ত্রিপলের ছাউনিতেই রাত কাটছে বুধনির

1543

দীপঙ্কর মিত্র, হেমতাবাদ: বাড়ি বললে ভুল হবে এ যেন এক সড়ুঙ্গ। মাথা গোঁজার জন্য রয়েছে প্লাস্টিকের ত্রিপল। তারও জড়োসড়ো অবস্থা। প্রবল ঝড়ে যেকোনও সময় উড়ে যেতে পারে সেই ঠাঁইটুকুও। আর বৃষ্টি হলে তো ভোগান্তির চরম সীমা ছুঁই পরিস্থিতি। এভাবে দিনের পর দিন কাটাতে হচ্ছে আদিবাসী মহিলা বুধনি মার্ডিকে। অভিযোগ, ঘরের জন্য একাধিকবার পঞ্চায়েতে জানালেও আবাস যোজনায় মেলেনি ঘর। এই পরিস্থিতিতে বুধনি মার্ডির জন্য আবাস যোজনায় ঘর দেওয়ার দাবিতে পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে সরব হলেন বিজেপি নেতত্বরা। বিজেপির দাবি, অবাস যোজনায় দুর্নীতি চলছে। বুধনি মার্ডিকে ঘর দেওয়া না হলে আন্দোলনে নামা হবে। উল্লেখ্য, হেমতাবাদের মহিপুর এলাকায় আদিবাসী মানুষের বাস। এলাকার অধিকাংশ মানুষ দিনমজুরি করে সংসার চালান। অভিযোগ, সরকার বিভিন্ন এলাকায় দুঃস্থদের মাথা গোঁজার জন্য আবাস যোজনার মাধ্যমে ঘরের টাকা দিলেও অনেকেই তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। একই অবস্থা মহিপুরের আদিবাসীপাড়ার বাসিন্দা বুধনি মার্ডির ক্ষেত্রেও। ঝড়-বৃষ্টিতে ঝুপড়ি ঘরে থাকলেও ঘর পাচ্ছেন না বছর চল্লিশের বুধনি।

বুধনি মার্ডি বলেন, ‘পঞ্চায়েতের কাছে বহুবার আবেদন জানিয়ে ঘর পাইনি। দিচ্ছি আর দেব বলে পাশ কাটিয়ে দেন নেতারা। ভোট এলে ঘর ও সরকারি সাহায্যের প্রতিশ্রুতি মিললেও ভোটের পর আর দেখা যায় না।’ এই অবস্থায় বুধনি মার্ডির পাশে দাঁড়িয়েছেন হেমতাবাদের বিজেপি নেতৃত্ব। বিজেপির জেলা সভাপতি বিশ্বজি৻ লাহিড়ি বলেন, জেলার বেশ কয়েকটি ব্লকে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার ঘর বন্টন নিয়ে দুর্নীতি হয়েছে। আমরা শীঘ্রই এই ইশ্যু নিয়ে আন্দোলনে নামব।

- Advertisement -

বিজেপির মণ্ডল কমিটির সভাপতি প্রশান্ত ভৌমিক জানান, কাটমানি দিতে না পারায় ওই মহিলা প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় ঘর পায়নি। অথচ যাঁদের প্রয়োজন নেই, তাঁরা ঘর পেয়েছেন। আমরা দলের তরফে গিয়ে ওই পরিবারের সঙ্গে দেখা করে এসেছি। আমরা চাই, অবিলম্বে বুধনি মার্ডিকে ঘর দেওয়া হোক। না হলে আমরা আন্দোলনে নামব। পাশাপাশি ব্লক প্রশাসন থেকে ঘর না দেওয়া হলে চাঁদা তুলে ঘর করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।

সিপিএম নেতা ওয়াজেদ আলি সরকার বলেন, হেমতাবাদ ব্লক জুড়ে আবাস যোজনার বিষয়ে অনেক অভিযোগ রয়েছে। আমাদের দাবি, অবিলম্বে সকল দুঃস্থদের ঘর দেওয়া হোক। ঘর বণ্টন নিয়ে যে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে, তার তদন্ত করতে হবে। ব্লক তৃণমূলের প্রাক্তন সভাপতি মোহাজউদ্দীন আহম্মেদ জানান, কিছু লোকের জন্য দলের বদনাম হচ্ছে। যাঁদের ঘরের প্রয়োজন তাঁদের ঘর না দিলে আগামীতে তাঁরা কি তৃণমূলকে আর ভোট দেবেন? বুধনি মার্ডির ঘর তোলার জন্য আবাস যোজনা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক।

তবে হেমতাবাদ ব্লক তৃণমূল সভাপতি প্রফুল্ল বর্মন জানান, কী কারণে ওই মহিলা ঘর পাননি, তা দেখা হবে। তবে কাটমানির বিষয়টি একেবারে মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। বিডিও পৃথ্বীশ দাস ও জয়েন্ট বিডিও আবির দত্ত ওই মহিলার সঙ্গে দেখা করে এসেছেন। পরিবারের হাতে খাদ্যসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়েছে। আগামী মঙ্গলবার ওই পরিবারকে দেখা করতে বলা হয়েছে।