তৈরি হয়ে দুবছর তালাবন্ধ প্রাণীসম্পদ বিকাশ দপ্তরের ভবন

160

গৌরহরি দাস, কোচবিহার : প্রাণীসম্পদ বিকাশ দপ্তরের ভবনের একতলার সংস্কার ও দোতলা তৈরির কাজ সম্পূর্ণ হয়ে গিয়েছে প্রায় দুবছর আগে। কিন্তু পূর্ত দপ্তরের ইলেক্ট্রিক্যাল ডিভিশনের গড়িমসিতে এখনও পর্যন্ত ভবনের বিদ্যুৎ সংযোগের কাজ সম্পূর্ণ হয়নি। এর ফলে নতুন ঝাঁ চকচকে ভবনটি গত দুই বছর ধরে প্রায় তালাবন্ধ অবস্থাতেই পড়ে রয়েছে। এতে কোচবিহার প্রাণীসম্পদ বিকাশ দপ্তরে সমস্যা দেখা দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভ রয়েছে দপ্তরের কর্মী-আধিকারিকদের মধ্যে।

কোচবিহার প্রাণীসম্পদ বিকাশ দপ্তরের আধিকারিক মনোজ গোলদার বলেন, ভবনটি তৈরি হয়ে গিয়েছে অনেকদিন আগে। কিন্তু ওখানে পূর্ত দপ্তরের ইলেক্ট্রিফিকেশনের কাজ এখনও সম্পূর্ণ না হওয়ায় আমরা ভবনটি ব্যবহার করতে পারছি না। এতে খুবই কষ্ট করে পশু হাসপাতালের ওপরতলায় অফিস করতে হচ্ছে। এতে আমাদের কাজেরও যথেষ্টই সমস্যা হচ্ছে। তবে খুব শীঘ্রই অফিসটি আমাদের হ্যান্ডওভার করা হবে বলে শুনতে পাচ্ছি। কোচবিহার শহরের পুলিশ লাইন চৌপথি লাগোয়া এলাকাতেই রয়েছে কোচবিহার প্রাণীসম্পদ বিকাশ এবং পরিষদের উপ অধিকর্তার দপ্তর। বেহাল হয়ে পড়া ওই ভবনটি সংস্কার করার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। এর জন্য প্রায় তিন বছর আগে অফিসটি অস্থায়ীভাবে পশু চিকিত্সালয়ে দোতলায় নিয়ে যাওয়া হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পূর্ত দপ্তর এরপর বেহাল হয়ে পড়া ভবনের একতলা সংস্কার করে ওপরে দোতলাও তৈরি করে। ঝাঁ চকচকে সেই ভবন তৈরির কাজ প্রায় দুবছর আগেই শেষ হয়ে গিয়েছে। কিন্তু তারপর থেকে ভবনটি তালাবন্ধ অবস্থাতেই পড়ে রয়েছে। দপ্তরে খোঁজ নিয়ে জানা গিয়েছে, পূর্ত দপ্তরের ইলেক্ট্রিক্যাল ডিভিশন সেখানে বিদ্যুৎ সংযোগের কাজ সম্পূর্ণ করবে। তারপর ভবনটি হস্তান্তর করা হবে। কিন্তু ভবন তৈরি সম্পূর্ণ হওয়ার প্রায় দুবছর হতে চললেও বিদ্যুৎ সংযোগের কাজ এখনও শেষ হয়নি। এর ফলে বাধ্য হয়ে দপ্তরের কর্মী-আধিকারিকদের এখনও অস্থায়ীভাবে সেই পশু হাসপাতালের দোতলাতেই অফিস চালিয়ে যেতে হচ্ছে।

- Advertisement -

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, অসুস্থ পশুদের থেকে বিভিন্ন জীবাণু ছড়ানোর সম্ভাবনা থাকে। তাছাড়া নীচতলা পশু হাসপাতাল হওয়ার কারণে পরিবেশও যথেষ্ট অস্বাস্থ্যকর এবং দুর্গন্ধও বের হয়। কিন্তু এসবের মাঝে আমাদের অফিসে ওঠানামা করতে হয়। জায়গার অভাবে অফিসের আলমারিগুলিকে দোতলার বারান্দার করিডরে রেখে দেওয়া হয়েছে। তবে শুধু উপ অধিকর্তার দপ্তরই নয়, ওই দপ্তরের ভেটেরিনারি অফিসারের কোয়ার্টারেরও একই অবস্থা। বিদ্যুৎ সংযোগ না হওয়ার কারণে সেটিও বন্ধ হয়ে পড়ে রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে পূর্ত দপ্তরের ইলেক্ট্রিক্যাল ডিভিশনের এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার অম্লান ভট্টাচার্য বলেন, আমাদের কাজ প্রায় শেষ হয়ে এসেছে। শীঘ্রই ভবনটি আমরা ওই দপ্তরের কাছে হ্যান্ডওভার করে দেব।