ঝুঁকি নিয়ে ভাঙা কালভার্ট দিয়ে যান চলাচল কুমলাইয়ে

243

অভিষেক ঘোষ, মালবাজার : ভেঙে গিয়েছে মাঝের অংশ। তবু বিপদের ঝুঁকি নিয়ে কুমলাই গ্রাম পঞ্চায়েতের ভাঙা কালভার্ট দিয়ে যান চলাচল করছে। ছোটো থেকে বড়ো সব ধরনের গাড়িই ভাঙা কালভার্ট দিয়ে পারাপার করছে। আবার অনেক গাড়ি কালভার্ট এড়াতে নদী পেরিয়ে যাতায়াত করছে। অভিযোগ, কালভার্টের ভগ্নদশা নিয়ে হেলদোল নেই জেলা প্রশাসনের। তবে জেলাপরিষদের সভাধিপতি ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন।

দীর্ঘ দুবছর যাবৎ ভাঙা কালভার্টই ভরসা প্রায় দশ হাজার গ্রামবাসীর। শুধু কুমলাই, রাজাডাঙ্গা বা লাটাগুড়ি গ্রাম পঞ্চায়েত নয়, মালবাজার শহর ও শহর সংলগ্ন বহু মানুষ এই কালভার্টের ওপর নির্ভর করেন। বিশেষ প্রয়োজনে জলপাইগুড়ি যাওয়ার জন্য অনেকেই মালবাজার থেকে লাটাগুড়িগামী এই সংক্ষিপ্ত পথ ব্যবহার করেন। পিচঢালা রাস্তা হলেও নেওড়া চা বাগানের ফ্যাক্টরির কাছে যে কালভার্টটি রয়েছে, তা প্রায় দু বছর যাবৎ ভাঙা অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সেই সেতু দিয়ে দিনের পর দিন প্রচুর ভারী যানবাহন চলছে। যেগুলির ভারে যে কোনো সময় ধসে পড়তে পারে এই কালভার্টটি। ঘটতে পারে প্রাণহানিও। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বেশ কিছুদিন আগে মাটি পরীক্ষা করতে এসেছিল একটি দল, তারপর আর কারও দেখা মেলেনি এলাকায়। কালভার্টের এই বেহাল অবস্থার জন্যই বাগানের স্কুলগাড়ি থেকে শুরু করে বড়ো বড়ো অনেক গাড়ি নদী পার হয়ে যাতায়াত করছে। সেটাও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে মানছেন গ্রামবাসীরা। স্থানীয় গ্রামবাসী সুধীর খালকো, কিশোর ওরাওঁ বলেন, কালভার্ট নির্মাণকাজে গাফিলতি ছিল। তাই বেশিদিন টেকেনি সেটি। অতিরিক্ত চাপ না সামলাতে পেরে মাঝের অংশ ভেঙে গিয়েছে।  উত্তম লোহার, অমিত ওরাওঁরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বেহাল দশা দেখেও কালভার্টের মেরামতিতে আগ্রহ দেখায়নি জেলাপরিষদ। খুব শিগগির কালভার্টির পুনরায় নির্মাণ না হলে মারাত্মক সমস্যা হবে। প্রশাসন অবিলম্বে পদক্ষেপ নিক। মালবাজার বিধানসভা ক্ষেত্রের বিজেপির পর্যবেক্ষক মঙ্গল ওরাওঁ বলেন, কুমলাই গ্রাম পঞ্চায়েতের ২০/১৬১ সংসদের চা বাগানের ফ্যাক্টরির কাছে কালভার্টের ভগ্নদশা দেখেও হেলদোল নেই কোনো বিভাগের। দলীয় তরফে অনেকবার অভিযোগ করা হলেও কিছু লাভ হয়নি। কালভার্ট পুনরায় তৈরি না হলে আন্দোলনে নামবে বিজেপি। স্থানীয় বাসিন্দারা আরও বলছেন, এই রাস্তা দিয়ে চা বাগানের ছেলেমেয়েরা স্কুলে য়ায়। রাতে অনেকে এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করে। ২ বছর ধরে বারবার বলা সত্ত্বেও প্রশাসনের টনক নড়ল না রাস্তা সারানোর ব্যাপারে। শহর এলাকা হলে এমনটা কখনোই হত না। আমরা গ্রামের মানুষ বলে এসব মেনে নিতে হয়। এ বিষয়ে জলপাইগুড়ি জেলাপরিষদের সভাধিপতি উত্তরা বর্মন বলেন, ওই অঞ্চলের জেলাপরিষদের সদস্যের কাছে রিপোর্ট তলব করব এবং দ্রুত কালভার্টটি মেরামত করা হবে।