কোচবিহারে সাগরদিঘিতে নেশার আসর বসছে

376

কোচবিহার : অন্ধকারের সুযোগে সাগরদিঘি চত্বরে নেশার আসর বসছে। রবিবার সকালে সাগরদিঘি চত্বরে সাফাই অভিযান চালানোর সময় শহরের এক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা বেশ কয়েকটি মদের বোতল এবং নেশার সামগ্রী পান। শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত সাগরদিঘি চত্বরের এই অবস্থায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তাঁরা। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়রাও ক্ষুব্ধ। সাগরদিঘি চত্বরে নেশার আসর বসানো বন্ধে পুলিশ ও প্রশাসনের ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে। সাগরদিঘি চত্বরের বেশ কিছু অংশে সন্ধ্যার পর থেকে পথবাতি জ্বলছে না। এর ফলে সান্ধ্যভ্রমণকারী থেকে শুরু করে স্থানীয়দের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। সাগরদিঘির কিছু অংশ অন্ধকার থাকায় সেই সমস্ত জায়গায় নেশার আসর বসছে। শহরের গ্রো গ্রিন দ্য রোড সাইড ট্রি লাভার্স অর্গানাইজেশনের সদস্যরা প্রতি রবিবারই সমাজ সচেতনতামূলক বিভিন্ন কাজকর্ম করে থাকেন। এদিনও তাঁরা সাগরদিঘি চত্বর সাফাই করতে যান। সেখান থেকেই বিভিন্ন নেশার সামগ্রী পান।

বেশ কিছুদিন ধরে শহরের প্রাণকেন্দ্র সাগরদিঘি চত্বরের কিছু এলাকা অন্ধকারে থাকছে। শহরের বেশিরভাগ অফিস-আদালত সাগরদিঘি চত্বরে থাকায় সাগরদিঘিকে শহরের প্রাণকেন্দ্র বলাই যায়। সাগরদিঘিকে চারপাশ দিয়ে ঘিরে রেখেছে কোচবিহার পুরসভা, জেলা শাসকের দপ্তর, আদালত, বিএসএনএল অফিস, ভূমি সংস্কার দপ্তর সহ অন্য বেশ কয়েকটি দপ্তর। সেকারণে সকাল থেকে সন্ধে পর্যন্ত সেই চত্বরে বহু মানুষের সমাগম হয়। শুধু তাই নয়, সাগরদিঘির সৌন্দর্যের টানেই সন্ধ্যার পরও অনেকেই সেখানে হাঁটতে যান। তবে পথবাতি কয়েকদিন ধরে না জ্বলায় সান্ধ্যভ্রমণকারীরা সমস্যায় পড়েছেন। আলো না থাকায় এলাকায় অসামাজিক কাজকর্ম বাড়ছে।

- Advertisement -

ওই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের তরফে রিপুঞ্জয় দেব বলেন, এদিন সাগরদিঘি চত্বরের একপাশ সাফাই করতে গিয়ে বেশ কিছু মদের বোতল এবং নেশার সামগ্রী পাওয়া গিয়েছে। অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে ওই এলাকায় এইসব অসামাজিক কাজকর্ম হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রশাসনের লাগাতার অভিযান চালানো জরুরি। সংগঠনের তরফে অর্পণ ভট্টাচার্য বলেন, সাগরদিঘি চত্বরে  এতগুলি অফিস থাকা সত্ত্বেও সন্ধে গড়াতেই দিঘি চত্বরের একাংশ অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে। সন্ধেতে সেই এলাকায় ভিড় জমান সান্ধ্যভ্রমণকারীরা। আলো না থাকায় সবাইকেই সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। শহরের ঐতিহ্যের কথা মাথায় রেখে সাগরদিঘি চত্বরে আলোর ব্যবস্থা করা হোক। এ বিষয়ে পুরসভার প্রশাসকমণ্ডলীর চেয়ারম্যান ভূষণ সিং বলেন, একশ্রেণির মানুষ ইচ্ছে করেই বাতি নষ্ট করে দিচ্ছে। বিষয়টি শীঘ্র দেখা হবে। ওই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই। শহরের অন্য সংগঠন এভাবে এগিয়ে এলে কোচবিহার আরও সুন্দর হয়ে উঠবে।