গৌতম দাস, গাজোল : বিয়েতে নিমন্ত্রিত অতিথিদের কাছ থেকে উপহার পাওয়ার পরই তাঁদের হাতে তুলে দেওযা হচ্ছে একটি করে চারাগাছ। সঙ্গে অনুরোধ, গাছটিকে লাগিয়ে যেন সঠিকভাবে লালনপালন করে বাঁচিয়ে রাখা সবুজ বাঁচানোর লক্ষ্যে নিজের বিয়েতে এই বার্তা ছড়িয়ে দিলেন পাত্রী নিজেই। পাত্রীর কাছ থেকে এই ধরনের রিটার্ন গিফট পেয়ে খুশি আমন্ত্রিত অতিথিরাও। সবুজ বাঁচানোর লড়াইয়ে পাত্রীর এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন তাঁরা।

গাজোলের শিক্ষকপল্লি এলাকার বাসিন্দা সায়ন্তি বিশ্বাসের বিয়ে অনুষ্ঠান ছিল গাজোলের একটি বেসরকারি লজে। পাত্র ত্রিপুরার আগরতলার বাসিন্দা দীপজ্যোতি রায়। বিয়েতে নিমন্ত্রিত ছিলেন প্রায় ৫০০ জন। নির্দিষ্ট সময়ে উপহার হাতে বিয়ে আসরে আসতে শুরু করেন আমন্ত্রিতরা। পাত্রীর হাতে উপহার তুলে দেন তাঁরা। সঙ্গে সঙ্গেই পাত্রীর পক্ষ থেকে আমন্ত্রিত অতিথিদের হাতে তুলে দেওয়া হয় একটি করে চারাগাছ।

হঠাত্ এই ধরনের উদ্যোগ কেন? উত্তরে সায়ন্তি বলেন, এই দিনটা আমার জীবনে একটি স্মরণীয় দিন। আমার বিয়ে উপলক্ষ্যে প্রচুর আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব এবং পরিচিতরা এসেছেন। আমন্ত্রিত অতিথিরাও আসছেন। তাঁদের কাছে এদিন আমি একটি বার্তা ছড়িয়ে দিতে চেয়েছি। আমাদের চারপাশে সবুজ দিনদিন কমে যাচ্ছে। পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য প্রথম প্রয়োজন সবুজায়ন। কিন্তু এই সবুজকে বাঁচিয়ে রাখার বড়ই অভাব। তাই সবুজ বাঁচিয়ে পরিবেশকে বাঁচাতে এই ছোট্ট উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। আমন্ত্রিত অতিথি এবং আত্মীয়স্বজনদের হাতে গাছের চারা তুলে দিয়ে আমি আবেদন করছি, আপনারা আমাদের আশীর্বাদ করুন। পাশাপাশি প্রকৃতিকে ভালো রাখতে যে চারাগাছ আপনাদের হাতে তুলে দিচ্ছি, তাকে সঠিকভাবে লালনপালন করুন। বাঁচিয়ে রাখুন। সবার হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে শাল, সেগুন, মেহগিনি ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের ফল, ফুল ও পাতাবাহারের গাছ। স্ত্রীর এই উদ্যোগে খুবই খুশি পাত্র দীপজ্যোতি রায়। তিনি বলেন, আমি খুবই গর্ববোধ করছি। সায়ন্তির সঙ্গে আমিও সকলের কাছে বার্তা ছড়িয়ে দিতে চাই-আসুন আমরা সবাই মিলে প্রকৃতিকে বাঁচাতে উদ্যোগী হই।

সায়ন্তির বাবা মনোজকুমার বিশ্বাস বলেন, মেয়ে নিজেই এই উদ্যোগ নিয়েছে। তার এই উদ্যোগকে সফল করার জন্য আমরা শুধু সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলাম। আমার মেয়ে ব্যক্তিগতভাবে এই উদ্যোগ নিয়েছে। নিজের বিয়ে দিনকেই সে বেছে নিয়েছে সবুজ বাঁচানোর বার্তা ছড়িয়ে দেওযার জন্য। আমন্ত্রিতরা সবাই এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। আমন্ত্রিত অতিথি দীপক ঘোষ বলেন, অসাধারণ উদ্যোগ। আমরা সায়ন্তির এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাচ্ছি। ওর হাতে উপহার তুলে দেওযার পর ও পালটা একটি চারাগাছ আমার হাতে তুলে দিয়েছে। বিয়েত ভোজ খেয়ে পান চিবোতে চিবোতে বাড়ির পথে যাওয়ার সময় আমন্ত্রিতরা সবাই আলোচনায় মশগুল পালটা উপহার নিয়ে। সবার গলাতেই এক সুর, এই গাছ বাঁচিয়ে রাখতেই হবে।