কোচবিহার, ১৩ এপ্রিলঃ কোচবিহার লোকসভা কেন্দ্রে বৃহস্পতিবার ভোটের যা গতিপ্রকৃতি ছিল, তাতে ৭টি বিধানসভার মধ্যে সিতাই ও নাটাবাড়িতে তৃণমূলের এগিযে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এরমধ্যে সিতাই বিধানসভা থেকে তৃণমূল ভালো লিড পেতে পারে। অপরদিকে, কোচবিহার উত্তর, মাথাভাঙ্গা ও দিনহাটা বিধানসভা কেন্দ্র তিনটিতে বিজেপির এগিযে থাকার সম্ভাবনা। এর মধ্যে কোচবিহার উত্তর বিধানসভায় বিজেপির ব্যাপক পরিমাণ  লিড পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে, কোচবিহার দক্ষিণ ও শীতলকুচি বিধানসভা কেন্দ্রে লড়াই হয়েছে সেয়ানে-সেয়ানে। যে কারণে ভোটের ফলাফল শেষ পর্যন্ত কী হবে তা নিযে কিছুটা ধোঁয়াশা থেকেই যাচ্ছে।

কোচবিহার লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত বিধানসভাগুলির মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে সিতাই বিধানসভা নিয়ে। দিনহাটা-১ ব্লকের ১২টি ও সিতাই ব্লকের পাঁচটি অর্থাৎ ১৭টি গ্রাম পঞ্চায়েত নিয়ে এই বিধানসভা কেন্দ্র। এই কেন্দ্রটি তৃণমূলের সবচেয়ে শক্ত ঘাঁটি হিসাবে পরিচিত। জানা গিয়েছে, এই বিধানসভার ১৭টির মধ্যে ব্রহ্মোত্তর চাতরা, চামটা, আদাবাড়ি, সিতাই-১ এবং ২, গিতালদহ-১ এবং ২ এবং ওকরাবাড়ি- এই ৮টি গ্রাম পঞ্চায়েতে তৃণমূল এককভাবে ভোট করিয়েছে। ফলে এই বিধানসভা থেকে তৃণমূল বড়ো লিড পাবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। লিডের এই সংখ্যাটা ৩০-৫০ হাজার হতে পারে বলেও মনে করছেন অনেকে। ফলে জয় পেতে এই কেন্দ্রটি তৃণমূলের অন্যতম ভরসা।

অপরদিকে, কোচবিহার উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রটি বিজেপির শক্ত ঘাঁটি হিসাবে পরিচিত। কোচবিহার-২ ব্লকের ১৩টি গ্রাম পঞ্চায়েতের বাণেশ্বর, পুণ্ডিবাড়ি, পাতলাখাওয়া, টাকাগাছ-রাজারহাট, খাগড়াবাড়ি, চকচকা, আমবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতগুলিতে বিজেপি দাপটের সঙ্গে ভোট করিয়েছে। এই কেন্দ্র্রটি থেকে বিজেপি ৩০-৪০ হাজার ভোটের লিড পেতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। নাটাবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্র কোচবিহার-১ ব্লকের ৬টি ও তুফানগঞ্জের ১০টি গ্রাম পঞ্চায়েত নিয়ে গঠিত। কেন্দ্রটি একসময় তৃণমূলের গড় হিসাবে পরিচিত থাকলেও এখন সেখানে বিজেপি অনেকটাই শক্তি বাড়িয়েছে। দেওচড়াই, মারুগঞ্জ ও চিলাখানা গ্রাম পঞ্চায়েতগুলিতে তৃণমূল দাপটের সঙ্গে ভোট করাতে পারলেও বাকি গ্রাম পঞ্চায়েতগুলিতে মানুষ মোটামুটি স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিয়েছে। তৃণমূল নেতাদের আশা, এখানে তাঁরা ৫ থেকে ১০ হাজারের লিড পাবেন। যদিও বিজেপির দাবি, লিড পাবে তারা।

মাথাভাঙ্গা বিধানসভা কেন্দ্রের ফুলবাড়ি, বড়শৌলমারি, ঘোকসাডাঙ্গা, পারডুবি, প্রেমেরডাঙ্গা, নিশিগঞ্জ-১ ও ২ গ্রাম পঞ্চায়েতগুলিতে ও শহরে বিজেপি দাপটের সঙ্গে ভোট করিয়েছে। এখানে হাজার দশেক ভোটে লিড পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বিজেপির। দিনহাটা বিধানসভা কেন্দ্রটি তিন-চার বছর আগেও তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি হিসাবে পরিচিত ছিল। কিন্তু এখন এখানে বিজেপি শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। এখান থেকে বিজেপির ১০ থেকে ১৫ হাজার ভোটে লিড পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কোচবিহার দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রটির পঞ্চায়েতগুলিতে তৃণমূল এগিয়ে থাকলেও কোচবিহার শহরে এসে তা আবার কমে যাওযার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সহসভাপতি আবদুল জলিল আহমেদ ও বিজেপির জেলা সহসভাপতি ব্রজগোবিন্দ বর্মন জানিয়েছেন, জিতবেন তাঁরাই।