ফুলঝোরা পেরোতে ভরসা কাঠের সেতু

304

কৌশিক দাস, ক্রান্তি: প্রায় ২০ বছর ধরে মাল ব্লকের রাজাডাঙ্গার আনন্দপুরে ফুলঝোরা পারাপারে বাসিন্দাদের ভরসা কাঠের সেতু। রাজাডাঙ্গার কৈলাসপুর ডিভিশন, কৈলাসপুর, দেবীপুর, বারোঘরিয়া, বেতগুড়ি গ্রাম ছাড়াও আশপাশের বিভিন্ন গ্রামের প্রায় ৬ হাজারেরও বেশি বাসিন্দা এই কাঠের সেতুর ওপর দিয়ে যাতাযাত করেন। স্থায়ী সেতু না হওয়ায় তাঁরা ক্ষুব্ধ।

শীতকালে সেভাবে জল না থাকলেও বর্ষায় ঝোরা ফুলেফেঁপে ওঠে। কয়েক বছর আগে কাঠের সেতুটি তৈরি করা হলেও পরে সেটি আর সংস্কার করা হয়নি। ফলে কাঠের পাটাতনগুলি আলগা হতে শুরু করেছে। কাঠের সেতুটির দুপাশে কোনও রেলিং নেই। স্থানীয়রা জানান, জনপ্রতিনিধিদের কাছে বহুবার স্থায়ী সেতুর দাবি জানানো হলেও কোনও লাভ হয়নি। নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলের নেতারা পাকা সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে যান, কিন্তু পরে আর তা পূরণ হয় না বলে অভিযোগ।

- Advertisement -

এলাকায় একাধিক প্রাথমিক শিক্ষাকেন্দ্র, স্বাস্থ্যকেন্দ্র রয়েছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সারাবছর শিশু থেকে গর্ভবতী, সবাই ঝোরা পারাপার করেন। রাতে কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে নিয়ে যেতে সমস্যায় পড়তে হয়। স্থানীয় বাসিন্দা কিরণ চিকবড়াইক বলেন, ঝোরার ওপর স্থায়ী সেতু না থাকা আমাদের এলাকার অন্যতম সমস্যা। প্রায় ২০ বছর ধরে আমরা স্থায়ী সেতু নির্মাণের জন্য পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানাচ্ছি। ভোট আসছে, ভোট চলেও যাচ্ছে, কিন্তু সেতুর দাবি পূরণ হয় না।

নেতাদের থেকে শুধুমাত্র প্রতিশ্রুতিই শুনতে পাই। আরেক গ্রামবাসী বিশ্রাম ওরাওঁ বলেন, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দুর্বল কাঠের সেতুর ওপর দিয়ে আমরা পারাপার করি। সব কাজেই আমাদের ঝোরা পারাপার করে যাতায়াত করতে হয়। আমাদের কথা প্রশাসনের কানে যায় না। রিতা ওরাওঁ, রুম্পা ওরাওঁয়ের মতো খুদেরা জানায়, অনেকদিন সংস্কার না হওয়ায় সেতুটি দুলতে থাকে। রেলিং না থাকায় যাতায়াতের সময় তাদের ভয় করে।

স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যা উগিতা লাকড়া বলেন, পাকা সেতু না হওয়ায় প্রতিনিয়ত গ্রামবাসীদের ক্ষোভের মুখে পড়তে হয়। আমাকেও অঞ্চল অফিস অথবা কাজে যেতে হলে দুর্বল সেতুর ওপর দিয়ে যেতে হয়। গ্রামবাসীদের স্বার্থে এখানে পাকা সেতু নির্মাণ করা প্রয়োজন। রাজাডাঙ্গা গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান আবদুল মোতালেব হোসেন বলেন, পাকা সেতু নির্মাণের জন্য যাবতীয় কাগজপত্র ওপরমহলে পাঠানো হয়েছিল। আশা করছি দ্রুত সেতুর কাজ শুরু হবে।

জেলা পরিষদের সহকারী সভাধিপতি দুলাল দেবনাথ জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।