দুধিয়ার বালাসন থেকে পাথর উধাও

179

রণজিৎ ঘোষ, শিলিগুড়ি : দুধিয়ায় পাহাড়ের ঢাল বেয়ে নেমে আসা বালাসন নদীর বড় বড় পাথর চুরি করছে একটি চক্র। বেশ কয়েক বছর ধরে এভাবে নদী থেকে পাথর তুলে তা ক্রাশারে ভাঙিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে। ফলে দুধিয়ায় বালাসন নদী এখন কার্যত পাথরশূন্য হয়ে পড়েছে। অভিযোগ, তৃণমূল কংগ্রেস এবং গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার কয়েকজন নেতার একটি চক্র গত কয়েক বছরে এই নদী থেকে পাথর তুলে তা বাইরে পাচার করে কোটি কোটি টাকা আয় করেছে।

পাহাড়ি নদী মানেই বিশাল আকারের পাথর থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। সেই পাথরকে ভিজিয়ে নদীর জল প্রবাহিত হয়। একটা সময় দুধিয়াতেও বালাসন নদীতে বিশাল বিশাল আকারের পাথর ছিল। কিন্তু গত ১০ বছর ধরে একটু একটু করে পাথর চুরি হতে হয়ে এখন নদী পুরোপুরি ফাঁকা হয়ে গিয়েছে। দুধিয়া, পানিঘাটা এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের মদতে স্থানীয় কয়েকজন এই পাথরগুলি প্রতি রাতেই গাড়িতে তুলে নিয়ে যাচ্ছে। আগে পানিঘাটায় একটি ক্রাশার বসানো হয়েছিল। যেখানে এই পাথরগুলি ভেঙে গাড়ি বোঝাই করে বাইরে পাচার করা হয়েছে। এখন পানিঘাটার ক্রাশার বন্ধ করে দুধিয়া থেকে কিছুটা উপরে একটি ক্রাশার বসানো হয়েছে। এছাড়াও মিরিক মহকুমা এলাকায় আরও বেশ কয়েকটি বেআইনি ক্রাশার রয়েছে। সেই ক্রাশারে পাথরগুলি নিয়ে গিয়ে ভাঙানো হয়। সেখান থেকেই গাড়ি বোঝাই করে পাথর বিহার, অসম এমনকি নেপালেও পাচার করা হচ্ছে। এভাবে পাথর তুলে তৃণমূল কংগ্রেস এবং মোর্চার নেতাদের একাংশ কোটিপতি হয়ে গিয়েছেন বলে অভিযোগ।

- Advertisement -

পানিঘাটার তৃণমূল নেতা রাজেন মুখিয়া বলেন, আমি এ ব্যাপারে কিছু জানি না। প্রশাসন তদন্ত করে দেখুক, কে বা কারা এই পাথর তুলে পাচার করেছে। জিটিএর চেয়ারম্যান তথা মোর্চার সাধারণ সম্পাদক অনীত থাপা বলেন, এই ঘটনার দলের কেউ জড়িত নয়। প্রশাসন পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখুক। তাহলেই কারা এসব করছে, তা প্রকাশ্যে আসবে। মিরিকের মহকুমা শাসক অনাবিল দত্ত বলেন, আমি এখানে খুব অল্প সময় হল দায়িত্ব নিয়েছি। দুধিয়ায় নদীতে একটা সময় প্রচুর বড় বড় পাথর ছিল দেখেছি। এখন কী অবস্থা, কারা এই পাথর চুরি করে বিক্রি করছে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। আমরা জেলার নির্দেশে মাইনিং ব্লক চিহ্নিত করার কাজ শুরু করেছি। এরপর থেকে আর কেউ এভাবে নদীর সম্পদ চুরি করতে পারবে না।