কাঁটাতারের বেড়ায় সীমান্তের গ্রামে অবরুদ্ধ উন্নয়ন

91

গৌতম সরকার, মেখলিগঞ্জ : আর্থসামাজিক দিক থেকে পিছিয়ে পড়া গ্রামের বিশেষ উন্নতির লক্ষ্যে বাম আমলে গ্রামটিকে অনুন্নত গ্রাম হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল। উন্নয়নের প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ প্রায় একুশ বছরেও এলাকায় তেমন কোনও উন্নয়ন হয়নি বলে অভিযোগ গ্রামবাসীদের। যা নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছেন কোচবিহারের মেখলিগঞ্জ ব্লকের বাগডোকরা-ফুলকাডাবরি গ্রাম পঞ্চায়েতের বাংলাদেশ সীমান্তঘেরা ৫৬ হেমকুমারী-গোলাপাড়া গ্রামের বাসিন্দারা। তাঁরা জানান, এমনিতেই চারিদিকে কাঁটাতারের বেড়ার জন্য তাঁদের একপ্রকার বন্দিদশায় জীবন কাটছে। তার ওপর পানীয় জল, রাস্তাঘাট, সেচ ইত্যাদি সমস্যায় তাঁদের ভোগান্তির শেষ নেই। কিছু এলাকায় পিএইচইর জলের সংযোগ দেওয়া হলেও সর্বত্র পরিষেবা নেই। যোগাযোগ ব্যবস্থারও উন্নতি হচ্ছে না। পঞ্চায়েত প্রধান কোয়েল রায় অধিকারী অবশ্য বলেন, আমার তরফে ওই এলাকার মানুষের সমস্যা মেটানোর জন্য চেষ্টায় কোনও ত্রুটি নেই। মেখলিগঞ্জ ব্লক প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, এ বিষয়ে আমরা সচেষ্ট রয়েছি।

গ্রামবাসীদের অভিযোগ, এলাকার উন্নয়নে কেউই মাথা ঘামান না। শুধু ভোট এলেই গ্রামে ঘনঘন নেতা-কর্তাদের পদার্পণ ঘটে। প্রতিশ্রুতির বন্যা বয়ে যায়। কিন্তু ভোট পেরিয়ে গেলে কারও টিকির নাগাল পাওয়া যায় না। বিকাশ বর্মন, মালতী রায় প্রমুখ বাসিন্দার বক্তব্য, হয় এলাকার উন্নয়ন ঘটানো হোক নতুবা তাঁদের জন্য অন্য কোনও ব্যবস্থা করা হোক। গ্রামের মানুষ জানান, কাঁটাতারের বেড়ার কারণে কৃষিকাজের ক্ষেত্রেও দারুণ সমস্যা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক নিয়মকানুনের বিষয় দেখিয়ে মাঝেমধ্যেই সীমান্ত রক্ষীবাহিনীর হয়রানির শিকার হতে হয়।

- Advertisement -

এ ছাড়া অনেকেরই পানীয় জলের ভরসা বলতে কুয়ো কিংবা নলকূপের জল। কারণ এই গ্রামে পিএইচইর জল পরিষেবা সর্বত্র পৌঁছায়নি। গ্রামে ঢোকার রাস্তার দশাও বেহাল। বর্ষাকালে এই বেহাল রাস্তা দিয়ে চলতে ভীষণ সমস্যা হয়। বিশেষ করে রাতে রোগীদের হাসপাতালে নিয়ে যেতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। উৎপাদিত ফসল বাজারে নিয়ে যেতেও সমস্যায় পড়েন কৃষকরা। কৃষিজমিতে জলসেচ ব্যবস্থা না থাকায় চাষাবাদেও ক্ষতির সম্মুখীন হন তাঁরা। অথচ কৃষিকাজের ওপরই গ্রামের প্রায় সকল মানুষ নির্ভরশীল। কারণ বেড়াবন্দি এই এলাকায় বিকল্প কোনও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা নেই। অনেকে ভিনরাজ্যে কাজের সন্ধানে চলে যান। বাম আমলে খাতায়-কলমে গ্রামটিকে অনুন্নত হিসেবে লিপিবদ্ধ করা হলেও বাস্তবে তেমন কোনও উন্নতি হয়নি বলে ক্ষুব্ধ বাসিন্দাদের অভিযোগ।

কাঁটাতারের বেড়ার ভিতরে গ্রামবাসীদের ভীষণ সমস্যার মধ্য দিয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে বলে জানান স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য রঞ্জন রায় নিজেও। তিনি বলেন, অনুন্নত এই গ্রামে সমস্যার শেষ নেই। কবে নাগাদ তাঁদের সমস্যা মিটবে সেটার উত্তর আমার জানা নেই। এলাকার মানুষের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবির বিষয়ে আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি।