তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষে উত্তপ্ত বক্সিরহাট, আহত ৫

643

তুফানগঞ্জ: রাজনৈতিক সংঘর্ষে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠল বক্সিরহাট থানার অন্তর্গত ফলিমারি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা। শনিবার গভীর রাতে সংঘর্ষের ঘটনাটি ঘটে দক্ষিণ ও পশ্চিম ফলিমারি গ্রামে। সংঘর্ষে মোট ৫ জন আহত হয়েছেন।

আহতদের মধ্যে ২ জন তৃণমূল কর্মী রয়েছে বলে তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি। এদের মধ্যে তৃণমূলের ফলিমারি অঞ্চল সভাপতি গোকুল সাহা ও রাজেস্বর বিশ্বাস গুরুতর আহত হয়েছেন। আহত দু’জনকে চিকিৎসার জন্য নিকটবর্তী রামপুর প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। রবিবার চিকিৎসার পর রাজেস্বর বিশ্বাসকে ছেড়ে দেওয়া হলেও গোকুল সাহাকে উন্নততর চিকিৎসার জন্য আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। এছাড়াও ৩২ টি বাড়ি ও ১২ টি মোটরবাইক ভাঙচুর হয়েছে বলে তৃণমূলের দাবি। ভাঙচুর করা হয়েছে তৃণমূলের আঞ্চলিক কার্যালয়।

- Advertisement -

তৃণমূলের তুফানগঞ্জ ২ ব্লকের কনভেনার ধনেশ্বর বর্মন বলেন, শনিবার রাত ১২ টা থেকে রবিবার ভোর ৪ টা পর্যন্ত জেপি আশ্রিত একদল দুষ্কৃতী দক্ষিণ ও পশ্চিম ফলিমারি গ্রামে তাণ্ডব চালায়। তারা দলের অঞ্চল সভাপতি গোকুল সাহার বাড়িতে অতর্কিত হানা দিয়ে তাকে বেধড়রক মারধর করা হয়েছে। এছাড়াও রাজেস্বর বিশ্বাসকে মারধর করা হয়েছে। ৩২ টি বাড়ি, ১২ টি মোটরবাইককে ভাঙচুর করা হয়েছে বলে ধনেশ্বর বাবুর দাবি। তাদের মারধর করার পর বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা তৃণমূলের আঞ্চলিক কার্যালয়ে তাণ্ডব চালায়। ধনেশ্বর বাবু বলেন, আমরা এ ধরনের ঘটনার তীব্র নিন্দা করছি। এ ঘটনার বিষয়ে আমরা বক্সিরহাট থানায় লিখিত অভিযোগ জানানো হবে। এছাড়াও রামপুর ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের কানাইবিল এলাকার তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি নিরঞ্জন সরকারের বাড়ির অনতিদূরে একটি বোম ভর্তি ব্যাগ উদ্ধার হয়েছে বলে তিনি জানান।

বিজেপির তুফানগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের সংযোজক উৎপল দাস বলেন, তৃণমূল কর্মীদের অত্যাচারে বিজেপি কর্মীরা বহুদিন এলাকার বাইরে ছিলেন। এখন তারা ঘরে ফিরতে শুরু করেছেন। তৃণমূল তাদের ভয় দেখিয়ে বাড়ি ছাড়ার জন্য শনিবার গভীর রাতে বিজেপি কর্মীদের বাড়িতে হামলা চালায়। গতকাল গভীর রাতে তৃণমূলকর্মীরা বিজেপির মন্ডল সম্পাদক মানিক বিশ্বাসের বাড়িতে হামলা চালায়। মানিক বাবুকে বাড়িতে না পেয়ে তার বৃদ্ধ বাবা ও ঠাকুমাকে মারধর করা হয়েছে। এরপর দলের শক্তি প্রমুখ সুবীর বিশ্বাসের বাড়িতে হামলা চালায় তৃণমূল। তাকে মারধর করার পর তার মোটরবাইক ভাঙচুর করা হয়। সব কিছুই হয়েছে তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি গোকুল সাহার নেতৃত্বে। এরপর এলাকার লোকজন প্রতিরোধ গড়ে তুললে তারা পালিয়ে যায়। বিজেপিকে বদনাম করার জন্য তৃণমূল এসব কথা বলে বেড়াচ্ছে। এদিকে সমস্ত ঘটনার তদন্তে নেমেছে বক্সিরহাট থানার পুলিশ।