মালদা : মদ, গাঁজা বা হালের পোস্তর আঠা এখন ব্যাকডেটেড। মাদকাসক্তদের হট লিস্টে জায়গা করে নিয়েছে ব্রাউন সুগারের মতো আধুনিক মাদক। উঠতি যুবকদের পাশাপাশি স্কুলের অনেক পড়ুয়াও এই নেশার কবলে পড়ছে। বাদ থাকছে না মেয়েরাও। মাদকাসক্ত এই যুবক-যুবতিদের চাহিদা মেটাতে জেলা জুড়ে রমরমিয়ে বাড়ছে বেআইনি মাদকের কারবার। জেলাতেই এখন তৈরি করা হচ্ছে ব্রাউন সুগারের মতো মাদক। মালদা জেলার কালিয়াচককে করিডর হিসাবে ব্যবহার করে দেশজুড়ে মাদক ব্যবসায়ীরা জাল ছড়িয়ে দিচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন জেলা পুলিশ-প্রশাসন। নেশার এই কারবার বন্ধ করতে ধরপাকড়ের পাশাপাশি জনসংযোগকেও পুলিশ হাতিয়ার করেছে। এতে সাধারণ মানুষের তরফে ভালো সাড়াও মিলছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার।

কালিয়াচকের বেআইনি হেরোইন, ব্রাউন সুগার তৈরি বন্ধ করতে একাধিক পদক্ষেপ করেছে জেলা পুলিশ। সাধারণ মানুষের সঙ্গে জনসংযোগ বাড়িয়ে মিলেছে একাধিক সাফল্য। কিছুদিন আগেই পুলিশের জালে ধরা পড়েছে আন্তঃরাজ্য পাচারচক্রের পাঁচজন। ব্রাউন সুগার তৈরির কারখানার হদিস পেয়েছে পুলিশ। কালিয়াচকে তৈরি ব্রাউন সুগার একাধিক পাচারকারীদের হাত ধরে মুর্শিদাবাদ ও বিহার,  ঝাড়খণ্ড দিয়ে ছড়িয়ে পড়ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। একসময় কালিয়াচকেই আফিম চাষ হওয়ায় সুবিধা হয়েছিল চোরাকারবারীদের। তবে এখন আফিম আঠা মূলত পার্শ্ববর্তী বিহার, ঝাড়খণ্ড ও রাজস্থান থেকে চোরাপথে কালিয়াচকে এসে পৌঁছাচ্ছে। কালিয়াচকের বিভিন্ন এলাকায় গোপন ডেরায় চলছে আফিম আঠা থেকে হেরোইন তৈরির প্রক্রিয়া। সেই হেরোইন স্থানীয় ও বহিরাগত পাচারকারীদের হাত ধরে ছড়িয়ে পড়ছে দেশের প্রতিটি প্রান্তে। পাচারকারীরা মূলত সড়ক ও রেলপথের মধ্যে দিয়ে  চোরাপথে সহজেই পাচার করতে সক্ষম হচ্ছে। কালিয়াচকের ওপর ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়ক থাকায় অনেকটা সুবিধা হচ্ছে পাচারকারীদের। সহজেই তারা জেলার বাইরের পাচারকারীদের হাতে পৌঁছে দিচ্ছে ব্রাউন সুগারের প্যাকেট।

- Advertisement -

কালিয়াচকের সাহাবাজপুর, সিলামপুর ও কুম্ভীরা এলাকায় হেরোইন তৈরির কারখানা সব থেকে বেশি রয়েছে। তবে বর্তমানে গোটা মালদা জেলা জুড়ে বেআইনি এই কার্যকলাপ ছড়িয়ে পড়েছে। এমনকি গোপনীয়তা বজায় রাখতে একটি নির্দিষ্ট জায়গাতে একবারের বেশি কাজ করা হয় না। বিহার, ঝাড়খণ্ড ও রাজস্থান থেকে বিভিন্ন উপায়ে চোরাপথে মালদায় আসছে আঠা। বর্তমানে চোরাবাজারে এক কেজি আফিম আঠার দাম ৮০ হাজার টাকা থেকে এক লক্ষ টাকা। আঠার মানের ওপর দাম নির্ভর করে। এক কেজি আঠায় প্রায় ৭০ থেকে ৮০ গ্রাম হেরোইন তৈরি হয়। চোরাবাজারে এক গ্রাম হেরোইনের দাম প্রায় ১৪০০ টাকা। আঠা থেকে হেরোইন তৈরির কাজ বেশ সময়সাপেক্ষ। আঠাকে দীর্ঘক্ষণ তাপ দেওয়ার পর সেখান থেকে বেরিয়ে আসা ফ্যানা সংগ্রহ করা হয়। তাপ দেওয়ার সময় আঠার সঙ্গে কিছু কেমিক্যাল মেশানো হয়। সংগ্রহ করা ফ্যানা শুকিয়ে হেরোইন তৈরি করা হয়। কালিয়াচকেই হেরোইন তৈরির একাধিক দক্ষ কারিগর রয়েছে, যারা দীর্ঘদিন ধরে এই কাজের সঙ্গে যুক্ত।

তবে এবার হেরোইন এবং ব্রাউন সুগারের কারবার বন্ধ করতে পুলিশ প্রশাসন উদ্যোগী হয়েছে। কালিয়াচক ও বৈষ্ণবনগর থানা এলাকায় কড়া পদক্ষেপ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে সাফল্য পেয়েছে পুলিশ। পুলিশ সুপার অলোক রাজোরিয়া বলেন, আমরা হেরোইন ও ব্রাউন সুগার নির্মূল করতে উদ্যোগী হয়েছি। সাধারণ মানুষের সঙ্গে জনসংযোগ বাড়ানো হয়েছে। নিয়মিত এলাকায় গিয়ে সচেতনতা শিবির করা হচ্ছে। আশা করি, কিছুদিনের মধ্যে আমরা এই বেআইনি পাচারচক্র রুখতে সফল হব।