মালদা শহরের চাতরা বিলে গজিয়ে উঠছে বহুতল

44

জসিমুদ্দিন আহম্মদ, মালদা : মালদা শহরের জল নিকাশি ব্যবস্থা প্রধানত চাতরা তথা গোদরাইল জলাশয়ের ওপর নির্ভরশীল। তবে জমি মাফিয়াদের দাপটে গোদরাইল এখন নালায় পরিণত হয়েছে। জলাশয় ভরাট করে গড়ে উঠছে একাধিক বহুতল। অথচ এনিয়ে হেলদোল নেই পুরসভা কিংবা প্রশাসনিক কর্তাদের। তাহলে জল বের হবে কীভাবে, এই প্রশ্ন উঠছে শহরবাসীর মধ্যে। যদিও এপ্রসঙ্গে পুর প্রশাসক তথা সদর মহকুমা শাসকের বক্তব্য, জানি না কীভাবে পুরসভা থেকে এই সব বহুতলের প্ল্যান পাশ হয়েছে। সব বিষয়গুলিই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ইয়াসের প্রভাবে ভারী বৃষ্টিতে মালদা শহরের জল নিকাশি ব্যবস্থার কঙ্কালসার চিত্র ফুটে উঠেছিল। টানা চারদিন জলবন্দি ছিলেন শহরবাসী। দক্ষিণ ভারতে ইতিমধ্যেই মৌসুমি বাযু প্রবেশ করেছে। বাংলাতেও শুরু হতে চলেছে বর্ষার মরশুম। বর্ষার আগমনীবার্তা মালদা শহরবাসীর কাছে কোনও সময়ে খুব একটা সুখের নয়। আবার জলে ডুবতে হবেনা তো! এই আতঙ্ক কুরে কুরে গ্রাস করে চলেছে শহরবাসীকে।

- Advertisement -

বর্ষার আগে শহরের জল নিকাশি ব্যবস্থা সচল করে তোলা এখন বড় চ্যালেঞ্জ ইংরেজবাজার পুরসভার। আপাতত নাকা ড্রেন সহ শহরের সমস্ত বড় ড্রেনের আবর্জনা সাফাই করে নিকাশি ব্যবস্থা সচল করতে উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন পুর প্রশাসক তথা সদর মহকুমা শাসক সুরেশ চন্দ্র রানো। তিনি পুরসভার জল নিকাশি ব্যবস্থা সচল করে তুলতে পুর আধিকারিকদের নিয়ে ময়দানে নেমে পড়েছেন। প্রতিটি ওয়ার্ডের বিদায়ি কাউন্সিলারদের নিয়ে সমস্যা সমাধানে পরামর্শ নিচ্ছেন।

শনিবার শহরের ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে পুর আধিকারিকদের নিয়ে বিদায়ি কাউন্সিলার আশিস কুণ্ডুর সঙ্গে দেখা করতে আসেন পুর প্রশাসক। ওয়ার্ডের সাফাইকর্মীদের কাছ থেকে সাফাইয়ের নানা সমস্যা শোনেন তিনি। আশিস কুণ্ডু মূল নিকাশি নালা সাফাই সহ একাধিক ড্রেনকে বিজ্ঞানভিত্তিকভাবে গড়ে তোলার পরামর্শ দেন। শহরের ১২, ১১, ১০, ১৬, ১৮, ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের বুক চিরে যাওয়া বড় ড্রেনের বেহাল অবস্থার চিত্র সদরমহকুমা শাসককে ঘুরিয়ে দেখান। জরুরি ভিত্তিতে ড্রেন সাফাইয়ে নির্দেশ দেন সুরেশচন্দ্র রানো।