ফুটবলে সাইনি, রিয়াদের স্বপ্ন দেখাচ্ছেন বহুরণ

85

বিদেশ বসু, মালবাজার : মাল মহকুমার সীমান্তবর্তী এলাকা মীনগ্লাস চা বাগান। পাশেই কালিম্পং জেলার ভুট্টাবাড়ি বনাঞ্চল। মাঝখানে একটুকরো সবুজ মাঠ। এখানেই স্বপ্ন বাসা বাঁধছে। ভোরের আলো ফুটলে একে অপরকে ড্রিবলিং এর ফাঁদে ফেলে গোল করার কলাকৌশল রপ্ত করতে ব্যস্ত থাকে সাইনি মুন্ডা, রিয়া ওরাওঁরা। চা-বাগানের কিশোরীদের ওপর সর্বদা সজাগ নজর রেখে চলেন বছর ৬০-এর বহুরণ চিকবড়াইক। একসময় গোলকিপার হিসেবে দাপিয়ে বেড়িয়েছেন ডুয়ার্স, পাহাড়ের ফুটবল ময়দান। চা বাগানে কর্মরত ছিলেন। অবসরগ্রহণের আগে নিজের উদ্যোগেই শুরু করেন ফুটবল প্রশিক্ষণ দেওয়া। করোনা পর্বের লকডাউন এবং নানা কারণে পাহাড়ে সমস্যা তৈরি হয়। নিজেও লক্ষ্য করেন, চা-বাগানের কিশোর-কিশোরীরাও হতাশ হয়ে পড়ছে। তাদের লক্ষ্য ঠিক করতেই নিজেই উদ্যোগী হয়ে সকলকে মাঠে নিয়ে আসেন। এখন নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও নিবিড়ভাবেই চলছে প্রশিক্ষণ। এখান থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে কয়েকজন তরুণী পুলিশ বিভাগের সিভিক ভলান্টিয়ারের দায়িত্বও পেয়েছেন। কোচ বহুরণকে ঘিরেই এখন স্বপ্ন আবর্তিত  হচ্ছে এলাকায়।

মাল ব্লকের মীনগ্লাস চা বাগানের সীমান্তবর্তী এলাকা ভাদিয়া লাইন। এই লাইনের পরেই কালিম্পং জেলার গরুবাথান ব্লক শুরু। এখানেই থাকেন বহুরণ চিকবড়াইক। ১৯৮২ থেকে ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত এ তল্লাটে নাম করা গোলকিপার ছিলেন। বছর দুয়েক আগে বাগানের সুপারভাইজার পদ থেকে অবসর নিয়েছেন। ২০১৭ সালে বাগানের কিশোর-কিশোরীদের ফুটবল প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেন। যে মাঠে তিনি প্রশিক্ষণ দেন, সেটা ভুট্টাবাড়ি বনাঞ্চল ঘেঁষা। এই মাঠ নিয়ে যে আবেগ কম নয় তাঁর। বহুরণ নিজেই বলছিলেন, এক সময়ে এখান দিয়ে বড় নালা তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। আমরাই তা রুখে দিয়েছিলাম। আমরা বলেছিলাম মাঠ চাই। নিজেরাই কোদাল চালিয়ে মাটি সমান করে এবং ঝোপঝাড় পরিষ্কার করে তিলে তিলে গড়ে তুলেছি এই মাঠ। সে বহুবছর আগের কথা। ভুলব কী করে। তাঁর সংযোজন, এখন আমার অবসর। কিন্তু খেলার থেকে তো অবসর নেই। তাই কিশোর-কিশোরীদের গড়ে তুলতে চেষ্টা করছি। আমাদের এখান থেকে উঠে আসা মহিলা খেলোয়াড়দের বেশ কয়েকজন মাল থানাতে সিভিক ভলান্টিয়ার হিসেবে কর্মরত।

- Advertisement -

চা বাগানের সাইনি মুন্ডা, রিয়া ওরাওঁ, নিশা বড়াইকদের মতো কিশোরীরাও এখন স্বতঃস্ফূর্তভাবে খেলাধুলোয় অংশ নিচ্ছে। রিয়ার কথায়, আমরা সকালবেলায় খেলাধুলো করতে চলে আসি। ফুটবল খেলে ভালো লাগে। আমরা বড় খেলোয়াড় হতে চাই। এখন স্কুল খুলল। খুব সকালেই ফুটবল খেলি। বাড়িতে ফিরি। তারপর স্কুলে যাই।

বহুরণের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন রাজ্যের মন্ত্রী বুলু চিকবড়াইক। তাঁরা দুজনেই খেলোয়াড় জীবনে একসঙ্গে খেলেওছেন। এদিন মন্ত্রী বলেন, আমি বহুরণের উদ্যোগের কথা শুনেছি। আমি তাঁর সঙ্গে সরাসরি কথা বলব। আমাদের পক্ষ থেকে গ্রহণীয় যাবতীয় পদক্ষেপই করব।