নয়াদিল্লি, ১৮ ফেব্রুয়ারিঃ কাশ্মীর প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকার প্রতিবাদে সরব হওয়ায় ব্রিটিশ লেবার পার্টির সাংসদ ডেবি আব্রাহামস-এর ভারতে প্রবেশে ভিসা খারিজ করার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে ডেবি আব্রাহামস দিল্লি বিমানবন্দরে নামেন। সেখানেই তাঁকে আটকে দেওয়া হয়। জানানো হয়, তাঁর ই-ভিসা বাতিল করা হয়েছে। এই ব্রিটিশ সাংসদ ব্যক্তিগত কাজে দু’দিনের জন্য ভারতে এসেছিলেন। তিনি অল পার্টি পার্লামেন্টারি গ্রুপের চেয়ারপার্সন। ভিসা বাতিলের খবরটি জানিয়ে তিনি টুইটে লিখেছেন, ‘আমাকে ভারতে ঢুকতে দেওয়া হল না। এখন তোড়জোড় চলছে ফেরত পাঠানোর, আমার সঙ্গে এমন ব্যবহার করা হচ্ছে যেন আমি দাগি অপরাধী।’ পুরো ঘটনার বিবরণ দিয়ে ডেবি লিখেছেন, ‘ভারতে আমার বহু আত্মীয়স্বজন রয়েছেন। তাঁদের সঙ্গে দেখা করতেই এবার দিল্লি এসেছিলাম, কিন্তু দেখা হল না।‘ এমিরেটস-এর বিমানে সোমবার সকাল ৮টা ৫০ মিনিট নাগাদ দিল্লি বিমানবন্দরে নামার পর বেরোনোর পথে বাধা দেওয়া হয়। তাঁর ই-ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা চলতি বছরের অক্টোবর মাসে। যদিও তাঁকে বিমানবন্দরে জানানো হয় যে, তাঁর ই-ভিসা বাতিল করা হয়েছে। ব্রিটিশ সাংসদের অভিযোগ, আগাগোড়া তাঁর সঙ্গে একজন অপরাধীর মতো ব্যবহার করা হয়। বিমানবন্দরে পুলিশ ও কর্মীদের দুর্ব্যবহারে প্রতিবাদ করে তিনি একসময় বলতে বাধ্য হন, ‘আমার সঙ্গে এভাবে ব্যবহার করতে পারেন না।’ এরপর দিল্লি বিমানবন্দর থেকে এক আত্মীয়কে ফোন করেন ডেবি। ওই আত্মীয় তখন ফোন করেন ব্রিটিশ দূতাবাসে। ‘ভিসা অন অ্যারাইভ্যাল’ পেতেও তিনি আবেদন করেছিলেন। কিন্তু কোনও সাড়া মেলেনি। জম্মু-কাশ্মীরে ৩৭০ অনুচ্ছেদ বিলোপের পর ডেবি ওই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বক্তব্য রেখেছিলেন। গত ৫ অগাস্টের পর একাধিকবার তিনি কাশ্মীর প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের নীতির সমালোচনা করেছিলেন। সেই কারণেই তিনি দিল্লির কোপে পড়লেন বলে মনে করা হচ্ছে। এদিকে জম্মু-কাশ্মীর সমস্যার নিস্পত্তিতে রাষ্ট্রসংঘের সালিশির প্রস্তাব ফের ফিরিয়ে দিল ভারত। এর আগে একই বিষয়ে একাধিকবার মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পাকিস্তান বরাবরই চেষ্টা করে গিয়েছে কাশ্মীর ইশ্যুতে তৃতীয় পক্ষকে টেনে আনতে। কিন্তু যতবার সালিশির প্রস্তাব এসেছে, ততবারই ফিরিয়ে দিয়েছে ভারত। এবার রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের মধ্যস্থতার প্রস্তাবও নয়াদিল্লি খারিজ করে দিয়েছে। তারা জানিয়েছে, কাশ্মীর দ্বিপাক্ষিক বিষয়। তাই এ নিয়ে কোনও তৃতীয় পক্ষের মাথা ঘামানোর প্রয়োজন নেই। বরং পাকিস্তান যে বেআইনিভাবে কাশ্মীরের একাংশ দখল করে রয়েছে, সেটা মুক্ত করার ব্যাপারে রাষ্ট্রসংঘ ইতিবাচক পদক্ষেপ করলে ভারত বাধিত হবে। রবিবার চারদিনের সফরে পাকিস্তানে গিয়েছেন রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিব গুতেরেস, পাক বিদেশমন্ত্রী শাহ আহমেদ কুরেশির সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। এরপর সাংবাদিক বৈঠকে কাশ্মীরের বর্তমান অবস্থা এবং ভারত-পাকিস্তান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। গুতেরেস বলেন, ‘কাশ্মীরের বর্তমান পরিস্থিতি এবং নিয়ন্ত্রণরেখায় লাগাতার সংঘর্ষে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন আমি। এটা চলতে থাকলে এই উপমহাদেশের তো বটেই, গোটা বিশ্বেরই ক্ষতি হবে। আমরা বরাবর চেয়েছি, ভারত-পাক বিরোধের অবসান হোক, মিটে যাক কাশ্মীর সমস্যা দু’দেশ রাজি থাকলে এখনও আমরা সাহায্য করতে প্রস্তুত।’ জনস্বার্থের কথা মাথায় রেখে ভারত ও পাকিস্তানের আরও সংযত আচরণ করা উচিত বলেও মনে করেন রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিব।