জলপাইগুড়ি জেলার সার্ধ শতবর্ষ নিয়ে ইংরেজিতে লেখা গ্রন্থের উন্মোচন ফালাকাটা কলেজে

223

সুভাষ বর্মন, ফালাকাটা: জলপাইগুড়ি জেলা সার্ধ শতবর্ষ নিয়ে লেখা একটি ইংরেজি ভাষায় গবেষণামূলক গ্রন্থের প্রকাশ করা হল ফালাকাটা কলেজে। শুক্রবার ওই গ্রন্থের উন্মোচন করেন কোচবিহার পঞ্চানন বর্মা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ডঃ দেবকুমার মুখোপাধ্যায়। নতুন এই গ্রন্থের নাম হল ‘সেসকুইসেনটেনিয়াল কোমেমোরেশন ভলিউম অফ জলপাইগুড়ি ডিস্ট্রিক্ট(১৮৭৯-২০১৯)(Sesquicentennial Commemoration Volume of Jalpaiguri District)।

এই গ্রন্থে জলপাইগুড়ি জেলার দেড়শো বছরের রাজনৈতিক, আর্থ-সামাজিক, স্বাধীনতা সংগ্রাম, নানা জনজাতির ইতিহাসের উত্থান-পতন নিয়ে মোট ৩০টি প্রবন্ধ লিখেছেন বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজের অধ্যাপক ও স্কুল শিক্ষকরা। গ্রন্থটি সম্পাদনা করেছেন ডঃ আনন্দ গোপাল ঘোষ, ডঃ নীলাংশু শেখর দাস, ডঃ নির্মল চন্দ্র রায় ও ডঃ কার্তিক চন্দ্র সূত্রধর।

- Advertisement -

জলপাইগুড়ি জেলার সার্ধ শতবর্ষ নিয়ে ইংরেজিতে লেখা গ্রন্থের উন্মোচন ফালাকাটা কলেজে| Uttarbanga Sambad | Latest Bengali News | বাংলা সংবাদ, বাংলা খবর | Live Breaking News North Bengal | COVID-19 Latest Report From Northbengal West Bengal India

 

এদিন ফালাকাটা কলেজের সেমিনার কক্ষে এই গ্রন্থ উন্মোচন অনুষ্ঠানে উপাচার্য, চার সম্পাদক ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কোচবিহার পঞ্চানন বর্মা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা বিভাগের ডিন ডঃ মাধব চন্দ্র অধিকারী, বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক তথা ইন্ডিয়ান টি অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক রামঅবতার শর্মা, ফালাকাটা কলেজ পরিচালন সমিতির সভাপতি সুরেশ লালা, কলেজ অধ্যক্ষ ডঃ হীরেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য সহ অন্যান্য অধ্যাপক ও ছাত্র-ছাত্রীরা। গ্রন্থ সম্পাদনার দায়িত্বে থাকা অধ্যাপক ডঃ কার্তিক সূত্রধর বলেন, ‘অ্যাকাডেমিক স্তরের লেখা নিয়ে এই গ্রন্থটি রচনা করা হয়। ১৮৬৯ থেকে ২০১৯ সালেই জলপাইগুড়ি জেলার দেড়শো বছর পূর্ণ হয়। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারণে এই গ্রন্থটি প্রকাশ করতে দেরি হয়েছে। সবদিক থেকেই এই বইটি পথ প্রদর্শকের কাজ করবে।’ উপাচার্য দেবকুমারবাবু গ্রন্থের সম্পাদক ও লেখকদের সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, ‘আমাদের অঞ্চলের স্থানীয় ইতিহাসের সংরক্ষণ ও চর্চা করা খুব প্রয়োজন। এই স্থানীয় ইতিহাসের অনেকাংশই মুখে মুখে রয়ে গিয়েছে। আর এই গ্রন্থটি লেখা হয়েছে আগামীদিনের গবেষণার জন্য। তাই এই বইটিকে অ্যাকাডেমিক রিসার্চের ফাউন্ডার বলা যেতে পারে।’

সূত্রের খবর, এই অঞ্চল তথা উত্তরবঙ্গের ইতিহাস চর্চায় সবথেকে বেশি অবদান রয়েছে উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের প্রাক্তন অধ্যাপক আনন্দ গোপাল ঘোষের। তাই উপাচার্য বলেন, ‘আনন্দ স্যারের নেতৃত্বেই এই অঞ্চলে স্থানীয় ইতিহাস চর্চায় জোয়ার এসেছে।’ অনুষ্ঠানে নব প্রকাশিত এই গ্রন্থের বাংলায় অনুবাদের দাবি তোলেন ফালাকাটা কলেজের অধ্যক্ষ। শেষে আনন্দ গোপাল ঘোষ বলেন, ‘আমরা এই গ্রন্থের বাংলা সংস্করণ করার চেষ্টা করব। ফালাকাটা একটি ঐতিহাসিক স্থান। ব্রিটিশ আমলে ফালাকাটা মহকুমা ছিল। সেজন্যই গ্রন্থের প্রকাশের জন্য ফালাকাটা কলেজকে বেছে নেওয়া হয়।’