মেখলিগঞ্জ : প্রায় দুবছর ধরে কোচবিহার জেলার আন্তর্জাতিক তিনবিঘা করিডরে বন্ধ হযে রয়েছে বর্ডার রিট্রিট। এনিয়ে হতাশ তিনবিঘা করিডরে আসা পর্য়টক এবং স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের কথায়, মেখলিগঞ্জ ব্লকের কুচলিবাড়ি গ্রাম পঞ্চাযে এলাকার তিনবিঘা করিডরটি চালু হওযার পর থেকেই দেশ-বিদেশের পর্য়টকদের আকর্ষণের বিষয় ছিল। এরমধ্যে সীমান্ত রক্ষীবাহিনীর বর্ডার রিট্রিট পর্য়টকদের কাছে  মূল আকর্ষণ ছিল।

সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্তের সময় আন্তর্জাতিক সীমান্তে বিএসএফ জওযানদের বিশেষ সামরিক কায়দায় জাতীয় পতাকা তোলা এবং নামানোকেই বর্ডার রিট্রিট বলা হয়।  ওয়াঘা সীমান্তের মতো তিনবিঘা করিডরেও রোজ এই দৃশ্য দেখার জন্য মানুষ ভিড় করতেন। তবে পর্যটকরা মূলত বিকেলে বর্ডার রিট্রিট দেখতে আসতেন। কিন্তু, প্রায় দুই বছর ধরে বাংলাদেশের আপত্তিতে তা হয়ে গিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্ডার রিট্রিটের সময় করিডরের দুপাশে থাকা ভারতীয় লোহার গেট কিছুক্ষণের জন্য বন্ধ রাখা হত। ওই সময়টুকু করিডরের উপর দিযে বাংলাদেশের নাগরিকদের চলাচল বন্ধ থাকত। এনিযে সেদেশের তরফে আপত্তি উঠেছিল। তারপর থেকেই বর্ডার রিট্রিট বন্ধ করে দেওয়া হয়।জলপাইগুড়ির বাসিন্দা সঞ্জয় সরকার বলেন, ‘বাড়িতে কোনো আত্মীয় এলেই তিনবিঘা করিডরে বিএসএফের পতাকা নামানোর দৃশ্য দেখাতে নিযে আসতাম। এখন এখানে দেখার মতো আর তেমন কিছুই নেই।’ কুচলিবাড়ির বাসিন্দা সফিকুল ইসলাম জানান, বর্ডার রিট্রিট বন্ধ থাকায় প্রায়ই পর্যটকরা হতাশ হন।

গ্রামবাসী জগৎ রায় বলেন, ‘একসময় তিনবিঘা করিডরের ভারত ভূখণ্ডে পর্যটকদের ছবি তোলার ক্ষেত্রে তেমন বিধিনিষেধ ছিল না। করিডরের গেট পর্যন্ত ভারতীয় সীমান্ত পর্যন্ত যেতেও কোনো অসুবিধা ছিল না। কিন্তু, এখন ছবি তোলায় নিষেধাজ্ঞা জারি করে বোর্ড লাগানো হয়েছে। করিডরের ভিতরেই যে ছোট্ট পার্কের মতো বসার জায়গা রয়েছে সেটিরও বেহাল অবস্থা। তাই এখন পর্যটকদের করিডরের পাশে একটু দাঁড়ানো ছাড়া আর কিছুই করার নেই। বর্ডার রিট্রিট এবং করিডরে ছবি তোলার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা জারির কথা স্বীকার করে নিয়েছেন স্থানীয় বিএসএফ কর্তারাও। এই নিয়ম চালুর বিষযে তাঁদের বক্তব্য, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশেই এই নিষেধাজ্ঞা। এদিকে, করিডরের পাশের পার্কটিরও অবস্থা ভালো নয়। বেশিরভাগ সময় সেই পার্কের গেট বন্ধ থাকে। সেখানেও বসার জায়গা, দোলনা সহ অন্য সামগ্রীগুলি দেখভালের অভাবে নষ্ট হয়ে গিয়েছে। গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান জয়শ্রী রায় জানান, করিডর এবং সংলগ্ন পার্কের সৌন্দর্যায়ন এবং রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়ে বিভিন্ন মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। মেখলিগঞ্জের মহকুমাশাসক রামকুমার তামাং বলেন, ‘তিনবিঘা করিডরে পর্যটকদের জন্য কিছু করা যায় কিনা সেবিষযে চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।’ চ্যাংরাবান্ধা উন্নয়ন পর্ষদের এগ্জিকিউটিভ অফিসার অনির্বাণ দত্ত বলেন, ‘পর্ষদের তরফে তিনবিঘা সহ সীমান্তের পর্যটন নিযে আলোচনা চলছে।’ চ্যাংরাবান্ধা উন্নয়ন পর্ষদের চেযারম্যান পরেশচন্দ্র অধিকারী বলেন, ‘তিনবিঘায় পর্যটন নিয়ে স্থানীয়দের দাবির বিষয়টি জানি। এনিযে চেষ্টা চলছে।’