জমিজটে আটকে শিলিগুড়ি কমার্স কলেজ নির্মাণ 

163

সাগর বাগচী, শিলিগুড়ি : জমিজটের কারণে কাওয়াখালিতে শিলিগুড়ি কমার্স কলেজ নির্মাণের কাজ দীর্ঘদিন ধরে আটকে রয়েছে। অভিযোগ, কলেজের ওই জমিটিতে দুটি পরিবার বহুদিন ধরে জায়গা দখল করে রয়েছে। বারবার তাঁদের সঙ্গে আলোচনা করেও কোনও সুরাহা হয়নি। এমনকি রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী গৌতম দেব পরিবার দুটিকে অন্যত্র পুনর্বাসনের আশ্বাস দিলেও কাজ হয়নি। ফলে কলেজের সীমানাপ্রাচীরের কাজ অসমাপ্ত পড়ে রয়েছে। এদিকে, প্রাচীরের কাজ শেষ না হওয়ায় নতুন ভবন নির্মাণের কাজও আটকে রয়েছে বলে কলেজ কর্তৃপক্ষের দাবি। শিলিগুড়ি কমার্স কলেজের পরিচালন সমিতির সভাপতি অরুণ সরকার বলেন, দুটি পরিবার ওই জায়গাতে রয়েছে। জায়গাটি হাতে পেলেই আমরা কাজ শুরু করব। এসজেডিএর ভাইস চেয়ারম্যান নান্টু পাল বলেন, আলোচনা করে জমিজট শীঘ্রই কাটিয়ে তোলার চেষ্টা চলছে।

এতদিন শিলিগুড়ি কলেজেই সন্ধ্যার পর কমার্স কলেজের ক্লাস হত। তাছাড়া কমার্স কলেজের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসটি একটি ভাড়া জায়গায় ছিল। ফলে দীর্ঘদিন ধরে কলেজ কর্তৃপক্ষকে বিভিন্ন সমস্যায় পড়তে হত। এই পরিস্থিতিতে ২০০৯ সালে কাওয়াখালিতে শিলিগুড়ি কমার্স কলেজ স্থানান্তর করার জন্য এসজেডিএর কাছ থেকে তিন একর জায়গা কেনে কলেজ কর্তৃপক্ষ। তবে দুটি পরিবার জমি দখল করে থাকায় কলেজের ভবন তৈরির কাজ আটকে রয়েছে। পর্যটনমন্ত্রী গৌতম দেব কমার্স কলেজের ওই জায়গাটি পরিদর্শন করে পরিবার দুটির সঙ্গে কথা বলেন। পরিবার দুটিকে অন্যত্র পুনর্বাসন দিয়ে এক লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আশ্বাসও দেন তিনি। কিন্তু তাতেও সমস্যার সমাধান হয়নি। কলেজ সূত্রে খবর, কলেজের নিজস্ব ফান্ড থেকে ৬ কোটি টাকা দিয়ে ভবনের কাজ শুরু করার কথা। তবে পরিবার দুটি না সরায় কোনওভাবেই ভবন তৈরির কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। নান্টু পাল বলেন, করোনার কারণে এতদিন পুরো প্রক্রিয়াটি আটকে ছিল। নতুন বোর্ড আসার পর অনেক পুরোনো সমস্যা আলোচনার মাধ্যমে শেষ করা হয়েছে। আশা করছি এই সমস্যাটিরও শীঘ্রই সমাধান হবে এবং কমার্স কলেজের কাজ শুরু হয়ে যাবে। কাওয়াখালিতে জমিজটে একাধিক প্রকল্পের কাজ আটকে রয়েছে। এখানে টাউনশিপ গড়া থেকে শুরু করে ফিল্ম সিটির মতো বিভিন্ন প্রকল্পে জটিলতা দেখা দিয়েছে। জমিদাতাদের বেশ কয়েকজন বারবার আপত্তি তুলেছেন। তাঁদের অভিযোগ, স্বেচ্ছায় তাঁরা জমি দিতে চাননি। পোড়াঝাড় এলাকায় জমির সমস্যা সবচেয়ে বেশি।

- Advertisement -