মেলেনি পাকা সেতু, ভোটের মুখে ক্ষোভে ফুঁসছেন বাসিন্দারা

103

হলদিবাড়ি: ২০১৬ সালে বিধানসভা ভোটের প্রচারে স্থানীয় নেতৃত্বের সঙ্গে বিভিন্ন এলাকার অলিগলি চষে ফেলেন বিধায়ক অর্ঘ্য রায় প্রধান। সেসময় সাধারণ মানুষ তাঁর সামনে এলাকার বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন। এলাকার উন্নয়নে ও সাধারণ মানুষের সমস্যা সমাধানে একাধিক আশ্বাসও দেন তিনি। বিধায়কের আমলে উল্লেখযোগ্য কিছু উন্নয়ন হলেও টানা পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও এলাকার কিছু সমস্যা সমাধানে উদ্যোগই নিতে পারেননি তিনি। এর মধ্যে হলদিবাড়ি ব্লকের পারমেখলিগঞ্জ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার ১৯ বাজেজমা মৌজার দহলাপাড়ার কাউয়াসুতি নদীর ওপর সেতু একটি।

ওই গ্রাম পঞ্চায়েতের ১৯ বাজেজমা মৌজার দহলাপাড়া এবং ডাঙ্গাপাড়া মাঝে কাউয়াসুতি নদীর ওপর কংক্রিটের সেতু গড়ার জন্য দু’পাশের বাসিন্দারাই দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছেন। এনিয়ে পাঁচ বছর আগে বিধায়কের আশ্বাস এবং পরবর্তীতে প্রস্তাবিত সেতু তৈরির জন্য একাধিকবার গ্রাম পঞ্চায়েত ও পঞ্চায়েত সমিতির ইঞ্জিনিয়ারদের এলাকা পরিদর্শনে বাসিন্দাদের মধ্যে আশা জেগেছিল। কিন্তু দীর্ঘদিনের দাবি শেষ পর্যন্ত পূরণ না হওয়ায় নির্বাচনের মুখে ক্ষোভে ফুঁসছেন দু’পাশের বাসিন্দারাই।

- Advertisement -

এলাকার বাসিন্দা বিকাশ রায় বলেন, ‘গত বিধানসভা ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই শুনে আসছি এখানে কংক্রিটের সেতু তৈরি হবে। এক নির্বাচন গিয়ে আরেক নির্বাচন ঘোষণা হলেও সেতু তৈরি নিয়ে কোনও উদ্যোগ চোখে পড়ল না। সারাবছর নড়বড়ে বাঁশের সাঁকোই আমাদের ভরসা। বিকল্প সড়ক না থাকায় ভরা বর্ষার সময় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নড়বড়ে সাঁকো দিয়ে নদী পারাপার করতে হয়। প্রতিদিন ওই এলাকার কৃষকরা উৎপাদিত কৃষি পণ্য নিয়ে হলদিবাড়ি পাইকারি বাজারে আসেন। এছাড়াও ওই এলাকা থেকে দেওয়ানগঞ্জ, হলদিবাড়ি শহরের স্কুল-কলেজে পড়তে আসে পড়ুয়ারা। সেতু তৈরি না হওয়ায় প্রতিদিন নড়বড়ে বাঁশের সাঁকোর ওপর দিয়ে প্রাণ হাতে নিয়ে যাতায়াত করতে হয় তাদের। পাকা সেতু হলে দু’পাশের মানুষেরই খুব উপকার হবে।’ এলাকার বাসিন্দা জতিশ বর্মন, মন্টু রায়, উমেশ বর্মন জানান, নদীর ওপর সেতু না থাকায় জরুরি পরিষেবা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন তাঁরা।

স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েতের মহিলা সদস্য শিবু বর্মন বলেন, ‘নদী পারাপারে মানুষের অসুবিধার কথা চিন্তা করে প্রতিবছর ওই স্থানে বাঁশের সাঁকো তৈরি করে দেওয়া হয়।’ বিধায়কের আশ্বাসের পাঁচ বছর পরেও ওই স্থানে সেতু তৈরি না হওয়া নিয়ে তৃণমূলের অঞ্চল কমিটির সভাপতি মানবেন্দ্রনাথ রায় বলেন, ‘ওই এলাকায় সেতু তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষ হলে সেই বিষয়ে তৎপরতা শুরু করা হবে।’