দুর্নীতি রুখতে শিলিগুড়িতে বিল্ডিং প্ল্যান পাশ অনলাইনে

364

ভাস্কর বাগচী, শিলিগুড়ি : শিলিগুড়িতে বিল্ডিং প্ল্যান নিয়ে দুর্নীতি রুখতে এবারে নয়া দাওয়াই। অফলাইন নয়, অনলাইনে প্ল্যান পাশ। এই নিয়ে ইতিমধ্যেই শিলিগুড়ি পুরনিগমের প্রশাসকমণ্ডলীর সভায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যেভাবে পুরনিগমে একের পর এক বিল্ডিং প্ল্যানে ইঞ্জিনিয়ারের ভুয়ো স্বাক্ষর, ভুয়ো সিল দিয়ে নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে, তাতে পুরনিগমের বিল্ডিং বিভাগ রীতিমতো বিব্রত। একশ্রেণির ইঞ্জিনিয়ার যেভাবে দিনের পর দিন চোখে ধুলো দিয়ে পুরনিগমের রাজস্ব ক্ষতি করেছে তাতে এবার থেকে বিল্ডিং প্ল্যান পাশের ক্ষেত্রে বিল্ডিং বিভাগের কর্মীদের আরও বেশি করে নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, আগের মতো আর অফলাইনে নয়, পুরোপুরিভাবে অনলাইনে বিল্ডিং প্ল্যান পাশের বন্দোবস্ত হয়েছে বলে পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

শিলিগুড়ি পুরনিগমের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের একটি বিল্ডিং প্ল্যান নিয়ে সমস্যা হওয়ার পর পুরো বিষয়টি প্রকাশ্যে এলেও অনেক ওয়ার্ডেই এই ধরনের ভুয়ো প্ল্যানে নির্মাণকাজ হয়েছে বলে অভিয়োগ। ভুয়ো বিল্ডিং প্ল্যান পাশ কাণ্ডে অভিযুক্ত রঞ্জিত দাসকে পুলিশ ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করেছে। এই ঘটনায় আরও কারা কারা জড়িত তা তদন্তকারীরা জানার চেষ্টা করছেন। ধৃত ব্যক্তি ছাড়াও এ ঘটনায় আরও অনেকেই জড়িত বলে ইতিমধ্যে শিলিগুড়ি ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড আর্কিটেক্ট অ্যাসোসিয়েশন দাবি জানিয়েছে। অন্যদিকে, এই দুর্নীতির জেরে পুরনিগম কোটি কোটি টাকা রাজস্ব ক্ষতির মুখে পড়েছে। পাশাপাশি, এই জালিয়াতির খবর প্রকাশ্যে আসার পর ফ্ল্যাট মালিকদের উদ্বেগ বেড়েছে। তাঁদের বিল্ডিং প্ল্যান সঠিক কি না তা ফ্ল্যাট মালিকরা পুরনিগমে এসে যাচাই করে নিচ্ছেন। বিল্ডিং প্ল্যান নিয়ে এই দুর্নীতির বিষয়টি উত্তরবঙ্গ সংবাদে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হওয়ার পর প্রশাসনও নড়েচড়ে বসে। ঘটনায় জড়িতদের শাস্তি সংক্রান্ত বিষয়ে পুরনিগমের প্রশাসকমণ্ডলীর চেয়ারপার্সন অশোক ভট্টাচার্যের সঙ্গে শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনার ত্রিপুরারি অথর্বের কথা  হয়েছে।

- Advertisement -

পুরনিগমের প্রশাসকমণ্ডলীর সদস্য তথা বিল্ডিং বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত মুন্সি নুরুল ইসলাম বলেন, অনলাইনে বিল্ডিং প্ল্যান পাশ মাঝখানে চালু হয়েছিল। কিন্তু কিছু সমস্যার কারণে মানুষের হয়রানি হচ্ছিল। তাই যে সমস্ত প্ল্যান বহুদিন ধরে পড়ে ছিল, সেগুলি অফলাইনে পাশ করা হবে বলে তখন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে এখন থেকে গোটা ব্যবস্থাটিই অনলাইনে করা হবে। নয়া ব্যবস্থায় কোনওভাবেই যাতে মানুষের সমস্যা না হয়, সেদিকে লক্ষ্য রাখা হবে বলে তিনি জানান। অশোকবাবু বলেন, বিল্ডিং প্ল্যান সংক্রান্ত বিষয়ে পুলিশ ইতিমধ্যেই তদন্ত করছে। আমরা চাই সংশ্লিষ্ট প্রোমোটারের পাশাপাশি পুলিশ যেন ওই বাড়ির মালিককেও প্রয়োজনীয় জিজ্ঞাসাবাদ করে। তাহলে এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা স্পষ্ট হবে।