ভোজ নয়, শিক্ষিকার বিয়েতে বই বিতরণ-রক্তদান-চারা বিলি

316

কলকাতা: কে বলল বিয়ে মানেই বিপুল কেনাকাটা, আর এলাহি খাওয়াদাওয়া? বিযে উপলক্ষ্যে সমাজের জন্য কিছু কাজ করে দৃষ্টান্ত তৈরি করা যেতে পারে। সেই পথে হাঁটলেন নদিয়া জেলার ধুবুলিয়ার বাসিন্দা শিক্ষিকা নূরজাহান খাতুন। পূর্ব মেদিনীপুরের এক উচ্চমাধ্যমিক স্কুলের এই শিক্ষিকা বিয়ে আগের দিন স্বেচ্ছা রক্তদান শিবিরের আয়োজন করেছিলেন। বই বিতরণ করেছেন ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে। মঙ্গলবার তাঁর বিয়ে হল। এদিন তাঁর পরিবারের তরফে বহু মানুষের হাতে তুলে দেওয়া হল গাছের চারা। শিক্ষাই আলো জ্বেলে দূর করে যাবতীয় নেতিবাচকতা। শুধু ক্লাসের পড়াশোনা নয়, প্রকৃত শিক্ষা মানুষকে নিয়ে যায় উত্তরণের পথে।

ছোটবেলা থেকে এই লক্ষ্যকে ধ্যানজ্ঞান করেছিলেন নূরজাহান। স্কুলে দর্শন পড়ান তিনি। শুধু বিষয় হিসেবে দর্শনে সীমাবদ্ধ না থেকে জীবন দর্শনের পাঠে সমৃদ্ধ ২৮ বছরের এই তরুণী তাঁর বাবা রুস্তম আলি শেখকে মনের ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন। সবটাই অক্ষরে অক্ষরে পালিত হয়েছে। তাঁর বর মুর্শিদাবাদের অবিদুর রহমানও পেশায় শিক্ষক। শিক্ষক মানে সমাজের কারিগর। মা ও বাবার পর শিশুর ভবিষ্যৎ গঠনে তাঁদের ভূমিকা অনস্বীকার্য।

- Advertisement -

নূরজাহান বলেন, শুনেছিলাম, ব্লাড ব্যাংকে রক্ত নেই। রক্তের জরুরি প্রয়োজনে মানুষ কী করবে? তাই রক্তদানের এই ক্ষুদ্র আয়োজন। আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব মিলিয়ে সোমবার ৩২ জন স্বেচ্ছায রক্ত দিয়েছেন। রক্তদানের পর বই বিতরণ করা হয়েছেন। আবিদুর রহমান জানিয়েছেন, মঙ্গলবার বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর গাছের চারা বিতরণ করা হবে। কৃষ্ণনগরের বিডিও অরিন্দম বিশ্বাস নূরজাহানের মহৎ ইচ্ছার প্রশংসায় পঞ্চমুখ। বই বিতরণের অনুষ্ঠান মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন তিনি। বিয়ে আনন্দে মশগুল মেয়ো সাধারণত মেতে ওঠেন কেনাকাটায়। প্রসাধনী, অলংকার, শাড়ির সম্ভারের সঙ্গে বিয়ে লেটেস্ট ফ্যাশনের খোঁজে নেমে পড়েন তন্বীরা। একবিংশ শতকে স্বচ্ছল পরিবারে এটা অস্বাভাবিক বলেও মনে করেন না অনেকে। কিন্তু সময়টা যে মহামারির কব্জায়। রক্তের অভাবে কত মানুষ চিকিৎসা পাচ্ছেন না। করোনা সংক্রামিতরাও এই তালিকায় আছেন। সেসমস্ত ভেবে প্রকৃত রাস্তাটি দেখিয়ে দিলেন নূরজাহান।