বধূ খুনের পর্দাফাঁস, গ্রেপ্তার স্বামী ও শাশুড়ি

499

বর্ধমান: পরিকল্পনা করে বধূকে খুন করার পর আত্মহত্যার তত্ত্ব খাড়া করেও পার পেলেন স্বামী ও শাশুড়ি। ময়নাতদন্তের রিপোর্টেই ফাঁস হয়ে যায় বধূ নাসরিন শেখ (২২)কে খুনের ঘটনার রহস্য। বধূর দাদার দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে পূর্ব বর্ধমানের মেমারি থানার পুলিশ মঙ্গলবার রাতে মৃতার স্বামী ও শাশুড়িকে গ্রেপ্তার করে। ধৃতরা হল স্বামী শেখ গোলাম কওসর ও শাশুড়ি আনজারা শেখ। তাদের বাড়ি মেমারি থানার মণ্ডল গ্রাম সংলগ্ন গয়েশপুরে। পুলিশের দাবি জেরায় ধৃতরা বধূকে খুনের কথা কবুল করেছে। সুনির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজুকরে পুলিশ বুধবার ধৃতদের বর্ধমান আদালতে পেশ করলে বিচারক তাদের পাঁচ দিন পুলিশি হেপাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন বধূর বাবার বড়ির লোকজন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতার শ্বশুর আব্দুল গফ্ফুর মেমারির বড়পলাশন ১ গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূলের প্রাক্তন প্রধান। তাঁর ছেলে ধৃত কওসর ওই পঞ্চায়েতেরই অস্থায়ী কর্মী। বধূ নাসরিনের বাবার বাড়ি জেলার নাদনঘাট থানার আকবরপুরে।

- Advertisement -

মৃত বধূর দাদা নুরুল ইসলাম মল্লিক লিখিত অভিযোগে পুলিশকে জানিয়েছেন, ‘বাংলার ১৪১৯ সালের ২১ চৈত্র তাঁর বোনের বিয়ে হয়।নাসরিনের একটি শিশু কন্যা রয়েছে। নরুলের অভিযোগ, বিয়ের সময়ে বোনের শ্বশুর বাড়ির দাবি মতো ১৪ ভরি সোনার গয়না ও নগদ চার লক্ষাধিক টাকা তাঁরা দেন। এতকিছু দেওয়ার পরেও শ্বশুর বাড়ির লোকজন অতিরিক্ত পণের দাবিতে তাঁর বোনের উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতো। নির্যাতন সহ্য করেও বোন শ্বশুর বাড়িতে রয়ে গিয়েছিল। সপ্তাহ দুয়েক আসে নাসরিন বাবার বাড়িতে এসে নির্যাতনের কথা জানালে ৫০ হাজার টাকা তার হাতে দিয়ে শ্বশুর পাড়িতে পাঠানো হয়।’
এদিন নুরুল বলেন, ‘টাকা নিয়েও শ্বশুর বাড়ির লোকজন পরিকল্পনা করে তাঁর বোনকে প্রাণে মেরে দিল।’

মৃতার পরিবারের অন্য সদস্য ও এলাকাবাসী বলেন, গত সোমবার দুপুরে বধূর শ্বশুর বাড়ির লোকজন প্রথমে বলেন ছাদে কাপড় মেলতে গিয়ে পড়ে যাওয়ায় নাসরিনের মৃত্যু হয়েছে। যদিও মৃতদেহ দেখে স্থানীয় বাসিন্দাদের কারুরই মনে হয়নি বধূ নাসরিন ছাদ থেকে পড়ে গিয়ে মারা গিয়েছেন।

স্থানীয়রা এমন সন্দেহের কথা বলায় পরে বধূর শ্বশুর বাড়ির লোকজন বলেন, নাসরিন ছাদ থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছে।
শ্বশুর বাড়ির লোকজন এই সব দাবি করলেও নাসরিনের মৃতদেহ দেখে পুলিশেরও সন্দেহ হয় । কারণ দোতলা বাড়ির ছাদ থেকে পড়ে গেলেও নাসরিনের গোটা শরীরে কোথাও আঘাতের চিহ্ন ছিল না। শুধু মাথার পিছনে ছিল গভীর ক্ষত। নাসরিনের মৃত্যু রহস্যের সব পর্দা ফাঁস হয়ে যায় ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পুলিশের হাতে আসার পরেই।

ওই রিপোর্ট হাতে আসার পর পুলিশ নিশ্চিৎ হয় লোহার রড জাতীয় ভারী কিছু দিয়ে মাথায় আঘাত করে বধূ নাসরিনকে ‘খুন’ করা হয়েছে। এরপরেই ঘটনার ৪৮ ঘন্টার মধ্যে পুলিশ অভিযুক্ত বধূর স্বামী ও শাশুড়িকে গ্রেপ্তার করে।