নির্মাণ শেষের আগেই ধসে পড়েছে ঝুলন্ত সেতু

সৌরভ রায়, ফাঁসিদেওয়া : তৈরির আগে ধসে পড়েছে নির্মীয়মাণ ঝুলন্ত সেতু। ফাঁসিদেওয়া ব্লকের ঘোষপুকুর গ্রাম পঞ্চায়েতের গিরমিত লাইনে টুনা নদীর ওপর সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছিল কয়েকমাস আগে। ইতিমধ্যেই, সেতুর দুধারে পিলার তৈরি হয়েছে। কিন্তু, সেতু তৈরির আগেই ভিত সহ পিলার ধসে পড়েছে। বিষয়টি নিয়ে গ্রামবাসীদের মধ্যে ক্ষোভ জমেছে। বাসিন্দাদের অভিযোগ, ঠিকাদার সংস্থা নিম্নমানের কাজ করেছে বলেই সেটি ভেঙে পড়েছে। এমনকি নদীর তলায় পিলারের রডও বেরিয়ে এসেছে। অবিলম্বে পুরোনো সেতু ভেঙে পুনর্নির্মাণের দাবি তুলেছেন গ্রামবাসীরা। শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের সভাধিপতি তাপস সরকার জানিয়েছেন, নদীর পাড়ে থাকা সেতুর একটি পিলার জলের তোড়ে ভেঙে পড়েছে। এবারে নদী থেকে দূরে সেটি তৈরি করে দেওয়া হবে। নির্মাণকাজ এখনও সম্পন্ন হয়নি।

চলতি বছর ২১ জানুয়ারি শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের সভাধিপতি সেতুর নির্মাণকাজের শিলান্যাস করেন। মহকুমা পরিষদের ১৯ লক্ষ ৮৭ হাজার টাকা ব্যয়ে ৬০ মিটার দীর্ঘ শিলিগুড়ির প্রথম ঝুলন্ত সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হয়। দীর্ঘদিন থেকেই গয়াগঙ্গা চা বাগানের নিউলাইন সহ একাধিক গ্রামের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা বেহাল ছিল। তাই এলাকাবাসী নদীর ওপর সেতু নির্মাণের দাবি করেছিলেন। পরপর তিনবার টেন্ডার বাতিল হলেও শেষবারের মতো টেন্ডার করে কাজ শুরু করা হয়েছিল। কিন্তু, লকডাউনের কারণে নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর বর্ষায় নদীর জল বেড়ে যাওয়ায় আনলক পর্বে সেতু নির্মাণের বরাতপ্রাপ্ত ঠিকাদার সংস্থা কাজ শুরু করতে পারেনি। ফলে নদী ডিঙিয়ে সাধারণ মানুষকে যাতায়াত করতে হচ্ছে। নদীর দুধারে থাকা গয়াগঙ্গা চা বাগানের গিরমিত লাইন, নিউ লাইন, মুনসি লাইন, খাল লাইন, কুচিয়া লাইন, বজরু লাইন, চার্চ মোড় সহ একাধিক গ্রাম মিলিয়ে প্রায় পাঁচ হাজারেরও বেশি মানুষ যাতায়াতে সমস্যায় পড়েছেন।

- Advertisement -

মুমূর্ষু রোগীকে চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে যেতে গ্রামবাসীরা বিপাকে পড়ছেন। স্কুল চলাকালীন পড়ুয়ারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হেঁটে নদী পারাপার করে। নিউ লাইনের বাসিন্দা ফিলিক্স লাকড়া বলেন, ঠিকাদার সংস্থা ঢালাইয়ে অযোগ্য টুনা নদীর বালি দিয়ে সেতু নির্মাণের কাজ করেছে। সেতু নির্মাণে প্রয়োজনের তুলনায় হালকা রড ব্যবহার করেছে। এমনকি সিমেন্টের মশলাও ভালোভাবে তৈরি করা হয়নি। তাঁর অভিযোগ, পিলারের থেকে সিমেন্ট ও বালি খসে পড়েছে। একটি পিলার তো ভেঙে পড়েছে। নদীর নীচে সেতুর ভিতের রড বেরিয়ে পড়েছে। একেবারেই নিম্নমানের কাজ হয়েছে। সঞ্জীব কুজুর নামে এলাকার অপর বাসিন্দা বলেন, নদীতে বর্ষার সময় অনেক জল হয়। সেই অনুপাতে ছোট সেতু তৈরি করা হচ্ছে। এখানে বড় সেতু প্রযোজন। অবিলম্বে পুরোনো সেতুর ভিত ভেঙে নতুন করে বড় সেতু নির্মাণ করতে হবে বলে গ্রামের একাধিক বাসিন্দা দাবি তুলেছেন।