হাঙ্গেরি-ইংল্যান্ড ম্যাচে বর্ণবিদ্বেষ বিতর্ক

বুদাপেস্ট : ইউরো কাপের রেশ ধরে ফের বর্ণবিদ্বেষের হানা ইউরোপিয়ান ফুটবলে। বুদাপেস্টে ম্যাচ খেলতে এসে যার শিকার হলেন ইংল্যান্ডের দুই ফুটবলার রাহিম স্টার্লিং ও জুড বেলিংহ্যাম। হাঙ্গেরির বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ফিফার কাছে আর্জি জানিয়েছেন খোদ ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। এই বিতর্কে ঢাকা পড়ে গিয়েছে ইংল্যান্ডের ৪-০ গোলের বড় জয়।

বৃহস্পতিবার রাতে বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জনের ম্যাচে হাঙ্গেরির পুসকাস এরিনায় ৬৭ হাজার দর্শকের সামনে মুখোমুখি হয়েছিল দুই দল। ম্যাচের শুরু থেকেই বর্ণবিদ্বেষীদের আক্রমণের মুখে পড়ে ইংল্যান্ড। রীতি মেনে খেলার আগে কৃষ্ণাঙ্গ নির্যাতনের প্রতিবাদে হাঁটু মুড়ে বসেন ইংল্যান্ডের ফুটবলাররা। সেসময় গ্যালারি থেকে বিদ্রুপ উড়ে আসে। ম্যাচ চলাকালীন স্টার্লিং ও বেলিংহ্যামকে উদ্দ্যেশ্য করে বাঁদরের আওয়াজও করে একশ্রেণির দর্শক। এমনকি ৫৫ মিনিটে গোলের পর স্টার্লিংকে লক্ষ্য করে প্লাস্টিকের কাপ ছোড়া হয় বলেও অভিযোগ। এরপর ৬৩ মিনিটে হ্যারি কেন, ৬৯ মিনিটে হ্যারি ম্যাগুইর ও ৮৭ মিনিটে ডেকলান রাইসের গোল হাঙ্গেরির গর্ব ধুলোয় মিশিয়ে দেয়। কারণ প্রাক-বিশ্বকাপের ম্যাচে এত বড় ব্যবধানে কখনও হারেনি তারা। আপাতত গ্রুপ শীর্ষে আছে ইংল্যান্ডই।

- Advertisement -

ইংল্যান্ডের কোচ গ্যারেথ সাউথগেট অবশ্য বর্ণবিদ্বেষী আক্রমণ পাত্তা দিতে নারাজ। তাঁর কথায়, আমাদের নীতি কী, সেটা সবাই জানে। আর আমরা সেই নীতি মেনেই চলি। কারও কথাতেই আমরা রাস্তা বদলাব না। তবে বেজায় চটেছেন প্রধামমন্ত্রী জনসন। তাঁর টুইট, গতরাতে আমাদের ফুটবলাররা হাঙ্গেরিতে বর্ণবিদ্বেষী আক্রমণের মুখে পড়েছেন। এটা মেনে নেওয়া যায় না। ফুটবল মাঠ থেকে এমন ঘটনাকে দূরে রাখতে হলে ফিফার উচিৎ এই ঘটনায় জড়িতদের কড়া শাস্তি দেওয়া। ফিফা অবশ্য বিবৃতি দিয়ে ঘটনার নিন্দা করার পাশাপাশি তদন্তের আশ্বাস দিয়েছে। কিছুদিন আগে উয়েফা বর্ণবিদ্বেষ ইসু্য়তে হাঙ্গেরিকে দর্শকশূন্য স্টেডিয়ামে খেলার নির্দেশ দিয়েছিল। তার রেশ কাটার আগে ফের একই বিতর্কে জড়িয়ে গেল ইউরোপিয়ান ফুটবলের একসময়ের পাওয়ারহাউজ।