শিলিগুড়ি, ৭ সেপ্টেম্বর : পুজোর আগে জমজমাট শিলিগুড়ির বিধান মার্কেটে হ্যান্ড গ্রেনেড আকারের একটি বস্তু উদ্ধারের ঘটনায় আতঙ্ক ছড়ায়। শনিবার রাতে মার্কেটের রাধাগোবিন্দ মন্দির থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বে এই ঘটনায় শহরজুড়ে হইচই পড়ে যায়। শনিবারের কেনাবেচা শিকেয় ওঠে। হুড়মুড় করে দোকান বন্ধ করে দেন ব্যবসায়ীরা। মার্কেট ছেড়ে দ্রুত সরে যেতে থাকেন ক্রেতারা। খবর পেয়ে সিআইডি-র বম্ব ডিস্পোজাল ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। হ্যান্ড গ্রেনেড আকৃতির ওই ছোট বস্তুটি সন্দেহজনক হওয়ায় তারা সেটি অন্যত্র নিয়ে যায়। সিআইডি সূত্রে খবর, রবিবার ভোরে শিলিগুড়ির তিনবাত্তি মোড়ে সহকারী পুলিশ কমিশনার পূর্ব (২)-এ দপ্তরের কাছে ফাঁকা জায়গায় ওই বস্তুটি নিষ্ক্রিয় করা হবে। শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিশের ডেপুটি পুলিশ কমিশনার জোন (১) ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় বলেন,ঠিক কী ছিল, তা জানতে সময় লাগবে। আপাতত সেটিকে সুরক্ষিত জায়গায় নিযে যাওযা হয়েছে। মার্কেট এলাকায় এমন একটা জিনিস ফেলে রাখা যায় না। জিনিসটি আদতে কী ছিল তা রবিবার জানা যাবে।

শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা নাগাদ বিধান মার্কেটের রাধাগোবিন্দ মন্দির সংলগ্ন একটি বন্ধ দোকানের শাটারের কাছে হ্যান্ড গ্রেনেড আকৃতির ছোট একটি বস্তু পড়ে থাকতে দেখা যায়। স্থানীয় এক ব্যবসায়ী সেটি দেখে বাকিদের জানান। বিধান মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির কর্তারা বিষয়টি জানার পরেই পানিট্যাঙ্কি ফাঁড়িতে খবর দেন। খবর পেযে পানিট্যাঙ্কি ফাঁড়ির ওসি সমীর তামাং ও পুলিশকর্মীরা ঘটনাস্থলে  আসেন। তাঁরা জিনিসটি দেখে মেট্রোপলিটন পুলিশের বম্ব ডিস্পোজাল স্কোয়াডকে ডেকে পাঠান। খবর পেয়ে শিলিগুড়ি থানার আইসি চলে আসেন। বম্ব ডিসপোজাল স্কোয়াডের কর্মীরা ঘটনাস্থলে আসেন। মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে তাঁরা ওই বস্তুটিকে পরীক্ষা করে জানান, ধাতব বস্তুটিতে বিস্ফোরক থাকতে পারে। স্নিফার ডগ দিযে পরীক্ষার পরেও পুলিশ সন্তুষ্ট না হওযায় ডাক পড়ে সিআইডির। সাড়ে সাতটা নাগাদ ফোন করা হলেও ঘণ্টাখানেক বাদে সিআইডি-র বম্ব ডিস্পোজাল ইউনিট ঘটনাস্থলে আসে।

এদিকে বিস্ফোরক থাকার ইঙ্গিত পেযে আগে থেকেই আশেপাশের এলাকার দোকানপাট বন্ধ করে দেওয়া হয়। ঘটনাস্থল থেকে প্রায় একশ মিটার এলাকা খালি করে দেওযা হয়। দড়ি দিয়ে ঘিরে দেওযা হয় গোটা এলাকা। ততক্ষণে আতঙ্কিত সাধারণ লোকজন কেনাকাটা ভুলে মার্কেট এলাকা ছাড়তে শুরু করেন।

বম্ব ডিস্পোজাল ইউনিটের আধিকারিকরা এসে প্রথমে ওই বস্তুর চারপাশে বালির বস্তা দিয়ে ঘিরে দেন। এরপর জল ভরতি বালতি নিযে আসা হয়। ওই বস্তুটি বালতিতে তোলার আগে অত্যাধুনিক বম্ব স্যুট পরে নেন তাঁরা। এরপর অত্যন্ত সাবধানে ওই বস্তুটি বালতিতে নিয়ে গাড়িতে তোলা হয়। পাইলট ভ্যান দিয়ে গাড়িটি সোজা নিয়ে যাওযা হয় তিনবাত্তির সহকারী পুলিশ কমিশনার পূর্ব (২)-এর অফিসের কাছে ফাঁকা জায়গায়।

সন্দেহজনক বস্তু এলাকা থেকে তুলে নিয়ে যাওযার পর হাঁফ ছাড়েন ব্যবসায়ীরা। পুজোর ঠিক আগেই বিধান মার্কেটের মতো জনবহুল জায়গায় এই ধরনের ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। এর জেরে এদিন ব্যবসারও ব্যাপক ক্ষতি হয়।

শহরে একের পর এক দুষ্কৃতী কার্যকলাপের জেরে নিরাপত্তা নিযে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। গত কয়েক দিনে শহরে ডাকাতি, চুরি, ছিনতাই, কেপমারি, এটিএম তুলে নিয়ে যাওযার চেষ্টার পর বোমাতঙ্কের জেরে পুলিশি নজরদারি নিযে প্রশ্ন উঠছে। মার্কেটের ব্যবসাযী সমীর দাস বলেন, বিধান মার্কেটর মতো এলাকায় এভাবে বোমার মতো বস্তু পাওযা যাচ্ছে, তা ভাবা যায় না। এমন চললে পুজোর আগে ব্যবসায় প্রচুর ক্ষতি হবে। আজই প্রচুর মানুষ বোমার কথা শুনেই মার্কেট থেকে চলে গিয়েছে। তৃণমূল কাউন্সিলর নান্টু পাল বলেন, ঘটনার খবর পেযে এলাকায় গিয়েছিলাম। খুবই উদ্বেগজনক ঘটনা। আশা করি পুলিশ কর্তারা গোটা বিষয়ে নজর রাখবেন।