শিলিগুড়িতে আঞ্চলিক অফিস খুলছে ব্রহ্মপুত্র বোর্ড, এবার বরাদ্দ পেতে পারে রাজ্য

347

জলপাইগুড়ি : উত্তরবঙ্গের বন্যা নিয়ন্ত্রণে বছরে একটি টাকাও দেয় না কেন্দ্রীয় সরকারের ব্রহ্মপুত্র বোর্ড।একাধিকবার কেন্দ্রীয় জলসম্পদ মন্ত্রকে, এমনকি অসমে বোর্ডের অফিসে প্রকল্প রিপোর্ট পাঠিয়েও পশ্চিমবঙ্গের জন্য একটি টাকাও পাওয়া যায়নি বোর্ডের কাছ থেকে।রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পর্যন্ত দিল্লিতে গিয়ে এই বিষয়ে তদ্বির করে এসেছিলেন।কিন্তু তাতেও কাজ হয়নি।এবার সেই ব্রহ্মপুত্র বোর্ডের এই রাজ্যের আঞ্চলিক অফিস হতে চলেছে জলপাইগুড়ি জেলার শিলিগুড়ির কমিশনারেটের সেকেন্ড মাইল এলাকায়। বোর্ডের এই নতুন অফিস করা নিয়ে অনেক আশার আলো দেখছেন সেচ দপ্তর।

ব্রহ্মপুত্র বোর্ড তৈরি হয় ১৯৮০ সালে। শুধুমাত্র উত্তর-পূর্ব ভারতে ব্রহ্মপুত্র এবং বরাক উপত্যকায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ, জলবিদ্যুৎ উৎপাদন প্রভৃতি বিভিন্ন কাজের জন্য এই বোর্ড উত্তর-পূর্ব ভারতের একাধিক রাজ্যকে অর্থ বরাদ্দ করে থাকে।২০১৬-১৭ সালে বোর্ড পশ্চিমবঙ্গকে তাদের উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার, দার্জিলিংয়ের মতো অব-হিমালয়ের জেলাগুলির বন্যা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করবে বলে আশ্বাস দিয়েছিল।

- Advertisement -

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের সেচ দপ্তরের উত্তর-পূর্ব বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলছিল বোর্ড ২০১৬ সালের মাঝামাঝি থেকেও। উত্তর-পূর্ব বিভাগের বিদায়ী অবসরপ্রাপ্ত চিফ ইঞ্জিনিয়ার ধ্রুবজ্যোতি রায় বলেন, ‘তিনি ২০১৬ সালের অগাস্ট থেকে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যোগাযোগে ছিলেন। ২০১৭ সালে  রাজ্যের সেচমন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের সময়ে ব্রহ্মপুত্র বোর্ডে তারা উত্তরের এই চারটি এলাকার জন্য ৪৩৮ কোটি টাকার পূর্ণাঙ্গ প্রকল্প রিপোর্ট জমা দিয়েছিলেন।এমনকি অসমে সেচ দপ্তরের মুখ্য বাস্তুকারকে বৈঠকে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গকে এই বোর্ডে আমন্ত্রিত সদস্য হিসেবে রাখলেও কোনও টাকা আজ পর্যন্ত দেওয়া হয়নি।’

রাজ্যের প্রাক্তন সেচমন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় ফোনে বলেন, ‘আমি নিজে সেই সময় দিল্লিতে কেন্দ্রীয় জলসম্পদ মন্ত্রকে গিয়ে জানিয়েছিলাম আমাদের বোর্ডে অন্তুভুক্ত করা হোক। জমা দেওয়া প্রকল্পের জন্য টাকা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক।কিন্তু আমার সময়কাল পর্যন্ত একটি টাকাও দেয়নি বোর্ড।’

বর্তমান সেচমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘আমি সবেমাত্র সেচ দপ্তরের দায়িত্ব নিয়েছি।ব্রহ্মপুত্র নদী বোর্ডের অসহযোগিতার কথা শুনেছি।সবকিছু জেনে মন্তব্য করব।’

এদিকে গত ২৮ জুন শিলিগুড়ির দুই মাইলে কেন্দ্রীয় জল অনুসন্ধান কমিশনের অফিসে ব্রহ্মপুত্র বোর্ডের ৭০ তম বৈঠক হয়। সেখানে বোর্ডের চেয়ারম্যান রাজীব যাদব উপিস্থিত ছিলেন। সেই বৈঠকেই শিলিগুড়ির এই জায়গাতেই বোর্ডের প্রথম অফিস খোলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সেচ দপ্তরের জলপাইগুড়িস্থিত উত্তর-পুর্ব বিভাগের সদ্য অবসরপ্রাপ্ত চিফ ইঞ্জিনিয়ার ধ্রুবজ্যোতি রায় বলেন, শিলিগুড়ির দুই মাইলে ছিল কেন্দ্রীয় জল অনুসন্ধান কমিশনের চিফ ইঞ্জিনিয়ারের অফিস। সেই অফিস কলকাতায় স্থানান্তরিত হয়েছে। সিডব্লিউসি-র এই অফিসেই  ব্রহ্মপুত্র বোর্ড তাদের অফিস খুলছে। সেখানে বোর্ডের একজন ডেপুটি ইঞ্জিনিয়ার পদের বাস্তুকার দায়িত্বে থাকবেন।২০১৬ সালে জলপাইগুড়ি শহরের কিংসাহেবের ঘাট সংলগ্ন ক্লাব রোড এলাকায় সেচ দপ্তরের পাশে নিজেদের অফিস খোলার জন্য জমি দেখেও পরে এগোয়নি বোর্ড।কিন্তু এবার শিলিগুড়িতে নতুন অফিস করছে বোর্ড।ফলে এবার উত্তরবঙ্গের জেলাগুলির বন্যা নিয়ন্ত্রণে সহযোগিতা পাওয়া যাবে বলে আশা করছি।’

২০১২-২০১৭ সাল পর্যন্ত বোর্ড উত্তর-পুর্ব ভারতের রাজ্যগুলিকে বন্যানিয়ন্ত্রণে মোট ১২৮ কোটি টাকা  দেওয়া হলেও পশ্চিমবঙ্গ একটি টাকাও পায়নি। এই বিষয়ে বোর্ডের চেয়ারম্যান রাজীব যাদব ফোনে জানান, ‘সম্প্রতি আমরা শিলিগুড়িতে বৈঠক করি।সেখানে অফিস নিয়ে আলোচনা হয়।এর বেশি কিছু বলব না।’

 

তথ্য- পূর্ণেন্দু সরকার