নামমাত্র ফলন, বোরো ধানের গাছ এখন গবাদি পশুর খাদ্য

161

রাঙ্গালিবাজনা: ধানের শিষ বেরিয়েছে। কিন্তু বেশিরভাগ ধানের খোসার ভেতর শষ্যদানাই নেই। ফলে মাথায় হাত দিয়ে বসেছেন আলিপুরদুয়ার জেলার ফালাকাটা ব্লকের দেওগাঁও গ্রাম পঞ্চায়েতের বোরো ধান চাষিদের অনেকেই। কেউ কেউ সরকারের তরফে বিনা পয়সায় দেওয়া বীজ বপন করেছিলেন। কেউ আবার বিভিন্ন কোম্পানির বিজ্ঞাপনে বিশ্বাস করে চড়া দামে বীজ কিনেছিলেন। কিন্তু প্রত্যাশিত ফলন তো দূরের কথা, বেশিরভাগ ধানের ভেতর শষ্যদানাই নেই। ফলে লাভ তো দূরের কথা, চাষ বাবদ খরচ করা টাকাটাও গচ্ছা গিয়েছে। বিঘা প্রতি ৫ কেজি থেকে শুরু করে বড়জোর ৪০ কেজি ধান পেয়েছেন কেউ কেউ। অনেকে আবার সেটুকুও পাননি। ফলে গাঁটের কড়ি খরচ করে ধানগাছগুলি কাটতে চাইছেন না কেউ।

হতাশ চাষিদের অনেকেই ধানগাছগুলি গবাদি প্রাণীদের খাইয়ে দিচ্ছেন। গ্রামবাসীদের কেউ কেউ আবার ধানগাছগুলি কেটে যেটুকু ধান ফলেছে সেটুকু ধান ঝেড়ে জমির মালিককে দিয়ে আঁটিগুলি গবাদি প্রাণীদের খাওয়ানোর জন্য নিয়ে যাচ্ছেন। এদের মধ্যে কেউ কেউ ইতিমধ্যেই আমন ধান রোপনের জন্য জমি চাষ করতে শুরু করছেন। কিন্তু হাতির উপদ্রব যেভাবে দিনদিন বেড়ে চলেছে তাতে কতটা আমন ধান ঘরে তুলতে পারবেন তাঁরা তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন চাষিদের অনেকেই।

- Advertisement -

দেওগাঁওয়ের একাধিক ক্ষতিগ্রস্ত বোরো ধান চাষি জানান, কিষাণ মান্ডিতে বিনা পয়সায় বীজ বিলি করা হয়েছিল। ওই বীজ বপন করেছিলেন তাঁরা। কিন্তু লাভ তো দূরের কথা উলটে লোকসান হয়েছে। ধান ফলেছে নামমাত্রই। স্বাভাবিকভাবেই ক্ষুব্ধ ক্ষতিগ্রস্ত চাষিরা। কারণ চাষ বাবদ তাদের টাকা, পরিশ্রম সব জলে গিয়েছে। তবে ধানচাষিদের লোকসান হলেও লাভ হয়েছে গবাদি প্রাণীর মালিকদের। এখন গোরু চরানোর মত জমি ফাঁকা পড়ে নেই। খড়ের এক একটা আঁটির দাম ৬-৭ টাকা। তাই ওদের ধান বিনা পয়সায় কেটে দিয়ে আঁটিগুলি নিয়ে যাচ্ছেন গবাদি প্রাণীর মালিকরা।

দেওগাঁও গ্রামপঞ্চায়েতের উপপ্রধান রহিফুল আলম বলেন, ‘নানা কারণে এখন দেওগাঁওয়ে বোরো ধানের চাষ কমে গিয়েছে। তবে এবছর বোরোচাষিদের তরফে এধরণের কোনও অভিযোগ এখনও পর্যন্ত মেলেনি। বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। চাষিদের অভিযোগ এমনিতেই হাতির উৎপাতে ফসল ঘরে তোলা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। তার ওপর এবার বোরো ধান চাষেও ব্যাপক লোকসান হল। এদিকে করোনা পরিস্থিতির জেরে ভিনরাজ্যে শ্রমিকের কাজ করতে পাড়ি দিতেও নানা সমস্যা রয়েছে। সব মিলিয়ে বড় আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছেন দেওগাঁওয়ের চাষিরা।’