ব্রাজিল ফাইনাল না খেললে অঘটন হবে

ব্রাজিল-৪ (স্যান্ড্রো, নেইমার, রিবেইরো, রিচার্লিসন)  পেরু-০

মেহতাব হোসেন : ভেনেজুয়েলার পর পেরু। তিন গোলের পর চার গোল। ব্রাজিল আছে ব্রাজিলের মতোই।

- Advertisement -

ভোরে খেলার শুরুতেই ব্রাজিলের প্রথম একাদশ দেখে চমকে গিয়েছিলাম। মোট ছটি পরিবর্তন। কিন্তু তাতে কী?

দলটার নাম ব্রাজিল। জার্সির রং হলুদ। আর অত্যন্ত শক্তিশালী রিজার্ভ বেঞ্চ। নিট ফল, ৪-০ গোলে পেরুর চূর্ণ হওয়া। টিটের দলের ভারসাম্য এতটাই ভালো যে, যাঁরাই মাঠে নামবেন, তাঁরাই ফুল ফোটাবেন। তাছাড়া জোড়া ম্যাচে ৭ গোল করে ফেলার পাশে কোনও গোল হজম না করা ব্রাজিলকে আগামীর লক্ষ্যে আরও চাঙ্গা রাখবে। তাই নেইমারদের দ্বিতীয় ম্যাচের পরই আমার পূর্বাভাস, এই দল ফাইনালে যাবেই। ব্রাজিল ফাইনালে না গেলে সেটা হবে অঘটন।

কোপা নিশ্চিতভাবেই বিশাল মাপের প্রতিযোগিতা। কিন্তু তার থেকেও বড়ো হল বিশ্বকাপ। ব্রাজিলের দুটো ম্যাচ দেখার পর আমার মনে হচ্ছে, টিটের দল কোপায় খেললেও মানিসকভাবে ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের কথা ভাবতে শুরু করেছে। আসলে চ্যাম্পিয়ানদের মনোভাব তো এমনই হয়। ভেনেজুয়েলা ম্যাচের পরই লিখেছিলাম, এই ব্রাজিল দলটা শুধু নেইমার নির্ভর নয়। সব পজিশনেই দুর্দান্ত মানের একাধিক ফুটবলার রয়েছে। ফলে নেইমারের মতো তারকার কাজটাও সহজ হয়ে যাচ্ছে।

খেলার ১২ মিনিটের মাথায় নেইমারের ক্রস থেকে গ্যাব্রিয়েল জেসুস যে বলটা বাড়িয়েছিলেন স্যান্ড্রোকে, সেখান থেকে গোল হওয়ারই কথা ছিল। ভুল করেননি স্যান্ড্রো। এক গোলে এগিয়ে থাকার পর দ্বিতীয়ার্ধে যে আগ্রাসন দেখলাম থিয়াগো সিলভাদের ফুটবলে, তা অবিশ্বাস্য। যার ফল ফ্রেডের পাস থেকে ৬৮ মিনিটে নেইমারের গোল। দুই ম্যাচে দুটো গোল পাওয়ার পর নেইমার সাফল্যের জন্য নিশ্চিতভাবেই আরও সক্রিয় হবে বাকি ম্যাচগুলোয়। শেষ দিকে রিবেইরো, রিচার্লিসনের গোলও টানা আক্রমণেরই ফসল।

ব্রাজিল দলের বেশিরভাগ ফুটবলারই ইউরোপের নানা ক্লাবে নিয়মিত খেলেন। তাছাড়া শেষ বিশ্বকাপের তুলনায় এই দলটা এখন অনেক অভিজ্ঞ। শেষ কয়েক বছর আন্তর্জাতিক স্তরে ব্রাজিলের তেমন সাফল্য নেই। তাই এবার কোপায় ওদের সাফল্যের খিদে একটু বেশিই। আর এই খিদে মেটাতে গিয়ে নেইমাররা যত ম্যাচ জিতবে, দল হিসেবে ওদের আরও ভয়ঙ্কর দেখাবে।