প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে মহানন্দায় পারাপার

মুরতুজ আলম, সামসী : হুহু করে জল বাড়ছে মহানন্দায়। তার মধ্যে দিয়ে প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে নদী পারাপার করতে হচ্ছে স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের। রতুয়ার চাতরঘাটে সেতু না থাকায় নৌকাই ভরসা। নৌকা নিয়ে উত্তাল মহানন্দার পেরতে গিয়ে যে কোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে।

রতুয়া-২ ব্লকের চাতরঘাটে মহানন্দা নদীর ওপর পাকা সেতুর দাবিতে সরব হয়েছেন এলাকাবাসী। ওই নদীর ওপর সেতু না থাকায় নৌকো করে ঘাট পারাপার করতে হচ্ছে এলাকার বাসিন্দাদের। বর্ষার মরশুমে থাকে নৌকোডুবির আশঙ্কা। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, তাঁরা তাঁদের সমস্যার কথা বিভিন্ন স্তরের জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে প্রশাসনের বিভিন্ন মহলে জানিয়েছেন। কিন্তু সকলেই শুধু প্রতিশ্রুতি দিয়ে দায় সেরেছেন। তাই পাকা সেতুর দাবিতে গণআন্দোলনে নামার হুমকি দিয়েছেন এলাকার আপামর জনসাধারণ। সাধারণ মানুষের এই সমস্যার কথা লোকসভায় উত্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন মালদা উত্তর লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ খগেন মুর্মু।

- Advertisement -

স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল্লাহ আল মামুন, মির মহম্মদ, মুসারাফ হোসেন প্রমুখ বলেন, মহানন্দা নদীর ওপর চাতরঘাট দিয়ে রতুয়া-২ ব্লকের চাতর, রানিনগর, কুমারগঞ্জ, কুচিলা, টেকনা, মাগুরা প্রভৃতি গ্রামের মানুষ নিত্যপ্রয়োজনে যাতায়াত করেন। অন্যদিকে, গাজোল ব্লকের আলাল গ্রাম পঞ্চায়েতের মহাকালবোনা, উত্তর ও দক্ষিণ রাজারামচক, সুরমুনি, লক্ষ্মীনারায়ণপুর এবং বৈরগাছি পঞ্চায়েতের দেওয়ানি, বৈরগাছি গ্রামের মানুষও ওই ঘাট দিযে যাতায়াত করে থাকেন।

প্রতিদিন কয়োকশো মানুষ যাতায়াত করলেও মহানন্দার ওই ঘাটে পাকা সেতু হয়নি। বাঁশের সাঁকোও নেই। তাই ঘাটে থাকা ছোট্ট একটি ডিঙি নৌকাই ভরসা। প্রায় সময়ে অতিরিক্ত যাত্রী বহন করা হয় ডিঙি নৌকোটিতে। ফলে যেকোনো মুহূর্তে নৌকোডুবির আশঙ্কা থাকে। ঘাট পারাপারের মাশুলও অনেক। এনিয়ে সবার মধ্যেই ক্ষোভ দানা বাঁধছে। ওই ঘাটে পাকা সেতু না হওয়ায় এলাকার বাসিন্দাদের পাশাপাশি ক্ষোভ বাড়ছে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার পড়ুয়াদেরও।

প্রতিদিন চাতর ঘাট দিয়ে পার্শ্ববর্তী রাজরামচক হাই মাদ্রাসা, রানিনগর হাই মাদ্রাসা, কয়েকটি প্রাইমারি স্কুল ও কয়েকটি বেসরকারি স্কুলের হাজার হাজার ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও অশিক্ষক কর্মীরা যাতায়াত করেন। খুব কষ্ট করে নৌকোয় ঘাট পারাপার করতে হয় তাঁদের। এনিয়ে অনেকে অসন্তুষ্ট। যাত্রী বেশি থাকায় খুব আসতে চলে নৌকো। ফলে নদী পার হতে সময়ও বেশি লাগে। হাসপাতালে রোগী নিয়ে যেতেও সমস্যা হয় বাসিন্দাদের। সময়জনিত কারণে অনেক রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার আগেই মাঝপথে মারা যায়।

এই দুর্ভোগ কাটাতে তাই সকলেই চাইছেন, মহানন্দা নদীতে চাতর ঘাটে একটি পাকা সেতু হোক। রাজারামচক হাই মাদ্রাসার শিক্ষক রবিউল ইসলাম সহ আরও অনেকে বলেন, ঘাটে ঠিকমতো নৌকো মেলে না। একটা ছোট্ট ডিঙিতে চেপেই নদী পারাপার করতে হয়। নদী পার হতে অনেকটা সময় লাগে। ফলে ইচ্ছা থাকলেও প্রতিদিন সময়মতো মাদ্রাসায় পৌঁছাতে পারি না। এলাকার বাসিন্দারা বলেন, চাতর ঘাটে পাকা সেতু না হওয়াও চরম দুর্ভোগের শিকার আমরা। একটি সেতু তৈরি করে দেওয়ার জন্য বিধাযক, সাংসদ থেকে শুরু করে সকলকেই বলা হয়েছে। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। তাই পাকা সেতু নির্মাণের দাবিতে আন্দোলনে নামা ছাড়া কোনো বিকল্প পথ খোলা নেই।

এলাকার জেলাপরিষদ সদস্য সেতারা খাতুন বলেন, ওই ঘাটে পাকা সেতু নির্মাণের জন্য কুড়ি কোটি টাকার মতো খরচ হবে। জেলাপরিষদ মারফত উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন পর্ষদে চাতরঘাটে পাকা সেতু নির্মাণের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হবে। এলাকার বিধায়ক আলবিরুনি বলেন, চাতরঘাটে পাকা সেতু নির্মাণের বিষয়টি ইতিমধ্যে মুখ্যমন্ত্রীকে জানানো হয়েছে। সাংসদ খগেন মুর্মু বলেন, লোকসভার পরবর্তী অধিবেশনেই বিষয়টি উত্থাপন করা হবে।