ভেঙেছে ঘর, বন্ধ ভাতা, অসহায় অবস্থা চম্পা মাঝির

744

মোস্তাক মোরশেদ হোসেন, রাঙ্গালিবাজনা: এতদিন খাদ্যের অভাবে জমিতে কাজ করতে হত। কাজের পর নদী থেকে শামুক তুলতে যেতেন চম্পা মাঝি। রয়েছে দুই ছেলে। কিন্তু তাঁরা প্রত্যেকেই ব্যস্ত নিজের সংসার নিয়ে। একমাত্র সঙ্গী বলতে মেয়ের ছেলে বছর ঊনিশের সুজিত। দিদার সঙ্গে ধানের শিষ থেকে শুরু করে জমিতে পড়ে থাকা ভুট্টাও জোগাড় করে সে। দু’জনের খাদ্যের মূল উৎস এতদিন ধরে ছিল এটাই। লকডাউন শুরু হওয়ার পর থেকে যদিও র‍্যাশন দোকান থেকে মিলছে আতপ চাল। আর রয়েছে বুড়িতোর্ষার শামুক। ওতেই এখন তিন বেলা চলছে দিদা ও নাতির।

১৯৪০ সালে জন্ম চম্পা মাঝির। থাকেন ফালাকাটা ব্লকের দক্ষিণ দেওগাঁওয়ে। বাড়ি বলতে জরাজীর্ণ একটা ঘর। স্বামী শাওনা মাঝি ও এক ছেলে মারা গিয়েছেন বহু বছর আগেই। ছেলে বেঁচে থাকতে প্রায় তিরিশ বছর আগে সরকারের সহয়তায় ছোট একটা ঘর জুটেছিল তাঁর বরাতে। ছেলেটা না বাঁচলেও তাঁর রেখে যাওয়া ঘরেই আজও রাত কাটান বৃদ্ধা। পাটশোলার ওপর লেপা মাটির বেড়া ভেঙে গিয়েছে নানা জায়গায়। খুলে পড়ছে টিনের চাল। গ্রাম পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষের কাছে গত বর্ষায় একখানা ত্রিপল আদায় করেছেন তিনি। সেই ত্রিপলের নীচেই দেখা গেল, পাশাপাশি দুটো পাত্রে খাবারের আয়োজন। একটায় দু’মুঠো চাল, আর একটায় নদী থেকে তুলে আনা শামুক। এটাই তাদের রোজকার মেনু।

- Advertisement -

দেওগাঁও গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান রহিফুল আলম অবশ্য বলেন, ‘কাউকে ঘর দিতে গেলে বেশ কিছু সরকারি নিয়ম ও শর্ত পালন করতে হয়। এবছর সমীক্ষার পর যে তালিকা তৈরি করা হয়েছে তাতে যতদূর সম্ভব ওই বৃদ্ধার নাম রয়েছে। তবে ঘর পেলেও কবে পাবেন তা বলা সম্ভব নয়। তাই দ্রুত ওই বৃদ্ধার জন্য সরকারের তরফে কোনও সাহায্য, সহযোগিতা করা যায় কিনা তা নিয়ে বিডিওর সঙ্গে কথা বলব।’ বৃদ্ধা বলেন, ‘আগে নদী থেকে শামুক তুলে বিক্রি করতাম। কিন্তু এখন আর পারি না। বয়স হয়েছে। কোমরেও ব্যথা। আগের মতো শরীর চলে না। ভাতা পেতাম। অনেকদিন ধরে সেটাও পাই না। আজ পর্যন্ত একটা ঘর পেলাম না।’

বৃদ্ধার জরাজীর্ণ ঘরটার গা ঘেঁষেই দাঁড়িয়ে রয়েছে খয়েরবাড়ি প্রকৃতি পর্যটন কেন্দ্রের দেওয়াল। ওপারে রয়েছে বিলাসবহুল রিসর্ট ও পার্ক। সেখানে এর আগে বাম জমানায় এসেছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য, এখন আসেন তৃণমূল পরিচালিত রাজ্য সরকারের মন্ত্রীরা। তবে গত তিন চার দশকেও দেওয়ালের এপারের আদিবাসী পাড়ার ওই হতদরিদ্র বৃদ্ধার দিকে নজর পড়েনি কারও।