সেতু পেরোতে সাঁকো ভরসা সিঙ্গিটারিতে

অভিজিৎ ঘোষ, সোনাপুর : নতুন সেতুর দাবি মিটলেও বর্তমানে তা গাড়ি চলাচলের অযোগ্য। সেতু পেরোতে সাঁকোই ভরসা দক্ষিণ চকোয়াখেতির সিঙ্গিটারির বাসিন্দাদের। সেতু তৈরির ছয় মাসের মধ্যেই ফাটল দেখা দিয়েছে, একপাশের পিলারও ভেঙে পড়েছে। বাসিন্দাদের অভিযোগ, নিম্নমানের কাজের ফলেই নতুন সেতুর এই অবস্থা হয়েছে।

চকোয়াখেতি গ্রাম পঞ্চায়েতের দক্ষিণ চকোয়াখেতির মধ্যে দিয়ে বয়ে গিয়েছে বুড়ি নদী। এই গ্রামের ১২/৫৫ বুথে সিঙ্গিটারি এলাকায় বুড়ি নদীর ওপর ছয় মাস আগেই আলিপুরদুয়ার জেলা পরিষদের অনুদানে প্রায় ৫০ মিটার সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি মেনে ১২/৫৫ বুথ ও ১২/৪২ বুথের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষার জন্য সেতুটি তৈরি হয়। তবে সেতু নির্মাণের ছয় মাস পার না হতেই ফাটল দেখা দিয়েছে। সেতুর একপাশে পিলার সহ অংশ ভেঙে গিয়েছে। ফলে নদীর অন্য পাড়ে যাওয়ার জন্য বাসিন্দাদের সাঁকোর সাহায্য নিতে হয়। স্থানীয় বাসিন্দা দীপক রায় জানান, এক বছর আগে সেতুটির প্রথম ধাপের পিলার নির্মাণের কাজ শুরু হয়। তাঁর অভিযোগ, শুরুতেই কাজে গাফিলতি হয়েছিল। নদীতে অল্প গর্ত করেই পিলার নির্মাণের কাজ শুরু হয়। গতবার নদীতে জল বেড়ে যাওয়ায় পিলার তৈরির কাজই শুধু সম্পূর্ণ হয়।

- Advertisement -

তাঁর অভিযোগ, গত বছর বর্ষার শেষে দেখা গিয়েছিল, পিলারগুলি হেলে গিয়েছে। এই বছর সেই হেলে যাওয়া পিলারগুলি সংস্কার করেই তার উপর তড়িঘড়ি সেতু নির্মাণের কাজ শেষ করা হয় বলে অভিযোগ। আবার সেতু নির্মাণের কয়েকদিনের মাথায় নদীভাঙনের ফলে পিলার সহ সেতুর একপাশের পাড় ভেঙে যায়। আপাতত একটি সাঁকো দিয়ে পাড়ের সঙ্গে সেতুকে যুক্ত করা হয়েছে। ঠিকমতো পাড় বাঁধাই না হওয়ায় এই অবস্থা বলে অভিযোগ। আরেক গ্রামবাসী শিবলাল ওরাওঁ জানান, তাঁদের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে সেতু নির্মাণ করা হলেও নিম্নমানের কাজের জেরে ফাটল দেখা দেওয়ায় তাঁরা হতাশ। তাঁরা এই সেতুর নির্মাণকাজে গাফিলতির পূর্ণ তদন্ত দাবি করছেন। বিজেপির মণ্ডল সভাপতি সাধন সাহা বলেন, তৃণমূলের নেতাদের কাটমানি খাওয়ার জন্যই সেতুটির পিলার ভেঙে পড়েছে, যার খেসারত সাধারণ মানুষকে দিতে হচ্ছে। আমরা এই ঘটনার পূর্ণ তদন্তের দাবি করছি।

স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য হরিশ রায় বলেন, সেতুর ভাঙা অংশটির কথা জানতে পেরেছি। সেতুর পাশের ভাঙা জায়গা বোল্ডার পাইলিংয়ে মাধ্যমে ঠিক করার জন্য জেলা পরিষদে জানিয়েছি। এ বিষয়ে চকোয়াখেতি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান লতিকা রায় বলেন, এই কাজটি জেলা পরিষদ দেখছে। আমি বিষয়টি জেলা পরিষদকে জানিয়েছি। জেলা পরিষদের স্থানীয় সদস্য রতন মহন্ত বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে খোঁজ নিয়ে দেখছি।