সেতু না থাকায় বিপাকে বড়ডোবা, সাংসদের ভূমিকার প্রশ্ন

429

ফালাকাটা : ফালাকাটা শহরের পাশে অবস্থিত হলেও মুজনাই নদীতে সেতু না থাকায় আট হাজার মানুষের জনপদ বড়ডোবা আজও বিচ্ছিন্ন। বাসিন্দাদের দাবি, ৩৪ বছরের শাসনকালে বামফ্রন্ট তো বটেই, আট বছরের শাসনকালে তৃণমূল কংগ্রেসও বড়ডোবায় পাকা সেতু তৈরিতে কোনো উদ্যোগ নেয়নি। ভোটে জিতলে সাংসদ হিসেবে এই সেতু তৈরিই তাঁর প্রথম কাজ হবে বলে লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার কয়েকদিন আগে বড়ডোবা গ্রামে এসে বিজেপি প্রার্থী জন বারলা আশ্বাস দিয়েছিলেন। ভোটে জেতার পর সাংসদ জন বারলা সম্প্রতি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে আলিপুরদুয়ারের চা বাগান এলাকায় তিনটি পাকা সেতুর দাবি জানান। কিন্তু তিনি বড়ডোবায় সেতুর প্রস্তাব না দেওয়ায় ফালাকাটার মানুষ সাংসদের ভূমিকায় প্রশ্ন তুলেছেন। এনিয়ে তৃণমূল-বিজেপি চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। তৃণমূলের দাবি, রাজনৈতিক ফায়দা লুটতেই সাংসদ মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। বিধায়ক অনিল অধিকারীর তরফে অনেক আগেই এই সেতুর বিষয়ে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। ফোনে দিল্লিতে বারলাকে ধরা হলে তাঁর উত্তর, বড়ডোবার কথা মনে আছে। আগামী সপ্তাহেই কেন্দ্রের কাছে এই দাবি তুলে ধরব।

মুজনাই নদী ফালাকাটা শহরের পাশ দিয়ে বয়ে গিয়েছে। হাটখোলা থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বে দুটি পঞ্চায়ে এলাকা নিয়ে বড়ডোবা জনপদটি গুয়াবরনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত। গ্রামের প্রায় আট হাজার বাসিন্দা নানাভাবে ফালাকাটা শহরের উপর নির্ভরশীল। কৃষক, ব্যবসায়ী, ছাত্রছাত্রী সবাইকে মুজনাই নদী পেরিয়ে শহরে আসতে হয়। এজন্য নদীতে প্রতি বছর বাঁশের সাঁকো তৈরি করা হয়। কিন্তু বর্ষায় সেই সাঁকো ভেঙে গেলে নৌকাই বাসিন্দাদের পারাপারের ভরসা হয়ে দাঁড়ায়। এবারও গত জুনের বৃষ্টিতে সাঁকো ভেঙে যাওয়ায় বাসিন্দাদের এখন নৌকায় নদী পারাপার করে ফালাকাটায় আসতে হচ্ছে।  গ্রামবাসী হেমন্ত বিশ্বাস বলেন, বাম আমলের পর তৃণমূলের রাজত্ব চলছে। সেতু হয়নি। বিজেপির সাংসদ বড়ডোবায় এসে পাকা সেতুর আশ্বাস দিয়ে এখন ভুলে গিয়েছেন। গ্রামের কৃষক সত্যেন বর্মন বলেন, নেতা ও জনপ্রতিনিধিরা রাজনৈতিক স্বার্থটাই বোঝেন। তাঁর দাবি, আট হাজার মানুষের এই ভোগান্তির কষ্টটা রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীরা বুঝতে চান না।

- Advertisement -

তৃণমূলের ব্লক কার‌্যকরী সভাপতি তথা জেলাপরিষদের কর্মাধ্যক্ষ সন্তোষ বর্মন বলেন, রাজনৈতিক ফায়দা লুটতেই বিজেপির সাংসদ বড়ডোবায় এসে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তাঁর দাবি, সাংসদ তহবিলের টাকায় এখানে দীর্ঘ পাকা সেতু তৈরি সম্ভব নয়। বিধায়ক অনিল অধিকারী বলেন, এখানে সেতুর প্রস্তাব অনেক আগেই উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। জন বারলা অবশ্য বলেন, সীমান্ত এলাকা উন্নয়ন প্রকল্প (বিএডিপি)-র মাধ্যমে ভুটান সীমানার কাছাকাছি তিনটি সেতুর বিষয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে আর্জি জানিয়েছি। ওই খবর উত্তরবঙ্গ সংবাদ-এ প্রকাশিত হওয়ায় ফালাকাটার মানুষ হয়তো আমাকে ভুল ভাবছে। সাংসদ জানান, বড়ডোবার কথা তাঁর ভালোই মনে আছে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর কংগ্রেস, বামফ্রন্ট ও তৃণমূলের আমলে বড়ডোবায় সেতু হয়নি। তাঁর দাবি, সাংসদ হিসেবে তিনিই এজন্য উদ্যোগ নিচ্ছেন। বড়ডোবা সহ আলিপুরদুয়ারের রাস্তা ও সেতুর প্রস্তাব নিয়ে আগামী সপ্তাহেই কেন্দ্রীয় পরিবহণমন্ত্রীর সঙ্গে তিনি দেখা করবেন বলে সাংসদ জানান। বিজেপির জেলা সম্পাদক জয়ন্ত রায় বলেন, এতদিন কেউই তো সেতু করতে পারেনি। তাই এনিয়ে তৃণমূলের হইচই করার কোনো মানে নেই। সাংসদের সবই মনে আছে।