ফের জালালপুরে শতাধিক তাজা বোমা উদ্ধার

295

সামসী: ফের চাঁচলের জালালপুরের বিভিন্ন এলাকা থেকে শতাধিক তাজা বোমা উদ্ধার করল চাঁচল থানার পুলিশ। শুক্রবার চাঁচলের এসডিপিও শুভেন্দু মন্ডল ও চাঁচল থানার আইসি সুকুমার ঘোষ জালালপুর এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী নিয়ে গিয়ে বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে শতাধিক তাজা বোমা উদ্ধার করেছেন।

চাঁচল থানার আইসি সুকুমার ঘোষ বলেন, ‘এদিন জালালপুরের বিভিন্ন সরিষা খেত ও বাঁশ ঝাড় থেকে মোট ১১ ড্রাম অর্থাৎ এক এক ড্রামে কমপক্ষে ১০টি করে সবমিলিয়ে শতাধিক তাজা বোমা উদ্ধার করা হয়েছে। খুব শীঘ্রই বোম স্কোয়াড বাহিনী নিয়ে এসে উদ্ধার হওয়া বোমাগুলি নিষ্ক্রিয় করা হবে।’

- Advertisement -

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার সরিষা খেতে বোমা বিস্ফোরনে এক যুবতী জখম হয়েছিল। পাশাপাশি ওইদিন ১০ ড্রাম অর্থাৎ ৫০ টির মতো তাজা বোমা উদ্ধার করেছিল পুলিশ। পর পর দুদিন তাজা বোমা উদ্ধার ঘিরে আতঙ্ক ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়। বোমা বিস্ফোরণ ও বোমা উদ্ধার ঘিরে যাতে জালালপুর এলাকায় কোনো উত্তেজনা না ছড়ায় তার জন্য এলাকায় বিশাল পুলিশি টহল রয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার সরিষা খেতে বোমার ঘায়ে জখম যুবতীর নাম বেরাফুল খাতুন (২২)। তাঁর বাড়ি জালালপুর দক্ষিণ পাড়ায়। ওইদিন ঠিক সকাল দশটা নাগাদ বেরাফুল বাড়ির পাশে মাঠে সরষে ক্ষেতে শাক তুলতে যায়। সরিষার জমিতে আগে থেকে বোমা মজুত ছিল। শাক তোলার সময় বেরাফুলের পায়ে লেগে বোমা সঙ্গে সঙ্গে বিস্ফোরিত হয়। অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচে গেলেও মারাত্মক জখম হয়েছে বেরাফুল।

অভিযোগ উঠেছিল, এলাকায় বোমা মজুতসহ বোমা বিস্ফোরণের জন্য শাসকদলের চাঁচল-২ ব্লক সভাপতি হবিবুর রহমান মুখিয়ার লোকজন দায়ী।যদিও হবিবুর রহমান মুখিয়া নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, তিনি কখনও হিংসার রাজনীতি করেন না। শান্তির রাজনীতিতে বিশ্বাসী। তবে কারা রাতে বোমা বিস্ফোরণ ও এলাকায় মজুত রেখেছিল তা পুলিশ তদন্ত করুক। তাহলেই পরিষ্কার হয়ে যাবে কারা জড়িত।

চাঁচলের জালালপুরে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় বিরোধীরা শাসকদলকেই দায়ী করেছেন। বিজেপির জেলা সম্পাদক দীপংকর রাম বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় জন্য শাসকদলকে সরাসরি দায়ী করেন। তিনি বলেন, ‘বোমাবাজি শাসকদলের কালচার।শাসকদল পুনরায় বোমাবাজি করে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে জনগণের ভোট লুট করার জন্য আগাম প্রস্তুতি নিচ্ছেন।তা কিন্তু এবার আমরা হতে দেব না।’

কংগ্রেসের চাঁচল-২ ব্লক সভাপতি সৈয়দ মানজারুল ইসলাম বলেন,‘শান্ত এলাকাকে অশান্ত করার জন্য শাসকদলের লোকজন বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটিয়েছে। গত পঞ্চায়েত ভোটে শাসকদল বোমাবাজি করে জনগণের ভোট লুট করেছিল। সামনে বিধানসভা ভোট। তাই আবারও জনগণের ভোট লুট ও বুথ দখল করার জন্য আগাম বোমা মজুত করছে। পুলিশকে বিষয়টি দেখা উচিত।’

সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য জামিল ফিরদৌস জালালপুরের বোমাবাজির ঘটনার চরম নিন্দে করে জানান, বোমাবাজি, খুনোখুনি এসব বন্ধ হওয়া উচিত।তিনিও এই ঘটনার জন্য শাসকদলকেই দায়ী করেছেন।