মাঠে বসেই আইপিএলে বেটিং চালিয়েছে বুকিরা!

মুম্বই : বায়ো-বাবল ভেঙে পড়া। করোনা আক্রান্ত একের পর ক্রিকেটার। সবশেষে অনির্দিষ্ট সময়ে জন্য লিগ স্থগিত। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের যে হতাশা ও লজ্জাটা আরও বাড়িয়ে দিল বেটিংয়ের মারাত্মক অভিয়োগ। স্থগিত হয়ে যাওয়া আইপিএলেও ক্রিকেট-বুকিরা কোটি কোটি টাকার বেটিং করেছে। আর তা করেছে বায়ো-বাবল, নিরাপত্তাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে দর্শকহীন স্টেডিয়ামে বসেই!

কোভিড প্রোটোকল মেনে আইপিএলের ম্যাচগুলি ক্লোজড ডোর হয়েছে। দর্শকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা ছিল না। এতকিছুর পরও আটকানো যায়নি বুকিদের! বিসিসিআইয়ের তৈরি বজ্র আঁটুনি ফসকা গেরো ভেদ করে বিশেষ ফোন-অ্যাপের মাধ্যমে মাঠ থেকেই একাধিক ম্যাচে বেটিং চালিয়েছে বুকিরা। আর এই বেটিং দুর্নিতির সঙ্গে যুক্ত ছিল স্টেডিয়ামের সাফাই কর্মীরাই! সাফাইকর্মীদের অর্থের টোপ দিয়ে বেটিং হয়েছে।

- Advertisement -

২ মে রাজস্থান রয়্যালস-সানরাইজার্স হায়দরাবাদ ম্যাচের সময় যা করতে গিয়ে দিল্লি পুলিশের হাত গ্রেফতার হয় ওই দুজন। অপর একটি ম্যাচেও বামাল সমেত ধরা পড়ে যান একজন। আধারকার্ড ও ফোন বাজেয়াপ্ত করলেও, অভিযুক্ত আধিকারিকদের নাগাল এড়িয়ে পালিয়ে যায়। বোর্ডের দুর্নীতি দমন শাখার প্রধান সাব্বির হুসেন শেখকদাম খান্ডেলওয়াল এদিন বলেন, স্টেডিয়ামের দুই সাফাইকর্মী গতিবিধি দেখে সন্দেহ হয় দুর্নীতি দমন শাখার আধিকারিকদের। দুজনের হাতেই ছিল অত্যাধুনিক মোবাইল। সারাক্ষণ ফোনে কথা বলছিল। দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করতেই সন্দেহ সঠিক প্রমাণিত হয়। ওদের আধারকার্ড ও মোবাইল বাজেয়াপ্ত করে দিল্লি পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

সাব্বির হুসেনের মতে, গ্রেফতার হওয়া দুজন ছোটো মাছ। রাঘববোয়ালরা এখন নাগালের বাইরে। আরও বলেন, দিল্লি পুলিশও অনেক ধরে বুকিদের এই দলটাকে খুঁজে বেড়াচ্ছিল। তবে গ্রেফতার হওয়া দুই ব্যক্তি বেটিং চক্রের ছোটো মাছ। স্টেডিয়াম থেকে মূল পাণ্ডাদের খবর পাঠাচ্ছিল। বিনিময়ে হয়তো কয়েক হাজার টাকা পেত। রাঘববোয়ালদের খুঁজে বের করার জন্য তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

বেটিংয়ে ধরণেও ছিল অভিনবত্ব। বল প্রতি বেটিং হয়েছে। মাঠে দর্শক প্রবেশ নিষেধ হওয়ার সুয়োগটাই এবার নিয়েছে বুকিরা। মাঠের লাইভ ক্রিকেট আর টিভি সম্প্রচারের মধ্যে ৩০-৪০ সেকেন্ডের তফাৎ থাকে। এই এই ৩০-৪০ সেকেন্ড সময়টাকে কাজে লাগিয়ে দ্রুততার সঙ্গে বেটিং চলে। দুজন ক্লিনারের কাজ ছিল, প্রতিটি বলে কী ঘটছে, তা জানিয়ে দেওয়া। ফোন-অ্যাপের মাধ্যমে যে তথ্য কাজে লাগিয়ে বল পিছু বেটিংয়ে কোটি কোটি টাকা কামিয়েছে বুকিরা।

সবমিলিয়ে আইপিএলজুড়ে বেটিংয়ের কালোছায়া যে ভালোমতোই ছিল, তা পরিষ্কার। দু-একজন গ্রেফতার হলেও, বাকি ম্যাচগুলিতে একই কায়দায় বেটিং হয়নি, জোর দিয়ে বলা যাচ্ছে না। আর এখানেই বোধহয় বিসিসিআইয়ের সার্বিক ব্যর্থতার ছবিটা আরও বেশি করে প্রকট। কোটি কোটি টাকায় জৈব সুরক্ষা বলয়, কঠোর নিরাপত্তা নিয়ে আশ্বস্ত করা হয়েছে বারবার। বোর্ডের সেই দাবি কতটা অসাড়, তা এইসব ঘটনা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল।