জমি বিবাদের জের, দাদাকে কুপিয়ে খুন করল ভাই

423

বর্ধমান: বাড়ির জমির অংশ নিয়ে ঝগড়া চলাকালীন কুড়ুল দিয়ে কুপিয়ে নিজের দাদাকে খুনের অভিযোগ উঠল ছোট ভাইয়ের বিরুদ্ধে। মৃতের নাম আব্দুল ওহাব মণ্ডল (৫৪)। রবিবার রাতে পূর্ব বর্ধমানের মেমারি ২ ব্লকের কুচুট পঞ্চায়েতের চণ্ডীপুর গ্রামে ঘটনাটি ঘটেছে। সোমবার বর্ধমান হাসপাতাল পুলিশ মর্গে দেহের ময়নাতদন্ত হয়েছে। সোমবার দুপুরে মেমারি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন মৃতের মেয়ে হাবিবা সিদ্দিকা। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে সোমবার পুলিশ মৃতের ভাই আব্দুল রফিক মণ্ডল, তাঁর স্ত্রী বদরুন্নেশা মণ্ডল ও ছেলে আসিফুল মণ্ডলকে পাকড়াও করেছে। অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন মৃতের পরিবারের সদস্যরা।

মৃতের মেয়ে হাবিবা সিদ্দিকা পুলিশকে জানিয়েছেন, বাড়ির জমির অংশ নিয়ে রবিবার রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ তাঁর বাবা আব্দুল ওহাব মণ্ডলের সঙ্গে কাকা আব্দুল রফিক মণ্ডলের ঝগড়া শুরু হয়। তিনি এবং তাঁর দিদি আসমা বেগম বাবা-কাকাকে বুঝিয়ে ঝগড়া থামানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু কাকা আব্দুল রফিক কোনও কথা না শুনে তাঁর বাবাকে ধরে টানা-হ্যাঁচড়া শুরু করেন। ওই সময় কাকিমা বদরুন্নেশা মণ্ডল ও তাঁর ছেলে আসিকুল মণ্ডলও কাকার সঙ্গে যোগ দেন।

- Advertisement -

হাবিবা জানান, ওই তিনজন মিলে তাঁদের সকলকে মারধর শুরু করেন। এরই মধ্যে হঠাৎ করে আব্দুল রফিক ঘরে ঢুকে কুড়ুল বের করে এনে এলোপাথারিভাবে চালাতে শুরু করেন। কুড়ুলের আঘাতে হাবিবার বাবা ও দিদি মারাত্মক জখম হন। খবর পেয়ে পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁদের মেমারি হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাবিবা সিদ্দিকা জানিয়েছেন, আঘাত গুরুতর থাকায় তাঁর বাবা ও দিদিকে রাতেই বর্ধমান হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানেই এদিন ভোররাতে বাবা আব্দুল ওহাব মণ্ডল মারা যান। চিকিৎসাধীন রয়েছেন দিদি আসমা বেগম। হাবিবা দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

মহকুমা পুলিশ আধিকারিক (এসডিপিও) আমিনুল ইসলাম খান জানিয়েছেন, রবিবার রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ পুলিশের কাছে খবর আসে, চণ্ডীপুর গ্রামে জমিজমা নিয়ে দুই ভাইয়ের পরিবারের মধ্যে মারামারি হয়েছে। পুলিশ সেখানে পৌছে কুড়ুলের আঘাতে জখম আব্দুল ওহাব মণ্ডল ও তাঁর কন্যাদের উদ্ধার করে মেমারি গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে আসে। আঘাত গুরুতর থাকায় আব্দুল ওহাব ও তাঁর এক কন্যাকে রাতেই বর্ধমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে গভীর রাতে আব্দুল ওহাব মারা যান। ঘটনায় মৃতের ছোট ভাই সহ তাঁর পরিবারের তিন জনকে ধরা হয়েছে। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। মৃতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।