এখন আমাদের প্রায সবারই সোশ্যাল নেটওযার্কে নিজস্ব অ্যাকাউন্ট রয়েছে, যার মাধ্যমে আমরা সারা দুনিয়ায় ছড়িয়ে থাকা বহু মানুষের সঙ্গে মুহূর্তে যোগাযোগ করতে পারি। কিন্তু এটাই যদি সোশ্যাল নেটওযার্কের মাধ্যমে না হযে আমাদের মস্তিষ্কের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের মধ্যে দিযে হয? ধরুন, আপনি কোনও বন্ধুকে কিছু বলতে চাইছেন, আর আপনার ভাবনা আপনার মাথা থেকে সেই বন্ধুর মাথায় চলে যাচ্ছে। কেমন হবে সেটা? অর্থাৎ আপনাকে মুখ ফুটে বলতে হবে না কিছুই। আপনার চিন্তা আরেকজনের মস্তিষ্কে ধরা পড়বে। মস্তিষ্কের সঙ্গে মস্তিষ্কের এই যোগাযোগই তো টেলিপ্যাথি নামে পরিচিত।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির গবেষকরা বলছেন, কারও মনের কথা পড়ার বিষযটি এবার বৈজ্ঞানিকভাবে সত্য হতে পারে। তাঁরা এমন এক পদ্ধতি তৈরি করেছেন, যাতে দুজন মানুষের মস্তিষ্কের ভেতর চিন্তাভাবনার আদান-প্রদান করা যাবে। এই পদ্ধতিকে বলা হচ্ছে ব্রেন নেট।

গবেষকরা অবশ্য অনেকদিন ধরেই ব্রেন নেট তৈরির কাজ করছেন। এর আগে ২০১৫ সালে ওযাশিংটন বিশ্ববিদ্যালযে গবেষকরা একটি গিযার তৈরি করেছিলেন, যাকে ব্রেন নেটের প্রাথমিক ধাপ বলা যায। ওই পদ্ধতিতে দুই ব্যক্তির মধ্যে ব্রেন টু ব্রেন ইন্টারফেসের মাধ্যমে যোগাযোগ করা সম্ভব হত। এখন এই পদ্ধতিতে ব্রেন নেট ব্যবহার করে তিনজন মানুষ ব্রেইন টু ব্রেইন নেটওযার্কে যুক্ত হতে পারেন।

সম্প্রতি ব্রেন নেট ব্যবহারকারীদের নিযে পরীক্ষা চালানো হয। এতে মস্তিষ্কের ভাবনা কাজে লাগিযে টেটরিসের মতো গেম খেলেছেন অংশগ্রহণকারীরা। এই নেটওযার্কে মস্তিষ্কের ইলেকট্রিক্যাল কার‌্যক্রম রেকর্ড করা হয। চুম্বকীয উদ্দীপনার তথ্য পাঠায এই নেটওযার্ক।

তবে ব্রেন নেটের সঙ্গে কিন্তু টেলিপ্যাথির পার্থক্য রয়েছে। টেলিপ্যাথিতে কোনো বাইরের উপাদান লাগে না। কিন্তু ব্রেন নেটের ক্ষেত্রে বাইরের হস্তক্ষেপ লাগে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, আরও উন্নতি করা গেলে এর মাধ্যমে আরও অনেক মানুষের মধ্যে ভাবনা পাঠানো যাবে।