করোনা টিকা থেকে বঞ্চিত নির্বাচন কমিশনের ব্র‍্যান্ড অ্যাম্বাসেডর খর্বকায় ভাতৃদ্বয়

161

বর্ধমান: বিধানসভা ভোটের সময়ে ঢাকঢোল পিটিয়ে নির্বাচন কমিশনের ’ব্র্যাণ্ড অ্যাম্বেসেডর’ করা হয়েছিল বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন খর্বকায় ভাতৃদ্বয়কে। ভোট মিটতেই যেন তাঁরা ব্রাত্য। টিকার লাইনে দাঁড়িয়েও হতাশা ছাড়া কিছু মেলেনি নির্বাচন কমিশনের ব্রান্ড অ্যাম্বাসেডর সেই ভাতৃদ্বয় সঞ্জীব মণ্ডল এবং মানিক মণ্ডলের। আদৌ ওই ভাতৃদ্বয় টিকা পাবেন কিনা তা নিয়ে সংশয়ে দিনপাত করছেন দু’জনেই।

পূর্ব বর্ধমানের মেমারি বিধানসভার কলানবগ্রামের বাসিন্দা সঞ্জীব মণ্ডল ও মানিক মণ্ডল। পরিবার বলতে বৃদ্ধা মা আন্না মণ্ডল। মাটির ঘরে বাস ওই খর্বকায় ভাতৃদ্বয়ের সংসার চলে গোরু, ছাগল, মুরগি পালন করে। এছাড়াও সরকারের তরফে সামান্য ভাতা পান তাঁরা। ওই ভাতৃদ্বয়কে সামনে রেখেই একুশের নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে থাকা মেমারি বিধানসভার আধিকারিকরা বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন এবং ৮০-ঊর্ধ্ব ভোটারদের ভোটদানে উৎসাহিত করার প্রয়াস নিয়েছিলেন। কমিশনের তরফে তাঁদের ব্রান্ড অ্যাম্বাসেড করতেই ভোট পর্বে দুই খর্বকায় ভাতৃদ্বয় ট্রাই সাইকেল চড়ে ভোটারদের উৎসাহিত করতে কাজ শুরু করেন নিঃস্বার্থভাবে। যদিও ভোট মিটতেই তাঁরা ব্রাত্য। কেউ খোঁজ রাখে না তাঁদের।

- Advertisement -

ঘটনা প্রসঙ্গে সঞ্জীব মণ্ডল ও মানিক মণ্ডল আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, ‘ভোট শেষ। তাই এখন আর আমাদের কথা কেউ মনে রাখে না। মনে রাখেনি সরকারও। সেই কারণে কোভিডের তৃতীয় ঢেউয়ের আগেও করোনার টিকা পাইনি। টিকার জন্য বহুবার পাল্লারোডের স্বাস্থ্য কেন্দ্রে লাইনে দাঁড়িয়েও লাভ হয়নি।’ এমনকি এবিষয়ে মৌখিকভাবে বিডিওকে জানানো হয়েছিল বলেও দাবি করেন তাঁরা। তাতেও কোনও কাজ হয়নি বলেই আক্ষেপ খর্বকায় ভাতৃদ্বয়ের।

মেমারি-১ এর বিডিও আলি মহম্মদ ওয়ালিউল্লাহ বলেন, ‘তাঁরা যোগাযোগ করেননি এবিষয়ে। অতিদ্রুত তাঁদের টিকাকরণের ব্যবস্থা করা হবে।’