পুজোয় চরতোর্ষা ডাইভারশন নিয়ে উদবেগ

412

ফালাকাটা : এবার পুজোয় বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়ে দিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। তাই পুজোর আগে ও পুজোর সময় ফালাকাটা-সোনাপুর জাতীয় সড়কের ভাঙাচোরা চরতোর্ষা ডাইভারশন নিয়ে উদবিগ্ন নানা মহল। ব্যবসায়ী, সাধারণ মানুষ ও পুজোর উদ্যোক্তারাও এনিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

চলতি বর্ষায় বেশ কয়েকবার এই ডাইভারশন জলমগ্ন থাকায় সড়ক পথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয় ফালাকাটা ও আলিপুরদুয়ার। পুজোয় সেরকম হলে বিপাকে পড়বেন কয়েক হাজার মানুষ। এদিকে পুজোর দিন এগিয়ে এলেও জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ বেহাল ডাইভারশনটি সারানোর ব্যবস্থা করছে না বলে অভিযোগ। ভাঙাচোরা ডাইভারশন দিয়ে বিপজ্জনকভাবে যানবাহন চলাচল করছে। পুজোয় যানবাহনের সংখ্যা আরো বাড়বে। তাই ডাইভারশনটি দ্রুত সারানোর দাবি তুলেছেন বাসিন্দারা। জাতীয় সড়ক(এনএইচএআই) কতৃপক্ষের উত্তরবঙ্গের প্রোজেক্ট ডিরেক্টর প্রদ্যুত দাশগুপ্ত বলেন, ‘চরতোর্ষা ডাইভারশনটি পুজোর আগে যাতে সংস্কার করা হয় সে কথা নির্মাণকারী সংস্থাকে জানাচ্ছি।’

- Advertisement -

ফালাকাটা-সলসলাবাড়ি ৪১ কিমি রাস্তায় চার লেনের মহাসড়কের কাজ চলছে। কিন্তু এখনও এই রাস্তায় থাকা কোনো পাকা সেতুর কাজ শুরু হয়নি। বাসিন্দাদের সব থেকে বেশি ভোগান্তি হচ্ছে ফালাকাটা ও সোনাপুরের মধ্যে থাকা চারটি কাঠের সেতুর কারনে। তারমধ্যে ২০১৭ সালে ভেঙে যায় চরতোর্ষা কাঠের সেতু। পাশে তৈরি হিউম পাইপের ডাইভারশন দিয়ে দূরপাল্লার ও স্থানীয় যানবাহনগুলি চলাচল করছে। কিন্তু ডাইভারশনটি অনেকটা নীচুতে থাকায় গত বারের মতো এবারও বেশ কয়েকবার জলের তোড়ে ভেঙে যায়। পরে জোড়াতালি দিয়ে ডাইভারশনটি সারানো হয় বলে অভিযোগ। ডাইভারশনের দু’দিকের অ্যাপ্রোচ রাস্তা ভাঙাচোরা অবস্থায় রয়েছে। আবার ডাইভারশনের মাঝামাঝিতেও বেশ কয়েক জায়গায় বড়ো গর্ত রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিপজ্জনকভাবে যান চলাচল করছে। তাই দুর্গাপুজোর কথা ভেবে চিন্তিত অনেকেই।

এই ডাইভারশনের কারনে সব থেকে বেশি আর্থিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। শিলবাড়িহাট ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক তথা মহাসড়কের কারনে গঠিত আলিপুরদুয়ার ব্যবসায়ী সংগ্রাম কমিটির সম্পাদক গোবিন্দ বিশ্বাস বলেন, ‘এজন্য শিলবাড়িহাট, শালকুমারহাট, সাহেবপোঁতা, সোনাপুর, বাবুরহাট, ঘরঘরিয়ার ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। মহাজনদের কাছ থেকে পুজোর জিনিস ঘুরপথে আনতে পরিবহণ খরচ বেশি লেগেছে। পুজোতেও যদি বৃষ্টির কারণে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয় তাহলে আরও বিপাকে পড়তে হবে ব্যবসায়ীদের।’ তাই পুজোর আগেই ডাইভারশনটি সারাইয়ের দাবি তোলেন তিনি।

কালীপুরের মৃৎশিল্পী যতীন পাল বলেন, ‘এই ভাঙাচোরা ডাইভারশনের জন্য এবার বেশ কিছু প্রতিমার বায়না পাইনি। কারন ওই ডাইভারশন দিয়ে গাড়িতে করে প্রতিমা কেউ নিতে পারবে না।’ বাবুরহাট সর্বজনীন পুজো কমিটির সম্পাদক তাপস বর্মন বলেন,’পুজোয় প্রচুর যানবাহন চলাচল করবে। ডাইভারশনটি ভাঙাচোরা অবস্থায় থাকলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।’ শিশাগোড় পুজো কমিটির সভাপতি ভবেশ্বর বর্মন বলেন,’এখানকার ঐতিহ্যবাহী দশমী মেলায় হাজার হাজার মানুষ আসেন। পুজোর সময় ওই ডাইভারশনের জন্য কোনো কারনে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়লে তার প্রভাব মেলায় পড়বে।’ তাই বিভিন্ন মহল থেকে পুজোর আগেই ডাইভারশনটি ভালোভাবে সারাই করার দাবি উঠেছে।

এনএইচএআই-এর প্রোজেক্ট ডিরেক্টর প্রদ্যুৎ দাশগুপ্ত অবশ্য জানিয়েছেন, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

ছবি :চরতোর্ষার ভাঙাচোরা ডাইভারশন

তথ্য ও ছবি : সুভাষ বর্মন