অকাল বৃষ্টিতে জল জমে নষ্ট বেগুন খেত, হতাশ চাষিরা

92

হেলাপাকড়ি: ক’দিন আগের অকাল বৃষ্টিতে জমিতে জল জমে বেগুন খেত নষ্ট হয়েছে। যে কারণে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন ময়নাগুড়ি ব্লকের ধর্মপুর ও বার্নিশ অঞ্চলের বেগুনচাষিরা। গত বছর করোনা অতিমারি ও লকডাউনের বেগুনের তেমন দাম মেলেনি। এবারও ভাল দাম পাবার আশায় বেগুন চাষ করেছেন এলাকার চাষিরা। কিন্তু কাল হয়েছে অকাল বৃষ্টি। যার ফলে এই দুই অঞ্চলের প্রায় ১০০ একর জমির বেগুন খেত নষ্ট হতে বসেছে। ক্ষতির পরিমাণ ক্রমশই বেড়ে চলেছে।

ধর্মপুর ও বার্নিশ গ্রাম পঞ্চায়েতের শাকারিয়াপাড়া, পোয়ারবাড়ি, চকোয়ারবাড়ি, দত্তপাড়া, দোকানেরবাড়ি এলাকার অধিকাংশ বাসিন্দা কৃষির ওপর নির্ভরশীল। এখানকার প্রধান অর্থকারী ফসল হল বেগুন। গত বছর করোনার কারণে বেগুন চাষে লাভ হয়নি। তাই চাষিদের অনেকেই এবার ঋণ মহাজন করে বেগুন চাষ করেছেন।

- Advertisement -

বেগুনচাষি উমেশচন্দ্র রায় বলেন, ‘প্রতিবার মাঘ-ফাল্গুন মাসে বেগুন লাগিয়ে বৈশাখ মাস থেকে শুরু করে বর্ষার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত বিক্রি করি। এবারও জমিতে বেগুন লাগিয়েছি এবং গাছ অনেকটাই বড় হয়েছে। কিন্তু গত সপ্তাহে আচমকা দু’দিনের বৃষ্টিতে চরম বিপত্তি দেখা দিয়েছে। জমিতে জল জমে বেগুন গাছ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে এলাকায় বিঘার পর বিঘা জমির বেগুন গাছ নষ্ট হয়ে গিয়েছে।’ অপর বেগুনচাষি নরেশ রায় বলেন, ‘লাভের আশায় ঋণ করে বেগুন লাগিয়েছি। কিন্তু যা অবস্থা তাতে কিভাবে সেই ঋণের টাকা শোধ করব তা ভেবে পাচ্ছি না।’ আরেক চাষি বাবুরাম বৈদ্য বলেন, ‘এলাকার প্রধান অর্থকরী ফসল বেগুন। এখানকার বেগুনের চাহিদাও ভালো। তাই পার্শ্ববর্তী বিহার রাজ্য থেকেও পাইকাররা বেগুন কিনতে এখানে ছুটে আসেন। প্রতিবছর এই এলাকা থেকে আনুমানিক প্রায় ১৫০ টন বেগুন রপ্তানি হয়। কিন্তু এবার অকাল বৃষ্টিতে জল জমে বেশিরভাগ জমির বেগুন গাছ নষ্ট গিয়েছে।’ এমতাবস্থায় সরকারি সাহায্য প্রার্থনা করছেন ধর্মপুর ও বার্নিশ গ্রাম পঞ্চায়েতের ক্ষতিগ্রস্ত বেগুনচাষিরা।