মন্ত্রীর নির্দেশের এক বছর পরও হয়নি সেতু, সমস্যায় কয়েক হাজার মানুষ

233

রাঙ্গালিবাজনা: উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ সেতু তৈরির ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করে জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কর্তাদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেন এক বছর আগে। তবে আজও আলিপুরদুয়ার জেলার ফালাকাটা ও মাদারিহাট ব্লকের সীমানায় উত্তর দেওগাঁওয়ে মুজনাই নদীর ওপর সেতু তৈরির বিষয়টি বিশ বাঁও জলেই রয়ে গিয়েছে। ফলে, জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কর্তাদের ওপর বেজায় চটেছেন দুই ব্লকের কয়েক হাজার মানুষ।

দুই ব্লকেরই বাসিন্দারা জানিয়েছেন, সেতু তৈরির দাবিতে তাঁরা আন্দোলনে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আন্দোলনের অঙ্গ হিসেবে বিডিও অফিস ঘেরাও, জাতীয় সড়ক অবরোধ এমনকি ভোট বয়কটের ডাক দেওয়ারও চিন্তাভাবনা করছেন তাঁরা। মন্ত্রীর নির্দেশের এক বছর পরও সেতু হয়নি।

- Advertisement -

প্রসঙ্গত, গত বছরের ২৩ জানুয়ারি মাদারিহাট বীরপাড়া ব্লকের শিশুবাড়িতে একটি অনুষ্ঠানে এসে ২৮ বছর আগে বন্যায় মুজনাই নদীর ভেসে যাওয়া সেতু পুনর্নির্মাণে আগ্রহ প্রকাশ করে উপস্থিত দুই ব্লকের জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কর্তাদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। তবে এখনও পর্যন্ত দুই ব্লকের তরফে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রস্তাব পাঠানো ছাড়া আর ওই ব্যাপারে কোনও অগ্রগতি হয়নি। অথচ, ব্লক প্রশাসন অগ্রসর হলে একমাসের মধ্যে সেতু তৈরির প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শুরু করা হবে বলে জানিয়েছিলেন মন্ত্রী।

ফালাকাটার উত্তর দেওগাঁওয়ের লকিয়তউল্লাহ হাটের কাছে দুই ব্লকের সীমানা বরাবর বয়ে যাওয়া মুজনাই নদীর ওপর আগে পাকা সেতু ছিল। ১৯৯৩ সালের বন্যায় সেটি ভেসে যায়। ২৮ বছরেও পুনর্নির্মিত হয়নি সেতুটি। প্রতিবছর ঘাটটি ইজারা দেয় দেওগাঁও গ্রাম পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ। টিকিট কেটে বর্ষাকালে নৌকায় চেপে ও অন্য মরশুমে বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার করতে হয় দুই ব্লকের হাজার হাজার মানুষকে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, কোনও গাড়ি এমনকি মালবাহী ভ্যানরিকশাও ওই সাঁকোগুলির ওপর দিয়ে পার হতে পারে না। সবচেয়ে সমস্যা হয় কোনও অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময়। সেতু না হওয়ায় কাজে লাগছে না শিশুবাড়ি থেকে মুজনাই নদীর ঘাট পর্যন্ত তৈরি পাকা রাস্তাটিও।

তবে ফালাকাটা ও মাদারিহাট বীরপাড়া ব্লক প্রশাসন জানিয়েছে, সেতু পুনর্নির্মাণের প্রস্তাব উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে উদাসীনতার অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন জনপ্রতিনিধিরাও।