ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বর্ডারহাট চাইছেন সীমান্তবাসীরা

599
ফাইল ছবি

গৌতম সরকার, চ্যাংরাবান্ধা: ভারত বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকায় গড়ে তোলা হোক বর্ডারহাট। সীমান্তের কাছে এই বর্ডারহাট এমনভাবে গড়ে তোলা হোক যাতে এই হাটে নিয়ম মেনে দুই দেশের মানুষজনই আসতে পারেন। নিয়ম মেনে হাটে এসে বিভিন্ন জিনিস ক্রয়-বিক্রয় করে তাঁরা আবার নিজেদের দেশে ফিরে যেতে পারবেন।

কোচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জ ব্লকের বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকায় বেশ কয়েকবছর ধরেই বিভিন্ন মহল থেকে এই বর্ডারহাট গড়ে তোলার খবর শোনা যাচ্ছে। এবার এই দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন চ্যাংরাবান্ধা সীমান্তের বিভিন্ন ব্যবসায়ীরা। তবে শুধু দাবি তোলাই নয় দাবির ভিত্তিতে চ্যাংরাবান্ধা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির কর্মকর্তারা ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মহম্মদ ইমরানের সাথে দেখা করে তার কাছেও বর্ডার হাট গড়ার দাবি করেন।

- Advertisement -

তাঁরা জানান, চ্যাংরাবান্ধা সীমান্তে বর্ডারহাট গড়ে তোলার কথা অনেকদিন থেকেই তাদেরও কানে আসছে। এরজন্য ইতিপূর্বে সীমান্তের কাছে জমিও দেখা হয়েছে। কিন্তু কাজ এগোয়নি। আন্তর্জাতিক সীমান্তের কাছে এই বর্ডারহাট চালু হলে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক যেমন আরও নিবিড় হবে তেমনি দুই পারের বিভিন্ন মানুষ ও ব্যবসায়ীদের একাংশ লাভবান হবেন। সংশ্লিষ্ট এলাকার আর্থ সামাজিক উন্নয়ন হবার পাশাপাশি সীমান্তে চোরাচালানও অনেকটা কমবে বলেও তাঁরা মনে করছেন।

চ্যাংরাবান্ধা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক মিতুল সাহা বলেন, ‘আমরাও চাই সীমান্তে বর্ডার হাট চালু হোক। এটা হলে দুই দেশের মানুষেরই অনেক সুবিধা হবে। চ্যাংরাবান্ধা সীমান্তবন্দর পরিদর্শনে এসেছিলেন বাংলাদেশের হাইকমিশনার মহম্মদ ইমরান। তাঁর কাছেও বর্ডার হাটের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। এই দাবির কথা ওই দেশের হাইকমিশনার সংশ্লিষ্ট মহলে জানানোর আশ্বাস দিয়েছেন।‘

সীমান্তে বর্ডারহাট চালুর বিষয়ে হাইকমিশনার বলেন, ‘চ্যাংরাবান্ধা সীমান্তের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে এই সীমান্তে বর্ডার হাট গড়ার একটি বিষয় শুনেছি।বিষয়টি ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা হবে।তারপর এনিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত হতেও পারে।‘

ব্যবসায়ী সূত্রে জানা গিয়েছে, দুই দেশের প্রশাসনের তরফে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়ার পাশে এই হাট গড়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। কয়েক বছর আগে বিএসএফ-বিজিবির তরফে এনিয়ে সীমান্ত পরিদর্শনও করা হয়েছিল।

অনেকেই মনে করছেন, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে চোরাচালানের অভিযোগের বিষয়টি নতুন কিছু নয়। মাঝে মধ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন জিনিসপত্রও পাচারের কথা শোনা যায়। চোরাপথে সেগুলি বাংলাদেশে পাচার করা হয়ে থাকে। এক শ্রেণীর মানুষ রয়েছেন যারা পড়শি দেশের সামগ্রী ব্যবহার করতে বেশি পছন্দ করেন। তাই সীমান্তের কাছে বর্ডারহাট গড়ে উঠলে অবৈধ কাজ কর্মেও অনেকটা ভাটা পড়বে বলে অনেকে মনে করছেন।

অন্যদিকে, সীমান্তে এই বর্ডার হাটের খবরের বিষয়টি নিয়ে দারুণ খুশি কাঁটাতারের বেড়ার দুই পাশে থাকা দুই দেশের অনেক মানুষই। তাঁরা বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়াও দুই বাংলার মানুষের মনের মধ্যে তেমন দূরত্ব তৈরি করতে পারেনি। এই অবস্থায় সীমান্তে বর্ডার হাট গড়ে উঠলে সেই জায়গাটা আরও মজবুত হবে। প্রতিবেশী দেশের অনেক কিছুই হাতের নাগালে মিলবে। বিষয়টা অনেকটা আনন্দেরও।‘

বুড়িমারি সীমান্তের রফিকুল ইসলাম, চ্যাংরাবান্ধা সীমান্তের বিমল বর্মনদের মত অনেকেরই বক্তব্য, সীমান্তে বর্ডার হাট হলে বিষয়টি খুবই ভালো হবে। পড়শি দেশের বিভিন্ন জিনিসপত্র হাতের নাগালে মিলবে তাই ব্যাপারটাই অন্যরকম।