গাঁজা চাষে মূলধন যোগাচ্ছে দালালরা

সঞ্জয় সরকার, দিনহাটা : গাঁজা চাষ বন্ধ করতে প্রতি বছরই দফায় দফায় চলে পুলিশি অভিযান। এমনকি ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া এলাকায় গাঁজা গাছ ধ্বংস করা ও গাঁজা চাষের সঙ্গে যুক্তদের ধরতে সহায়তা নেওয়া হয় সীমান্ত রক্ষীবাহিনীর। তা সত্ত্বেও কোচবিহার জেলার দিনহাটা-২ ব্লকের বিভিন্ন এলাকার গাঁজা চাষের প্রবণতা কমেনি। দিন-দিন প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে গাঁজা চাষের এলাকা বাড়ছে। মূলত স্থানীয় বাসিন্দাদের আর্থিক অনটনের সুযোগ নিয়ে একদল অসাধু ব্যবসায়ী এই কারবার চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। নতুন নতুন উপায় অবলম্বন করে পুলিশ প্রশাসনের চোখে ধুলো দিয়ে গাঁজা চাষ ও ব্যবসার রমরমা চলছে দিনহাটা মহকুমার প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে।

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী দিনহাটা-২ ব্লক আর্থসামাজিক ক্ষেত্রে অনেকটা পিছিয়ে রয়েছে। এই এলাকার অধিকাংশ বাসিন্দাই কৃষিকাজ বা দিনমজুরি করে সংসার চালান। একাধিক কারণে সম্প্রতি কৃষিক্ষেত্রে লাভের পরিমাণ কমেছে বলে জানা গিয়েছে। ফলে অনেকেরই ঘরে আর্থিক অনটন দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিততে আর্থিকভাবে লাভবান হতে অবৈধ জেনেও গাঁজা চাষের দিকে ঝুঁকেছেন অনেকই। নিজেদের স্বার্থেই তাঁদের গাঁজা চাষে নামাচ্ছে একদল দালাল। এমনকি প্রয়োজনে গাঁজা চাষ করার মূলধন দিয়ে সাহায্য করছে তারা। ব্লকজুড়ে বিভিন্ন উপায়ে বিক্ষিপ্তভাবে গাঁজা চাষ হলেও জনবহুল বা রাস্তা সংলগ্ন এলাকা এড়িয়ে চলেন এই চাষিরা। ব্লকের কিশামত দশগ্রাম, বড়শাকদল, সাহেবগঞ্জ, নাজিরহাট, নয়ারহাট, শালমারা, চৌধুরীহাট সহ বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলে অনেক বাড়িতে লুকিয়ে গাঁজা চাষ হচ্ছে। মূলত বেড়ায় ঢাকা বাড়ির পিছনের অংশ, উঠোন সহ বাড়ির আনাচে-কানাচে গাঁজা চাষ চলছে। পুলিশের নজর এড়াতে বাড়ির সামনে উঁচু বেড়া দেওয়া হচ্ছে। জানা গিয়েছে, একটি পরিণত গাঁজা গাছ বিক্রি করলে ২-৫ হাজার টাকা দাম পাওয়া যায়। গোটা গাছটি একবার ব্যবসায়ীদের হাতে তুলে দিতে পারলেই কাজ শেষ। তাই ঝুঁকি নিয়ে হলেও বিভিন্ন গ্রামে গাঁজা চাষের প্রবণতা বেড়েছে।

- Advertisement -

স্থানীয় বাসিন্দা তথা কলেজ পড়ুয়া বিশ্ব বর্মন বলেন, সংসারের অভাব-অনটন মিটিয়ে স্বাচ্ছন্দ্য আনতে অনেকে এই চাষ করেন। পুলিশ-প্রশাসনের নজর এড়িয়ে ৫০টি গাছ চাষ করতে পারলেই এক থেকে দেড় লক্ষ টাকা আয় হয়। স্বভাবতই আর্থিক অনটনে ভুগতে থাকা মানুষ খুব সহজেই অবৈধ কাজের পথে পা বাড়ান। পুলিশি সক্রিয়তার পাশাপাশি এই আর্থসামাজিক বিষয়গুলিতেও নজর দেওয়া দরকার। সাহেবগঞ্জ থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ আধিকারিক পিঙ্কি রায় বলেন, গাঁজা চাষ বন্ধ করতে প্রতিবছরই ব্লকজুড়ে গাঁজা গাছ নষ্ট করার অভিযান চালানো হয়। বর্তমানে পুজোর একাধিক কাজে ব্যস্ত রয়েছেন পুলিশকর্মীরা। এবছরও শীঘ্র অভিযান চালানো হবে। এছাড়াও প্রতিবছরই গাঁজা গাছ নষ্টের পাশাপাশি অবৈধ চাষের কারবারে যুক্ত না হওয়ার বিষয়ে এলাকাবাসীকে সচেতন করা হয় বলে জানিয়েছেন তিনি।