বর্ডারগার্ড বাংলাদেশের আপত্তিতে বন্ধ ঘাট তৈরির কাজ, ক্ষুব্ধ সীমান্তবাসী

886

গৌতম সরকার, চ্যাংরাবান্ধা: শুরু হওয়ার চার বছর পরও বিজিবি অর্থাৎ বর্ডারগার্ড বাংলাদেশের আপত্তির কারণে ছট পুজোর ঘাট তৈরির কাজ সম্পন্ন হয়নি। যা নিয়ে কোচবিহার জেলার চ্যাংরাবান্ধা সীমান্তের মানুষের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

এবারও ছট পুজোর দিন ঘনিয়ে এসেছে। প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে এবারও শেষ অবধি বেহাল ঘাটেই পুজো দিতে হবে বিভিন্ন পুণ্যার্থীদের, যা নিয়ে অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের দাবি, দ্রুত সীমান্তের এই এলাকায় অর্ধসমাপ্ত অবস্থায় থাকা ছট পুজোর ঘাট তৈরির কাজ শেষ করা হোক। স্থায়ী পাকা ঘাট না থাকায় ছট পুজোর সময় পুণ্যার্থীদের এই ঘাটে পুজো করতে এসে অসুবিধা হয়। অনেকটা দূরে বাংলাদেশের দিকে এগিয়ে যেতে হয় জলের জন্য। এই অংশেই রয়েছে খোলা সীমান্ত অর্থাৎ কাঁটাতারের বেড়া নেই নদী তীরবর্তী এই ঘাট এলাকায়। যে কারণে নিরাপত্তার একটা বিষয়ও রয়েছে বলে অনেকে মনে করছেন। যদিও পুলিশ ও সীমান্তরক্ষী বাহিনীর তরফে জানানো হয়েছে, ছট পুজোর সময় এই ঘাটে তাঁদের তরফে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়। যদিও ছট ঘাটের কাজ নিয়ে তৈরি হওয়া জটিলতা দূর করে কাজটি শেষ করার দাবি উঠেছে স্থানীয়দের তরফে। বিজিবি-এর আপত্তিতে থমকে থাকা এই ছট পুজোর ঘাট নিয়ে বিএসএফের উত্তরবঙ্গের আইজি সুনীল কুমার ত্যাগীর নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে আমি নিজেও বিস্তারিত খোঁজ খবর নিচ্ছি। এই নিয়ে আমাদের তরফে চেষ্টার কোনও ত্রুটি রাখা হচ্ছে না।’

- Advertisement -

চ্যাংরাবান্ধা বাজারের পিছন দিকে ধরলা নদীতে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। এই ভাঙনের কবলে পড়ে গত কয়েকবছরে এখানকার ছট পুজোর ঘাটও দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নদী অনেকটাই বসতি এলাকার দিকে এগিয়ে এসেছে। বাসিন্দাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে চ্যাংরাবান্ধা উন্নয়ন পর্ষদের তরফে এখানে তিন বছর আগে সিমেন্ট, পাথর দিয়ে কংক্রিটের ঘাট তৈরির কাজ শুরু করা হয়। কিন্তু একটিমাত্র সিঁড়ি তৈরির পরই এই কাজ নিয়ে বাংলাদেশ বিজিবি-এর তরফে ভারতীয়দের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলা হয়। যার জেরেই কাজটি থমকে যায়। শুধু তাই নয়। এই ঘটনার পর সেচ দপ্তরের তরফে বাঁধ নির্মাণের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হলেও বিজিবির বাধার কারণে সেটা নিয়েও সমস্যা তৈরি হয়েছিল বলে ওই দপ্তর সূত্রে খবর। ঘাট তৈরির কাজ থমকে যাওয়ার পর স্থানীয় প্রশাসনের তরফে বিষয়টি নিয়ে বিএসএফ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। এরপর দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর তরফে এইনিয়ে একাধিকবার বৈঠক করেও আলোচনা করা হয়েছে। কিন্তু তিন বছর পরও সমস্যা মেটেনি।
দুই বছর আগে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কোচবিহারে এসে বিষয়টি জানতে পেরে তিনিও জেলা প্রশাসনকে উদ্যোগী হতে বলেন। এরপর ব্লক এবং মহকুমা প্রসাশনের কর্তারা ওই এলকা পরিদর্শন করে এসেছেন। সীমান্তরক্ষী বাহিনী মারফৎ দুইদেশের মধ্যে আলোচনাও চলে অনেকবার। কিন্তু আজও থমকে থাকা সেই কাজ শুরু হয়নি। বর্তমানে শুখা মরসুম চলছে। এই সময় কাজ শুরু না হলে আসন্ন বর্ষার আগে সেই কাজ সম্পন্ন করতে ফের সমস্যা হবে, সেই আশঙ্কাতেই রয়েছেন স্থানীয়রা।