শিলান্যাসের পাঁচ মাস পার, মানগছে সেতুর কাজ শুরু হয়নি

314

সৌরভ রায়, ফাঁসিদেওয়া : দুই বছর আগে শিলিগুড়ি মহকুমার ফাঁসিদেওয়া ব্লকের মানগছে পিচলা নদীর ওপর থাকা একটি কংক্রিটের সেতু ভেঙে পড়েছিল। কিন্তু প্রশাসন এখনও সেখানে পাকা সেতু তৈরি করতে পারেনি। চলতি বছর মার্চ মাসে রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী গৌতম দেব নতুন সেতু তৈরির জন্য শিলান্যাস করেন। তারপর আরও ৫ মাস কেটে গিয়েছে। কিন্তু নির্মাণকাজ শুরু না হওয়ায় মাঝবরাবর ভেঙে যাওয়া সেতু দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত চলছে। গত দুবছরে তিনবার জলের তোড়ে সাঁকো ভেসে গিয়েছে। ফলে বর্ষা আর লকডাউনের দোহাই দিয়ে মন্ত্রী গা বাঁচাতে চাইলেও দ্রুত সেতু নির্মাণের দাবিতে সরব হয়েছেন এলাকাবাসী।

২০১৮ সালের ৭ সেপ্টেম্বর ইটবোঝাই লরির ভার সইতে না পেরে ফাঁসিদেওয়া এবং চটহাটের সংযোগকারী পিচলা নদীর ওপর থাকা মানগছ সেতু ভেঙে পড়ে। সেতু তৈরি না হওয়ায় স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার নিকরগছ, জাকিরগছ, গোয়ালগছ, মানগছ, নীচবাজার সহ একাধিক গ্রামের হাজার পাঁচেক মানুষ সমস্যায় পড়েছেন। ওইসব গ্রাম থেকে ফাঁসিদেওয়া কিংবা চটহাটে যাওয়ার জন্য গোয়ালটুলি মোড় হয়ে একটি বিকল্প রাস্তা রয়েছে। কিন্তু অনেকটা ঘুরপথে হওয়ার কারণে সেদিকে না গিয়ে ভাঙা সেতু দিয়ে যাতায়াত করতে স্বাছন্দ্য বোধ করেন বাসিন্দারা। মোটরবাইক, সাইকেল সবই চলাচল করে। চা বাগানের মহিলা শ্রমিকরাও শিশুকে কোলে নিয়ে রওনা হন। কৃষকরাও ওই পথে ফসল নিয়ে বাজারে যান। নানা টালবাহানার পর ওয়েস্টবেঙ্গল স্টেট রুরাল ডেভেলপমেন্ট এজেন্সির টাকায় শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের তত্ত্বাবধানে সেতু তৈরির কাজ শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু লাভ হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দা উত্তম রায় বলেন, ভাঙা সেতু পার হওয়ার সময় প্রায়ই বাইক পিছলে যেতে চায়। বর্ষায় ঝুঁকি বাড়ে। তখন বাধ্য হয়ে অনেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার ঘুরে গোয়ালটুলি হয়ে যাতায়াত করেন। অপর এক বাসিন্দা সুরেশচন্দ্র সিংহ বলেন, অবিলম্বে প্রশাসনের কাছে সেতু তৈরির দাবি জানাচ্ছি। পর্যটনমন্ত্রী গৌতম দেব জানিয়েছেন, বর্ষার কারণে সেতুর স্ট্রাকচার তৈরি, পাইলিং দেওয়ার কাজ করা সম্ভব হয়নি। তার আগে লকডাউন চলছিল। বর্ষা পেরোলেই সেতুর কাজ শুরু হয়ে যাবে। সেতু তৈরিতে বরাতপ্রাপ্ত নির্মাণকারী সংস্থাও একই কথা জানিয়েছে।

- Advertisement -