গেরুয়া শিবিরের বিরুদ্ধে লড়ছেন বিজেপির জেলা সভাপতির ভাই

172

রায়গঞ্জ : তিনি বিজেপির জেলা সভাপতির ভাই। আর তাঁর প্রধান শত্রু বিজেপি এবং তৃণমূল। ভোটের লড়াইয়ে ময়দানে নেমেও পড়েছেন তিনি। সঙ্গী বলতে মোটরবাইক। তাই নিয়ে প্রচারে বেরিয়ে চষে বেড়াচ্ছেন জনতা দল ইউনাইটেডের রায়গঞ্জের প্রার্থী ভবতোষ লাহিড়ি। পেশায় পুরোহিত ভবতোষবাবুর সকাল থেকে সন্ধে গ্রামগঞ্জে পুজোপাঠ করেই চলে। তাঁর দাদা বিশ্বজিৎ লাহিড়ি বিজেপির জেলা সভাপতি। সেই সূত্রে বিজেপির সক্রিয় কর্মীও ছিলেন ভবতোষবাবু। কিন্তু গতবছর হঠাৎই বিজেপি ছেড়ে জনতা দলে যোগ দেন তিনি। এ বছর দল তাঁকে প্রার্থী করেছে। নেশা ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলা গড়ার লক্ষ্য নিয়ে রায়গঞ্জের উন্নয়নকে দাবি করেই প্রচার করছেন ভবতোষ লাহিড়ি।

কিন্তু ভোট প্রচারে তো একা বের হওয়া যায় না। সঙ্গে চাই কর্মী-সমর্থক। ভবতোষবাবু সঙ্গে কাউকেই পাননি। প্রচারে তাঁর সবসময়ে সঙ্গী একটি বাইক। সকাল হলেই গায়ে নামাবলি এবং গলায় উত্তরীয় জড়িয়ে বাইকের সামনে দলের পতাকা লাগিয়ে প্রচারে বেরিয়ে পড়েন ভবতোষবাবু। রাস্তায় বাজার কিংবা দোকানপাট পড়লেই বাইক থামিয়ে দাঁড়িয়ে পড়েন। বাইকে বসেই হাতজোড় করে ভোট প্রার্থনা করতে দেখা যাচ্ছে তাঁকে। কেউ কেউ কৌতূহল নিয়ে তাঁর কথা শুনছেন, আবার কেউ না শুনেই এড়িয়ে চলে যাচ্ছেন।

- Advertisement -

শুক্রবার গোয়ালপাড়া এলাকায় দলের রাজ্য সভাপতি অশোক দাস এবং জেলা সভাপতি কামাখ্যা সরকারকে বাইকে বসিয়ে প্রচারে বের হন ভবতোষবাবু। তাঁর বিশ্বাস, প্রায় ১০ হাজার ভোটে জয়ী হবেন তিনি। জয়ী হলে বিহারের নীতিশ কুমার যেভাবে উন্নয়ন করছেন সেই পথেই উন্নয়ন করবেন বলে জানান ভবতোষবাবু।

রাজ্যে এবার ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২৫টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে জনতা দল ইউনাইটেড। ২৫টি আসনে প্রার্থী দিয়ে কীভাবে বাংলা দখল সম্ভব? এই প্রশ্নের উত্তর যদিও ভবতোষবাবু দিতে পারেননি। তিনি বলেন, জয়ী হলে রায়গঞ্জের বিদ্রোহী মোড় থেকে কর্ণজোড়া পর্যন্ত ফ্লাইওভার, এবং রায়গঞ্জ থেকে বারসই পর্যন্ত সড়কপথ নির্মাণ করব। আমার বিশ্বাস আমি ১০ হাজার ভোটে জয়ী হব। দলের জেলা সভাপতি কামাখ্যা সরকার বলেন, রায়গঞ্জ ও চাকুলিয়া দুই কেন্দ্রে আমরা জয়ী হব। কারণ মানুষ আমাদের আবেদনে যথেষ্ট সাড়া দিচ্ছেন।