ময়নাগুড়ি : ময়নাগুড়ি মরিচবাড়ি এলাকায় ধরলা নদীর ওপর সেতুটি বিপদজনক হয়ে পড়েছে। বেহাল সেতুটি যেকোনো সময় ধসে গিয়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে৷ বর্তমানে সেতুর মাঝের অংশ বসে গিয়েছে। এছাড়াও সেতুর নিচের দিকের একাধিক জায়গা ভেঙে গিয়েছে। বিপদজ্জনক এই সেতুটির ওপর দিয়ে নিত্যদিন যাতায়াত করছেন কয়েক হাজার মানুষ। এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, খুব তাড়াতাড়ি পুরোনো এই সেতুটি ভেঙে দিয়ে নতুন করে সেতু তৈরি হোক৷ জলপাইগুড়ি জেলাপরিষদের সহ সভাপতি দুলাল দেবনাথ জানিয়েছেন, ‘সেতুটি রক্ষণাবেক্ষণের ব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

ময়নাগুড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের মৌয়ামাড়ি এবং বার্নিশ গ্রাম পঞ্চায়েতের মরিচবাড়ি এলাকার সংযোগ স্থলে অবস্থিত ধরলা সেতু। সেতুটি জলপাইগুড়ি জেলাপরিষদের অন্তর্গত। বেশ কয়েকবছর ধরেই সেতুটি বিপজ্জনক । বছর দেড়েক আগে সেতুর দুপাশের অংশ কংক্রিট দিয়ে বাধ তৈরি করা হয়৷ কিন্তু সেতুটির মাঝে বসে যাওয়া অংশের কোনো মেরামত হয়নি। এছাড়া গোটা সেতুতেই বড়ো বড়ো ফাটল রয়েছে। বিভিন্ন অংশ থেকে লোহার রড বেরিয়ে এসেছে। সেতুর ওপরের দুপাশের রেলিংগুলিও পুরোপুরি ভেঙে গিয়েছে। বেহাল অবস্থার জন্য কয়েক বছর আগে এই সেতু দিয়ে ভারী যান চলাচল বন্ধ করে দেয় প্রশাসন৷ কিন্তু সেতুর ওপর দিয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করে কয়েকশো ছোটগাড়ি, বাইক সহ অন্যান্য যানবাহন৷

২৭ জাতীয় সড়ক বাদ দিলে এই পথটি ময়নাগুড়ি থেকে জলপাইগুড়ি যাওয়ার জন্য বিকল্প পথ হিসেবে ব্যবহার করা হয়৷ সেতুটিতে রাতের বেলায় কোনো আলোর ব্যবস্থা না থাকায় রাতের দিকে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বেড়ে যায়।

ময়নাগুড়ি পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি ঝুলন সান্যাল জানান, ‘ওই জায়গায় নতুন সেতু তৈরির ব্যাপারে শিলিগুড়ি-জলপাইগুড়ি উন্নয়ন কতৃপক্ষের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে।’ জলপাইগুড়ি জেলা পরিষদের সহকারি সভাধিপতি দুলাল দেবনাথ জানান, ‘জেলার দুর্বল সেতুগুলির স্বাস্থ পরীক্ষা করা হয়েছে। তারমধ্যে এই সেতুটি রয়েছে৷ খুব তাড়াতাড়ি সেতুটি সংস্কারের ব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়া হবে৷’

ছবি- এই সেতু দিয়েই যাতায়াত চলছে।

তথ্য ও ছবি- অভিরূপ দে