কোচবিহার : কোচবিহারের ঐতিহ্যবাহী এবিএন শীল হস্টেলের সীমানাপ্রাচীর প্রায় ছমাস ধরে ভেঙে পড়ে রয়েছে। কোচবিহার শহরের ব্যস্ততম সুনীতি রোডের ধারে হস্টেলের এই সীমানাপ্রাচীর ভেঙে থাকায় বহিরাগতরা যখনতখন ভেতরে ঢুকে পড়ছে। ফলে আতঙ্কে রয়েছেন হস্টেলের আবাসিকরা। ভেঙে পড়া পাঁচিলটি অবিলম্বে সংস্কারের জন্য হস্টেল সুপারের কাছে দরবারের পাশাপাশি স্মারকলিপিও জমা দিয়েছেন আবাসিকরা। কিন্তু অভিযোগ, পাঁচিল সংস্কারের বিষয়ে হুঁশ নেই হস্টেল কর্তৃপক্ষের। তবে হস্টেল সুপার নীলাদ্রি ঠিকাদারের আশ্বাস, প্রাচীর সংস্কারের বিষয়টি খুব শীঘ্রই তাঁরা পূর্ত দপ্তরকে জানাবেন।

কোচবিহারের ঐতিহ্যবাহী এবিএন শীল কলেজ চত্বরেই রয়েছে ছেলেদের হস্টেল। কোচবিহার শহরের ব্যস্ততম সুনীতি রোডের পাশে এই হস্টেলটি রাজ আমলে ১৯১৫ সালে তৈরি হয়েছিল। ঐতিহ্যবাহী এই হস্টেলে ২৭টি ঘর রয়েছে। ঘরগুলিতে প্রায় ১০০ আবাসিকের থাকার জায়গা রয়েছে। হস্টেল সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে সেখানে প্রায় ৭০ জন আবাসিক রয়েছেন। গত ১৫ এপ্রিল হস্টেল থেকে ৪৬টি পুরোনো কাঁসার থালা ও ১৭টি পেতলের গ্লাস চুরি হয়ে গিয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছিল। এরপর প্রায় পাঁচ-ছমাস আগে হস্টেলের সীমানাপ্রাচীরের একটা বড়ো অংশ ভেঙে পড়ে। এতে রাস্তার পাশে থাকা হস্টেলটি একেবারে উন্মুক্ত হয়ে পড়েছে। ইতিমধ্যেই বেশ কিছু বহিরাগত পাঁচিলের ওই ভাঙা অংশ দিয়ে হস্টেল চত্বরের ভেতরে ঢুকেছিল বলে আবাসিকরা জানিয়েছেন। আবাসিকরা এর ফলে যথেষ্ট আতঙ্কে রয়েছেন। তবে সমস্যা শুধু এখানেই শেষ নয়। আবাসিকরা জানিয়েছেন, হস্টেলটি একেবারে বেহাল হয়ে পড়েছিল। অবশ্য সম্প্রতি হস্টেলটির কিছু সংস্কার হয়েছে। তবু এখনও বৃষ্টি নামলে হস্টেলের বিভিন্ন ঘরের ছাদ দিয়ে জল পড়ে। একাধিক ঘরে বিদ্যুতের সমস্যা রয়েছে।  কমনরুমে অনেকদিন ধরে বিদ্যুৎ নেই। এছাড়া হস্টেলের বিভিন্ন ঘর ও শৌচাগারের জানালা-দরজা ভাঙা।

হস্টেলের আবাসিক সইদুল ইসলাম বলেন, হস্টেলের সীমানাপ্রাচীরটি দীর্ঘদিন ধরেই ভেঙে রয়েছে। এতে আমরা খুবই আতঙ্কে রয়েছি। মাঝেমধ্যে বহিরাগতরা সেখান দিয়ে হস্টেল চত্বরে ঢুকে পড়ছে। আরেক আবাসিক প্রকাশ বর্মন জানান, হস্টেলের নীচে বেশ কতগুলি ঘরে আলো জ্বলে না। কমনরুমে দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎ নেই। ডিসেম্বর মাসে তাঁদের পরীক্ষা রয়েছে। ফলে লেখাপড়া করতে যথেষ্ট সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। অন্য আবাসিক স্বরূপকুমার দাস জানান, হস্টেলে পানীয় জলের খুবই সমস্যা রয়েছে। এছাড়া বৃষ্টি নামলেই ঘরের ছাদ দিয়ে জল পড়ে সমস্ত বিছানাপত্র ভিজে যায়। আবাসিক ইমরান আজিজের অভিযোগ, তাঁদের বিভিন্ন ঘরের ও শৌচালয়ে বেশ কিছু জানালা-দরজা ভাঙা রয়েছে। লেনিন আখতারের অভিযোগ, গোটা হস্টেল চত্বর জঙ্গলে ভরে রয়েছে। এতে হস্টেলে সবসময় মশামাছি ভরে থাকে। এছাড়া জঙ্গল দিয়ে মাঝেমধ্যে সাপ ও বিভিন্ন পোকামাকড়ও বের হয়। অবশ্য পূর্ত দপ্তরের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত পাঁচিল সংস্কারের আশ্বাস দিয়েছেন হস্টেল সুপার নীলাদ্রি ঠিকাদার।