গলসির শিকারপুরের বালিঘাটে বোমাবাজি

519

বর্ধমান: টাকা রফা নিয়ে ফের সংঘর্ষ ও বোমাবাজি ঘিরে উত্তপ্ত হল পূর্ব বর্ধমানের গলসির শিকারপুরের বালিঘাট। সংঘর্ষে বালিঘাটের এক কর্মী গুরুতর আহত হওয়া ছাড়াও বেশ কয়েকজন জখম হয়েছেন। খবর পেয়ে গলসি থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। শুরু হয়েছে পুলিশী ধরপাকড়।

প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে খবর, গলসির শিকারপুরের সোঁদাঘাটে  বালি তোলার অনুমতি পায় স্থানীয় একটি সংস্থা। খাদান চালু হওয়ার পর নদির জায়গা নিয়ে বিবাদ বাঁধে। অভিযোগ মাঝের মানা লাগোয়া জায়গায় বালি কাটার জন্য মাসিক কয়েক লক্ষ টাকা দাবী করেন সেখানকার গ্রামবাসীদের একাংশ। তাতে বেকায়দায় পড়ে গিয়ে কয়েকদিন আগে সেখানকার মৌজার বালি ঘাটের জায়গা পরিমাপ করেন ঘাটমালিক। তারপর তিনি ঘাটের আনুসাঙ্গিক কাজ শুরু করেন। তাতেও বিবাদের নিষ্পত্তি ঘটে না। এদিন গ্রামবাসীদের সঙ্গে ঘাট মালিক কর্তৃপক্ষের মিমাংসা চলাকালীন হঠাৎই  দুইপক্ষের মধ্যে বচসা বেঁধে যায়। তার পরেই ঘাটে শুরু হয়ে যায় হাতাহাতি ও বোমাবাজি। একই সঙ্গে চলে বালি ঘাটের যন্ত্রাংশে ভাংচুর। বেধড়ক মারধর করা হয় ঘাটের কর্মী সব্যসাচী পালকে। মারামারি ছাড়াতে গিয়ে জখম হন স্থানীয় তৃণমূল কর্মী অরুপ সেন। বালি ঘাটে কর্মরত বেশ কয়েকজন শ্রমিককেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। পাল্টা হামালায় বেশ কয়েকজন গ্রামবাসীও আহত হন। খবর পেয়ে গলসি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। জখমদের উদ্ধার করে পাঠানো হয় হাসপাতালে। এই ঘটনা বিষয়ে ঘাট মালিক ওমর ফারুক ও গলসির শাসক দলের নেতৃত্ব যদিও মুখে কুলুপ এঁটেছেন। তবে গলসি নিবাসী জেলা বিজেপি নেতা জয়দীপ চট্টোপাধ্যায় দাবি করেছেন, শিকারপুরের বালি ঘাট থেকে আদায় করা টাকার ভাগ বাঁটোয়ারা কি হবে তা নিয়েই এদিন তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে মারপিট ও বোমাবাজির ঘটনা ঘটেছে। অথচ উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে কেউ কেউ ঘটনার সঙ্গে বিজেপির নাম জড়িয়ে দিয়ে বিজেপিকে কালিমালিপ্ত করতে চাইছে। তবে তাতে কিছু লাভ হবে না।

- Advertisement -