বোধনের আগেই বিসর্জন! অসুস্থ মাকে ফেলে পালালেন ছেলে

189

বর্ধমান: দেবীপক্ষে বৃদ্ধা মাকে অসহায় অবস্থার মধ্যে বিসর্জন দিয়ে পালালেন গুনধর ছেলে। অসুস্থ বৃদ্ধা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এখন ভরসা পূর্ব বর্ধমানের গলসির নবখণ্ড গ্রামের বাসিন্দারা।

নিজের ছেলে সুপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায় ওরফে কান্তি তাঁর বৃদ্ধা মাকে অসহায় অবস্থার মধ্যে ফেলে পালিয়েছেন। তবে ওই বৃদ্ধাকে আগলে রেখেছেন নবখণ্ডের বাসিন্দারাই। তাঁরা পুলিশের কাছে বৃদ্ধার ছেলে সুপ্রিয়র কঠোর শাস্তির দাবি করেছেন। নবখণ্ড গ্রামের বাসিন্দারা পাশে থাকলেও নিজের গর্ভের সন্তানের এমন দুর্ব্যবহার মন থেকে মেনে নিতে পারছেন না বৃদ্ধা।

- Advertisement -

নবখণ্ড গ্রামের বাসিন্দাদের কথায়, নবখণ্ড গ্রামে বৃদ্ধার আদি বাড়ি। হাওড়ার বকুলতলা থানার দক্ষিণ বাকসারার কেঠোপুল এলাকায় বৃদ্ধার আরেকটি বাড়ি রয়েছে। ওই বাড়িতে বৃদ্ধার ছেলে ও বৌমা এখন থাকেন। বৃদ্ধার ছেলে সুপ্রিয় একটি বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত। কয়েক বছর আগে দুর্ব্যবহার করে সুপ্রিয় নিজের বৃদ্ধা মাকে হাওড়ার বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেন। তারপর থেকে অসুস্থ শরীর নিয়ে এক প্রকার অনাহারেই নবখণ্ড গ্রামের বাড়িতে থাকছিলেন মমতাদেবী। তাঁর অসুস্থতা বাড়লে প্রতিবেশীরাই সুপ্রিয়কে ফোন করে বৃদ্ধার চিকিৎসা করানোর ব্যবস্থা করার কথা বলেন। চিকিৎসা করাতে নিয়ে যাবার কথা বলে গত ৫ অক্টোবর সুপ্রিয় তাঁর মাকে হওড়ায় নিয়ে যান। চিকিৎসা করিয়ে সুপ্রিয় তাঁর মায়ের শেষ সম্বলটুকুও হাতিয়ে নেন। এরপর অ্যাম্বুল্যান্সে বৃদ্ধা মাকে চাপিয়ে নিয়ে এসে সুপ্রিয় নবখণ্ড এলাকায় আসেন। সেখানে অ্যাম্বুল্যান্স দাঁড় করিয়ে একটু আসছি বলে নেমে পড়েন ছেলে সুপ্রিয়। বেশ কিছুক্ষণ হয়ে গেলেও সুপ্রিয় ফিরে না আসায় অ্যাম্বুল্যান্স চালক বৃদ্ধাকে তাঁর গ্রামের বাড়িতে পৌঁছে দেন। পরে ওই বৃদ্ধাকে অসুস্থ দেখে প্রতিবেশীরা তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করান। যদিও এবিষয়ে সুপ্রিয়কে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি।