দাবি করে বসলেন সিবিআইয়ের প্রাক্তন প্রধান আর কে রাঘবন।আর কংগ্রেস তথা কেন্দ্রীয় সরকারে তাদের শাসনকালের দিকেই প্রত্যক্ষ আঙুল তুললেন সিবিআইয়ের প্রাক্তন প্রধান। তিনি বলেন, ‘সেই সরকার ছিল এমন একটি দলের, যাদের জনতার কাছ থেকে লুকোনোর মতো অনেক কিছু আছে।’ আর নিজের আত্মজীবনী ‘আ রোড ওয়েল ট্রাভেলড’-এ রাঘবন এমনই মন্তব্য করেছেন।

জানা গিয়েছে, ১৯৯৯ সালের ৪ জানুয়ারি থেকে ২০০১ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত সিবিআইয়ের ডিরেক্টর থাকাকালীন বফর্স কাণ্ডের তদন্ত করেছিলেন তিনি। রাঘবনের মতে, একটি অভ্রান্ত মামলায় সরকারি অন্তর্ঘাতের উদাহরণ হল বফর্স কাণ্ড। ১৯৮৬ সালে সুইডিশ অস্ত্র নির্মাতা সংস্থা বফর্সের থেকে হাউইৎজ়ার কামান কেনার চুক্তির সময়ে কংগ্রেসের নেতা এবং আমলাদের ওই বিদেশি সংস্থাটি প্রায় ৬৪ কোটি টাকা ঘুষ দিয়েছিল বলে অভিযোগ।

- Advertisement -

রাঘবনের মতে, ঘুষকাণ্ড প্রকাশ্যে আসার পরে জনরোষের চাপেই ১৯৮৮ সালে রাজীব গাঁধী সরকার সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিতে বাধ্য হয়, সে প্রচ্ছন্ন উদ্দেশ্য যতই ‘অপারেশন হোয়াইটওয়াশ’ হোক না কেন। কিন্তু মামলায় যে শেষ পর্যন্ত কোনও লাভ হল না, তার জন্য ‘নয়ের দশক এবং ২০০৪ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত সিবিআইয়ের নিয়ন্ত্রকদের’ দায়ী করেছেন রাঘবন।

সিবিআই তদন্তের গতি বাড়াতে পারত বলে মেনে নিয়েও রাঘবনের অভিযোগ, ‘সিবিআই যখন ওত্তাভিয়ো কুত্রোচ্চিকে গ্রেপ্তারের প্রস্তুতি নিচ্ছিল, তখনই সরকারের এক বর্ষীয়ান সদস্য তাঁকে খবর দিয়ে দেন বলে মনে করা হয়। কুত্রোচ্চি দেশ ছেড়ে পালান।’
এরপর কংগ্রেসের দিকে আঙুল তুলেও রাঘবন লিখেছেন, ‘টাকার কিছুটা অংশ কংগ্রেসের জন্যও ছিল, এটা সম্ভব। কিন্তু তা নিশ্চিতভাবে বলা শক্ত।’

প্রসঙ্গত, নয়ের দশকের গোড়ায় ছিল পি ভি নরসিংহ রাওয়ের সরকার। ২০০৪ থেকে ২০১৪ সালে ছিল মনমোহন সিংহের সরকার।