ঝোরার সেতু বসে গিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

বিদেশ বসু, মালবাজার : মাল ব্লকের রাঙ্গামাটি গ্রাম পঞ্চায়েতের নিদাম চা বাগানের শুখাঝোরার ওপরে অবস্থিত সেতুটি মাঝবরাবর বসে গিয়েছে। প্রশাসন এবং পুলিশ ব্যারিকেড লাগিয়ে সেতুর ওপর দিয়ে যাতায়াত বন্ধ করে দিয়েছে। এটি বাগানের যোগাযোগের একমাত্র পথ হওয়ায় নিদাম চা বাগান এবং পার্শ্ববর্তী রাঙ্গামাটি চা বাগানের নয়া কামান ডিভিশনের বাসিন্দারাও চরম বিপাকে পড়েছেন। বর্তমানে ঝোরার ওপর দিয়ে জল পেরিয়ে কোনওক্রমে যাতায়াত চলছে। এই পরিস্থিতিতে একপ্রকার বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বাগানটি। সংশ্লিষ্ট মহলগুলি পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছে।

মাল ব্লকের নিউ মাল জংশন রেলওয়ে স্টেশনের পিছনদিকে রয়েছে নিদাম চা বাগান। বাগানের স্থায়ী শ্রমিক সংখ্যা ৬০০। বাসিন্দাদের সংখ্যা পাঁচ হাজারেরও বেশি। গোড় লাইনের পাশে শুখাঝোরা রয়েছে। সম্প্রতি প্রবল বৃষ্টিতে শুখাঝোরা ফুলেফেঁপে ওঠে। জলস্রোতের ধাক্কায় সেতুটি বসে যায়। সেতুটি বহু বছর আগে জলপাইগুড়ি জেলা পরিষদের তত্ত্বাবধানে তৈরি। বাগানের ম্যানেজার অলোক শর্মা বলেন, সেতুর বর্তমান দশা বিপজ্জনক। পুলিশ এবং প্রশাসনের তরফে লোহার ব্যারিকেড লাগিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ করা হয়েছে। আমাদের চা পাতার গাড়ি রাঙ্গামাটি চা বাগান হয়ে ঘুরপথে যাতায়াত করছে। বাগানের অ্যাম্বুল্যান্স এবং অন্য যানবাহন চলাচলে সমস্যা হচ্ছে। আমাদের বাগান ক্ষতির মুখে পড়েছে।

- Advertisement -

বাগানের বড়বাবু অরূপ গুহ মজুমদার বলেন, আমাদের বাগানের সঙ্গে অন্য এলাকার যোগাযোগ রক্ষাকারী এই সেতু দিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ। এর জেরে সকলেই সমস্যায় পড়েছেন। সেতুর স্তম্ভ বসে গিয়েছে। বাগানের ফ্যাক্টরি লাইনের বাসিন্দা অজিত মেহার বলেন, প্রতিদিনই বিভিন্ন কাজে মাল শহর সহ অন্য এলাকায় আসতে হয়। সেতু বন্ধ থাকায় আমরা দুর্ভোগে পড়েছি। উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের মাধ্যমে বাগানে যাতায়াতের জন্য পাকা রাস্তা তৈরি করা হয়েছিল। সেতু বেহাল হয়ে পড়ায় সমস্যা আরও বেড়েছে।

বাগান কর্তৃপক্ষ সহ মাল থানার ওসি শুভাশিস চক্রবর্তী, রাঙ্গামাটি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান অশোক চিকবড়াইক সেতুটি পরিদর্শন করেছেন। শুভাশিসবাবু বলেন, আপাতত ওই বিপজ্জনক সেতু দিয়ে চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। রাঙ্গামাটি চা বাগানের বাসিন্দা তথা মালের বিধায়ক বুলু চিকবড়াইক বলেন, আমি ওই সেতুর দশা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল। আমি সংশ্লিষ্ট মহলগুলিতে ওই সেতুর পুনর্নির্মাণের আবেদন জানাচ্ছি। জলপাইগুড়ি জেলা পরিষদের সহকারী সভাধিপতি দুলাল দেবনাথ বলেন, আমি ওই সেতুর বিষয়টি খোঁজ নিচ্ছি। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে।